• ১৭ মার্চ ২০২০ ১২:১৯:০৩
  • ১৭ মার্চ ২০২০ ১২:১৯:০৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

এদিন থেমেছিল ‘ভাওয়াইয়া রাজা’র কণ্ঠ

ফাইল ছবি


সুশ্ময় মুকুট



নিশ্চিত মৃত্যুর এ ভূবনে কিছু কিছু মৃত্যু বড় বেশি নাড়া দিয়ে যায় হৃদয়ে। হারানোর বেদনা কষ্ট দেয় সারাক্ষণ। এক-এক করে একদিন আমরা সবাই চলে যাবো এ পৃথিবী ছেড়ে। কিন্তু ভাওয়াইয়া অঙ্গনের এই কিংবদন্তীর চলে যাওয়াটা বড্ড বেশি তাড়াতাড়ি হয়ে গেলো। তিনি নিজেই ছিলেন নিজের উদাহরণ। দেশ এবং দেশের বাইরে ভাওয়াইয়া গানকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন ক্ষণজন্মা ভাওয়াইয়ার এই রাজকুমার। তিনি আমাদের সফিউল আলম রাজা। গান দিয়ে শুরু এবং গান দিয়েই শেষ হয়েছে তার জীবনের সমাপ্তি।

গতবছরের ১৭ মার্চ না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ৮ জুলাই ১৯৭৪ সালে জন্ম নেয়া এই গুণী শিল্পী। আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। তার পরিবার ও ভাওয়াইয়া গানের দল এবং কলতান সাংস্কৃতিক একাডেমী এ উপলক্ষে নিয়েছে নানা আয়োজন।

কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় জন্ম নেওয়া শফিউল আলম রাজা শ্রোতা-দর্শকের কাছে ‘ভাওয়াইয়া রাজা’, ‘ভাওয়াইয়া রাজকুমার’ ও ‘ভাওয়াইয়ার ফেরিওয়ালা’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন।

সফিউল আলম রাজা বাংলাদেশ বেতারের ‘বিশেষ’ ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘প্রথম’ শ্রেণীর শিল্পী ছিলেন। এছাড়াও তিনি দেশের সব ক’টি চ্যানেলে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করতেন। সংগীত পরিবেশন করেছেন বিদেশি বিভিন্ন মঞ্চ এবং মিডিয়াতেও (এরমধ্যে কলকাতার তারা মিউজিক এবং কলকাতা টিভি উল্লেখযোগ্য)।

লোক সঙ্গীতের অন্যতম ধারা ভাওয়াইয়া গানের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে শিল্পী রাজা ২০০৮ সালে রাজধানীতে ‘ভাওয়াইয়া’ গানের দল প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও ২০১১ সালে রাজধানীতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ভাওয়াইয়া স্কুল’। যে স্কুলে ভাওয়াইয়ার ওপর এক বছরের ফ্রি সার্টিফিকেট কোর্স করানো হয়।

২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি সংস্কৃতির সকল শাখা নিয়ে রাজধানীর পল্লবীতে ‘কলতান সাংস্কৃতিক একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেন এই শিল্পী। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘উত্তরের সুর’-এ চারটি মৌলিক ভাওয়াইয়া গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। 

শিল্পী জীবনে স্বীকৃতিস্বরূপ সফিউল আলম রাজা বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত বেঙ্গল বিকাশ প্রতিভা অন্বেষণে লোকসঙ্গীত বিভাগে (ভাওয়াইয়া নিয়ে) ২০০৬ সালে শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজধানীতে তার ৬ টি একক সঙ্গীতানুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে দুইটি, আড়িয়াল সেন্টারের উদ্যোগে একটি, আঁলিয়স ফ্রঁসেজের উদ্যোগে একটি, গুরুর চিকিৎসা সহায়তায় ‘ভাওয়াইয়া’ গানের দল-এর আয়োজনে একটি এবং ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের আয়োজনে তার একটি একক সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে রাজার একটি মিক্সড অ্যালবাম এবং ভায়োলিন মিডিয়া থেকে ২০১১ সালে প্রকাশিত হয়েছে একক ভাওয়াইয়া অ্যালবাম ‘কবর দেখিয়া যান’। সংগীত নিয়ে সফর করেছেন অস্ট্রেলিয়া-ভারতসহ বিভিন্ন দেশে। তিনি সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন রিয়েলিটি শোতে ‘বিচারক’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিল্পী সফিউল আলম রাজা পেশায় একজন সাংবাদিক ছিলেন। দীর্ঘ ২৪ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে দৈনিক যুগান্তর’র সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবেই ছিলেন ১৪ বছরের বেশি সময়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি প্রিয়.কম-এর চিফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পেশাগত জীবনেও তিনি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। সাংবাদিকতায় তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরস্কার, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার, ডেমোক্রেসি ওয়াচ হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ড, ইউনেস্কো ক্লাব এসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ড, ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ডসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

বাংলা/এসএ

 

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0210 seconds.