• বিদেশ ডেস্ক
  • ২২ মার্চ ২০২০ ২৩:০০:২৪
  • ২৩ মার্চ ২০২০ ০১:৪০:০৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনা আক্রান্তদের এক তৃতীয়াংশই লক্ষণহীন: চীনের গোপন নথি

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রকোপ। এই ভাইরাসে প্রথম আক্রান্ত হয় চীনের উহান প্রদেশ। চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের এক তৃতীয়াংশই ছিলো লক্ষণহীন। তাদের শরীরে করোনায় আক্রান্তের লক্ষণ ছিল না কিংবা অনেক দেরিতে প্রকাশ পেয়েছিল। চীনা সরকারের একটি গোপন নথিকে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

ফেব্রুয়ারির শেষ ভাগে চীনে ৪৩ হাজার মানুষ কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত হয়। তাদের কারো মধ্যে শুরুতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের কোনো লক্ষণ ছিল না। তবে তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। কিন্তু নিশ্চিত আক্রান্ত বলে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ওই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার।

লক্ষণ ছাড়া করোনাভাইরাস কতটা সংক্রামক, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা একমত হতে পারেননি। একজন রোগীর শরীরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় সাধারণত পাঁচ দিনের মাথায়। যদিও এই লক্ষণ তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সুপ্ত থাকে।

এখানে একটা বিষয় হলো, একেক দেশ একেকভাবে করোনায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার হিসাব করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরীক্ষা করে দেখার পর যাদের ফল পজিটিভ আসছে তাদেরই আক্রান্ত বলে ধরে নিচ্ছে। তাদের শরীরে করোনার লক্ষণ প্রকাশ পাক বা না পাক। কিন্তু চীনা সরকার ৭ ফেব্রুয়ারির করোনাভাইরাস নিয়ে দেশটির যে নির্দেশনা, তাতে কিছু পরিবর্তন এনেছে।

চীনে গত ফেব্রুয়ারিতে ৪৩ হাজার জনের মধ্যে কতজন নীরব বাহক ছিলেন এবং তাদের কতজনের মধ্যে পরে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়, তা এখনো পরিষ্কার নয়। সরকার গত শনিবার পর্যন্ত যে ৮১ হাজার ৫৪ জনের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছিল, এই ৪৩ হাজার তাদের বাইরে। কিন্তু মার্চের প্রথম সপ্তাহে রোগীর সংখ্যা কমে যায় অনেক। এর অর্থ ওই ৪৩ হাজারের শরীরে আর রোগ লক্ষণ প্রকাশই পায়নি। অর্থাৎ তারা ভাইরাসটি বহন করলেও অসুস্থতার কোনো লক্ষণ ছিল না।

কোরিয়ায় এই মুহূর্তে লক্ষণ ছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিডিসির পরিচালক জিয়ং ইউন কাইওং।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিবেদন বলছে, ইতালিতে লক্ষণ প্রকাশ পায়নি, এমন রোগীর সংখ্যা মোট আক্রান্তের ৪৪ শতাংশ।

চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও হংকং নিউমোনিয়ার যে কেসগুলো এসেছিল ২৩ জানুয়ারি উহান লকডাউন হওয়ার আগে, এই কেসগুলোই ছিল সংক্রমণের উৎস। এর হার ছিল ৭৯ শতাংশ। এই রোগীদের মধ্যে করোনাভাইরাসের খুবই মৃদু বা কোনো লক্ষণই ছিল না।

অস্টিনে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের গবেষণা বলছে যাদের শরীরে কখনো কোনো লক্ষণই দেখা যায়নি, তারা চীনের ৯৩টি শহরের ৪৫০ কেসের ১০ শতাংশের জন্য দায়ী। ইমার্জিং ইনফেকশাস ডিজিজেস নামে জার্নালে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি ছাপা হওয়ার অপেক্ষায় আছে।

ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ইনফেকশাস ডিজিজ প্রকাশনায় গবেষক নিশিউরা লিখেছেন, ‘লক্ষণ নেই, এমন রোগীদের মধ্যে বড়দের চেয়ে শিশুদের সংখ্যাই বেশি।’

সংশ্লিষ্ট বিষয়

করোনাভাইরাস চীন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0205 seconds.