• ১৪ মার্চ ২০২০ ১৮:২৩:০৩
  • ১৪ মার্চ ২০২০ ১৮:২৩:০৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘কারাদণ্ড দেয়ার আগে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়া হয় আরিফুলের’

আরিফুল ইসলাম ও পারভীন সুলতানা। ফাইল ছবি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে মধ্যরাতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পারভীন সুলতানার পাঠানো মোবাইল কোর্ট তুলে নিয়ে গিয়ে ডিসি অফিসে চোখ বেঁধে উলঙ্গ করে পেটানো হয়। আর পুরো ঘটনার ভিডিও করা হয়। আর এসব ঘটনার নেতৃত্ব দিয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আরডিসি (সিনিয়র সহকারী কমিশনার-রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন। এমনটাই অভিযোগ করেন আরিফুলের স্ত্রী মোস্তারিমা সরদার নিতু।

১৪ মার্চ, শনিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম কারাগারে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের সঙ্গে তার স্ত্রী দেখা করতে গেলে তিনি এসব তথ্য জানান। আরিফুল ইসলাম স্ত্রীকে জানান, মধ্যরাতে তাকে বাসা থেকে জোর করে তুলে আনার পথে জেলা প্রশাসক কার্যালয় পর্যন্ত লাথি-থাপ্পড়, ঘুষি মারতে মারতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে প্রথমে তার দুই চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর প্যান্ট ও গেঞ্জি খুলে তাকে উলঙ্গ করে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। এসব দৃশ্য ভিডিও করা হয় বলে জানিয়েছেন আরিফুল। তিনি আরো জানান, যারা তাকে নির্যাতন করেছে, তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা। তাদের দেখতে না পারলেও তাদের সবার গলার স্বর তার মনে আছে।

আরিফুল ইসলামের স্ত্রী নিতু বলেন, “আরডিসি নাজিম উদ্দিন আমাকে বলেন, মীমাংসায় আসেন, আপনারা জলে বাস করে কুমিরের সাথে লড়াই করা ঠিক হবে না, আর কোনো সাংবাদিককে বক্তব্য দিবেন না, যতবেশি খোঁচাবেন, ততবেশি খারাপ হবে।”

আরিফুলের স্ত্রী আরো বলেন, “আরডিসি নাজিম আমাকে বলেন- আপনি জানেন আপনার স্বামীর চরিত্র কত খারাপ, অন্য মেয়ের সাথে সেক্সসুয়াল সম্পর্ক আছে। তিনি নিয়মিত কলেজ যান না। কোথায় যান, আপনি খবর রাখেন? বলেই তিনি ভিডিও আছে দাবি করে আমাকে দেখাতে চান। আমি এর প্রমাণ দাবি করলে তিনি তড়িঘড়ি করে চেয়ার থেকে উঠে চলে যান।”

আরডিসি নাজিম উদ্দিন অভিযানে থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি গতরাতে ওয়ার্ক স্টেশনে ছিলাম না।’

নিতু আরো বলেন, “আমার স্বামীর সাথে দেখা করেছি। ডিসি অফিসের ভিতরে তাকে আটক রেখে সাদা কাগজে দুইবার স্বাক্ষর নিয়েছে। এরপর মদ ও গাঁজা দিয়ে এক বছরের সাজা দিয়েছে।”

এদিকে এই ঘটনায় কুড়িগ্রামের আওয়ামী লীগ, সাংবাদিক, শিক্ষক, উন্নয়ন কর্মী সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্বর এলাকায় মানববন্ধন করে সর্বস্তরের সাংবাদিকগণ। মানববন্ধনে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের মুক্তি দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৩ মার্চ) মধ্যরাতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট। মধ্যরাতে ডিসি অফিসের দুই-তিন জন ম্যাজিস্ট্রেট ১৫-১৬ জন আনসার সদস্যকে নিয়ে দরজা ভেঙে তার বাসায় প্রবেশ করেন। তবে তারা কোনো তল্লাশি অভিযান চালাননি। পরে ডিসি অফিসে নেয়ার পর তারা দাবি করেন, আরিফুলের বাসায় আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন একটি পুকুর সংস্কার করে নিজের নামে নামকরণ করতে চেয়েছিলেন। আরিফুল এ বিষয়ে নিউজ করার পর থেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ডিসি। এছাড়া, সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে রিপোর্ট করতে চেয়েছিলেন সাংবাদিক আরিফ। এ বিষয়ে জানতে পেরে জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে তাকে বেশ কয়েকবার ডেকে নিয়ে সতর্ক করা হয়।

তবে এ বিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0192 seconds.