• বাংলা ডেস্ক
  • ২০ মার্চ ২০২০ ১৫:৩২:৩৯
  • ২০ মার্চ ২০২০ ১৫:৩২:৩৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনায় বেশি ঝুঁকিতে বস্তিবাসীরা

ছবি : সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে দেশের বস্তিবাসীরা। ছোট আয়তনের টিন ও বাঁশের তৈরি ঘরে তিন থেকে পাঁচজন বাস করেন এই বস্তিবাসীরা। করোনা ঠেকাতে হোম কোয়ারেন্টিনসহ নানা পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে এর অনেক কিছুই তাদের মেনে চলা সম্ভব নয়।

পরিবহন, বাসাবাড়ি বা দিনমজুরের কাজ করা সীমিত আয়ের এসব মানুষকে জীবন-জীবিকার কারণেই বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংস্পর্শে আসতে হচ্ছে। এ কারণে করোনায় সংক্রমিত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন তারাই। বণিক বার্তা’র এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ বস্তিশুমারি ও ভাসমান লোকগণনা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বস্তির সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৩৫। বস্তিবাসী ও ভাসমান খানা রয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬১টি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৫৬টি। পৌরসভা এলাকায় আছে ১ লাখ ৩০ হাজার ১৪৫টি। ৩২ হাজার ৯৬০টি রয়েছে অন্যান্য শহর এলাকায়।

বিবিএস’র পরিসংখ্যানে আরো বলা হয়, বস্তিবাসী ও ভাসমান খানাগুলোর গড় সদস্য সংখ্যা ৩ দশমিক ৭৫ জন করে। এসব বস্তির বাসিন্দা ও ভাসমান মানুষগুলোর অনেকেরই করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। তবে এ নিয়ে তাদের মাঝে যথেষ্ঠ আতঙ্ক রয়েছে। কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে তারা সেটাও জানেন না। এছাড়া উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে হাতুড়ে ও প্রতারকদের ধোঁকায় পড়ার ঝুঁকিও তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।  

যেখানে ছোট আয়তনের ঘিঞ্জি ঘরগুলোয় গাদাগাদি করে বসবাস করছে কয়েকজন মানুষ, সেখানে হোম কোয়ারেন্টিনের কথা অর্থহীন। ফলে এসব বস্তি এলাকায় কেউ আক্রান্ত হলে নিঃসন্দেহেই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়বে করোনা। আর করোনার প্রভাবে অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের মাত্রা বাড়লে এর প্রথম শিকারও হবে তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, সাধারণ মানুষের চেয়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বস্তিবাসী ও ছিন্নমূল মানুষেরা। যদিও এটার জন্য তারা কোনোভাবেই দায়ী নয়। এ অবস্থায় আগে থেকেই তাদের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো আরো শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন ছিল। সুরক্ষা উপকরণগুলো আরো দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে। আবার বিদেশফেরতরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। দরিদ্র মানুষগুলোকে তাদের সংস্পর্শে আসাটা রোধ করতে হবে। বিদেশফেরতরা হোম কোয়ারেন্টিন ঠিকমতো না মানায় এখন উদ্বেগের অনেক কারণ। এটা যদি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষও ভালো থাকতে পারবে। শুধু ছিন্নমূল নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে নজরদারি আরো বাড়াতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বস্তিবাসী ও ভাসমান মানুষদের এসব ঝুঁকি সিটি করপোরেশনগুলোর চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে। কারণ দেশের বস্তি ও ভাসমান স্থাপনাগুলোর মধ্যে ৯ হাজার ১১৩টি বা প্রায় ৬৫ দশমিক ৪০ শতাংশ রয়েছে সিটি করপোরেশন এলাকায়। এসব বস্তিবাসীর করোনা সংক্রমণ শনাক্ত করা এ মুহূর্তে বেশ মুশকিল। এছাড়া দেশে করোনা শনাক্ত করণ কিটের সংখ্যাও অপ্রতুল। সব মিলিয়ে বস্তিবাসীদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি বেশ বিপজ্জনক।

তারা আরো জানান, বস্তি ও ভাসমান এলাকায় বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে করোনা সচেতনতা বাড়াতে আলাদাভাবেই পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ স্বল্প আয় ও এক ব্যক্তির আয়ের ওপর পরিবারের নির্ভরশীলতা বেশি হওয়ায় এমন কেউ আক্রান্ত হলেও সেটা সহজে স্বীকার করতে চাইবে না। এক্ষেত্রে যেকোনো উপায়ে কোয়ারেন্টিন করা সম্ভব হলেও পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবিকা বন্ধের উপক্রম হবে।

সামষ্টিকভাবেই এ সংকট মোকাবেলা করতে হবে উল্লেখ করে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ বলেন, একদিকে আর্থিক অসংগতি, অন্যদিকে বসতবাড়িতে আবাসন সংকট— এ দুটোর প্রভাবে বস্তিবাসীরা উচ্চ ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে। তবে শুধু সতর্কতামূলক কার্যক্রমে কতটুকু কাজ হবে, সে বিষয়ে আমি বেশ সন্দিহান। তাই এ শ্রেণীর মানুষকে সচেতন করতে হলে সবার আগে কমিউনিটিভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, একটা নির্দিষ্ট সীমার পর বল প্রয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্র্যাক এরই মধ্যে রাজধানীর ৩০০টি বস্তিতে কার্যক্রম শুরু করেছে। তাদের যেমন সচেতন করছে, তেমনি আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নিম্ন আয়ের কারণে নানা ধরনের অসুখ ও পুষ্টিহীনতার নানা চিত্র রয়েছে বস্তিবাসীদের মধ্যে। আবার শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতিও বেশ খারাপ। ফলে করোনার প্রভাব নতুন করে তাদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0243 seconds.