• বিদেশ ডেস্ক
  • ২২ মার্চ ২০২০ ১২:০২:৪৫
  • ২২ মার্চ ২০২০ ১২:০২:৪৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনার লাগাম কি টেনে ধরেছেন পুতিন?

ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারিতে ইউরোপ যখন টালমাটাল, তখন চীনের প্রতিবেশি রাষ্ট্র হয়েও এ ভাইরাসের লাগাম টেনে ধরেছে রাশিয়া। এই বিস্ময়ের পেছনে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভুমিকার কথাই নানাভাবে সামনে আসছে। রুশ প্রেসিডেন্টের কথা শুনলে অবশ্য তেমনটাই মনে হয়।

রুশ কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যও এ ধরনেরই আশ্বাস দিচ্ছে। পরিস্থিতি নাকি ‘নিয়ন্ত্রণে’ আছে। সংবাদমাধ্যম সিএনএন’র প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে।

সারাবিশ্বে প্রতি মুহূর্তেই করোনায় মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে এ ভাইরাসে আক্রান্তের হারও। বিশ্বের বিজ্ঞানীরা দিনরাত চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এমন কথা শোনালেও, তা কার্যকর হতে আরো অনেক সময় লাগবে।

এমতাবস্থায় এ সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লামিদির পুতিন জানান, করোনার বিস্তার ঠেকাতে পেরেছে আমাদের দেশ। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।

রাশিয়া সরকারের বক্তব্য মতে, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে পুতিনের কৌশল কাজে দিয়েছে। চীনের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকা এই দেশে জানুয়ারিতে প্রথম ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিলেও বিস্ময়করভাবেই আক্রান্তের সংখ্যা এখন একেবারেই কম।

প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি জনসংখ্যার দেশ রাশিয়ায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২৫৩। সেখানে ৬ লাখ ২৮ হাজার মানুষের দেশ লুক্সেমবার্গে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭০।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হয় রাশিয়া। ৩০ জানুয়ারি চীনের সঙ্গে ২৬০০ মাইলের সীমান্ত বন্ধ করে দেয় রাশিয়া। দেরি না করে সেই মুহূর্তে কোয়ারেন্টাইন জোন বায়ান পুতিনের সরকার। রাশিয়ার এই কৌশল করোনার প্রকোপ ঠেকাতে কাজে দিয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশটিতে নিযুক্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ড. মেলিতা ভোজনোভিস জানান, সংস্থার পরিচালক বার বার বলেন-পরীক্ষা, পরীক্ষা, পরীক্ষা। আক্ষরিক অর্থে এই পরীক্ষাই জানুয়ারির শেষে শুরু করে রাশিয়া। একই সঙ্গে সীমান্ত বন্ধে পদক্ষেপ নেয় তারা।

তিনি আরো জানান, পরীক্ষা এবং করোনায় আক্রান্তদের শনাক্ত, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখার কথা বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এটিই করেছে রাশিয়া।

সামাজি দূরত্ব, একজন থেকে আরেকজনের দূরে রাখার পদ্ধতিটি এই সংকোট মোকাবিলায় কার্যকরী ভূমিকা রাখে। অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় খুব দ্রুত গতিতে করোনার পরীক্ষা চালায় রাশিয়া। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে থেকেই ব্যাপকমাত্রায় এই কার্যক্রম চালু করে দেশটি।

বিমানবন্দরে বিশেষ করে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দেয় রাশিয়া। তবে সমস্যা দেখা দেয় ইতালি থেকে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে। এই দেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের ওপর গুরুত্ব না দেয়ার কারণে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে নেয়া সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

অবশ্য দেশটির ভেতরেই পুতিন সরকারের দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আক্রান্ত ও মৃতের তথ্যের সত্যতা নিয়ে কথা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

প্রসঙ্গত, গত বছর ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনাভাইসার ধরা পড়ে। এরপর তা ছড়িয়ে পড়েছে সারাবিশ্বে। প্রথম দিকে দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়লেও বর্তমানে তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ইউরোপের দেশগুলোতে প্রকোপ দেখাতে শুরু করেছে করোনাভাইরাস। এর মধ্যে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ইতালিতে। ২১ মার্চ, শনিবার দেশটিতে এ ভাইরাসে মারা গেছে ৭৯৩ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮২৫ জনে এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৫৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে করোনাভাইরাসে সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৮৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0230 seconds.