• ১৫ মার্চ ২০২০ ১৭:৫১:০৩
  • ১৫ মার্চ ২০২০ ১৭:৫১:০৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

টু হুম ইট মে কনসার্ন

ছবি : সংগৃহীত


রকিবুল শিপন : 


আমরা জানি আপনাদের ছেল-মেয়েরা বিদেশি স্কুলে নয়তো বিদেশে লেখা-পড়ে। সেখানে হয়তো সব ধরনের স্বাস্থ্য বিধি মেইনটেইন করা হয়। আপনারাও তাদের নিরাপত্তায়, আরাম-আয়েশের জন্য সর্বোচ্চটাই করার চেষ্টা করেন নিশ্চয়ই।

করোনার কারণে ইতোমধ্যে বহু দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সব প্রতিষ্ঠানে হয়তো আপনাদের সন্তানরাও আছে। বন্ধের পর তারা হয়তো নিরাপদেই আছে। তবু এই দুর্দিনে অভিভাবক হিসেবে আপনাদের দুশ্চিন্তাটা আমরা আঁচ করতে পারি। কারণ, আপনাদের সন্তানের বয়সী ছেলে-মেয়ে আমাদেরও আছে।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো আমরা আপনাদের যাতনা বুঝতে পারলেও আমাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আপনারা আমলেই নিচ্ছেন না। দুনিয়ার উন্নত দেশগুলো যখন আগাম সতর্কতা হিসেবে একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিচ্ছে, তখনো আপনারা 'দেখি না কি হয়' নীতির মধ্যেই আছেন।

এমনকি পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা বন্ধ করে দিয়েছে। দিল্লিতে তো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সিনেমা হলও বন্ধ। পাকিস্তানের কথা না হয় বাদই দিলাম।

আপনারা কি জানেন- করোনার এই সময়ে সন্তানদের নিয়ে প্রতিটা দিন আমাদের কতটা উদ্বেগের মধ্যে দিয়ে পার করতে হচ্ছে?
বাংলাদেশে একেকটা গড় পড়তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের কি পরিমাণ চাপ, সে বিষয়ে নিশ্চয়ই আপনারা জানেন। বসতে হয় গাদাগাদি করে, খেলার মাঠ নেই অনেক জায়গায়, বাধ্য হয়ে এক জায়গাতেই হৈ হুল্লোড় চলে। যাতায়াত করতে হয় গণপরিবহনে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা তো আরো করুণ। ক্যাম্পাসের কথা বাদই দিলাম, হলের একেকটা গণরুমে বাচ্চাদের যে কি কষ্ট, সেটা নিজে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।

তো এই অবস্থায় করোনা ঠেকাতে যে সব স্বাস্থ্য বিধির কথা বলা হচ্ছে বিভিন্ন তরফে তা মানার পরিবেশ-পরিস্থিতি বা সক্ষমতা আদৌ এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আছে কি?

দেশ তো ডিজিটাল হয়েছে। চাইলে তো দুর্যোগের দিনগুলোতে অনলাইনেই শিক্ষা কার্যক্রম চালানো যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে না হয় রমজান মাসেও স্কুল-কলেজ চালু রাখা যাবে।

উদ্বিগ্ন অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। বুয়েটের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগের শিক্ষার্থীরাও দেখলাম ক্লাস বর্জনের ডাক দিয়েছে।

আপনারা জানেন- আমরা আমাদের সন্তানদের কিছুই দিতে পারিনি। তাদের জন্য নির্মল বায়ুর শহর নিশ্চিত করতে পারিনি, ভেজালমুক্ত খাবারের ব্যবস্থা করতে পারিনি। আরামদায়ক ও নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নেই, পড়া শেষে চাকরির নিশ্চয়তা নেই।

যদিও সব কিছু আমরা মানিয়ে নিয়েছি। কিন্তু কতটা উদ্বেগ নিয়ে চলতে পারে মানুষ!
কাজেই এই দুর্দিনে আমরা চাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হোক। আমাদের সন্তানরা আমাদের চোখের সামনে থাকুক।

প্লিজ, ওয়েক আপ বিফোর ইটস টু লেইট

নিবেদক
একজন অবহেলিত ট্যাক্স পেয়ার

 

(লেখাটি লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া হয়েছে)

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0210 seconds.