• বিদেশ ডেস্ক
  • ২৩ মার্চ ২০২০ ১২:০২:৩৫
  • ২৩ মার্চ ২০২০ ১২:০২:৩৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

যে কারণে করোনায় জার্মানিতে মৃত্যুর হার কম

ছবি : সংগৃহীত

চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা সাড়ে ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে। ইতোমধ্যে মৃতের সংখ্যা চীনকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে ইউরোপের দেশ ইতালি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৭৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। অথচ এর পাশের দেশ জার্মানিতেই এখন পর্যন্ত মাত্র ৮৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য মতে, ইতালিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৯ হাজার ১৩৮ জন। যাদের ৫ হাজার ৪৭৬ জন মারা গেছেন। দেশটিতে মৃত্যুর হার ৯%। অপরদিকে জার্মানিতে মোট আক্রান্ত সংখ্যা ২২ হাজার ৩৬৪ জন, যাদের মধ্যে মাত্র ৮৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। দেশটিতে মৃত্যুর হার মাত্র ০.৩%। একই সাথে ইউরোপের অপর দেশ যুক্তরাজ্যের মৃত্যুর হার ৪.৬ শতাংশ।

মৃত্যুহারের এই বিরাট ব্যবধানে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতালি ও জার্মানিতে ৬৫ বা তার চেয়ে বেশি বয়স্ক নাগরিকের সংখ্যা বেশি। তাহলে ইতালির তুলনায় জার্মানির মৃত্যুহার এতো কম কেন?

ব্লুমবার্গ গ্লোবাল হেল্থ ইনডেক্সের তথ্য মতে, জার্মানদের চেয়ে ইতালিয়ানদের লাইফস্টাইলও স্বাস্থ্যকর। এরপরও ইতালির মৃত্যুহার জার্মানির চেয়ে এতো বেশি কেন? তারা কি এমন ভুল করেছে যার কারণে এতো মৃত্যুহার? নাকি জার্মানি এমন কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, যার কারণে তাদের মৃত্যুর হার এতো কম? হ্যাঁ, জার্মানরা যেটা করেছে- তা হলো প্রচুর টেস্ট করেছে। প্রচুর টেস্টই এই প্রার্থক্য গড়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। 

দেশটির হামবুর্গ ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের ইকফেকশোলজি বিভাগের প্রধান ম্যারিলিন অ্যাডো এ বিষয়ে বলেছেন, ‘আসলেই জার্মানি অন্যান্য দেশের তুলনায় এই মহামারি মোকাবিলায় চিকিৎসার দিক দিয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি প্রস্তুতি নিয়েছে কি-না, তা বলার সময় এখনো হয়নি।’

ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় শহরের হাসপাতালগুলো যেমন রোগীতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ, জার্মানিতে এখনো সেই অবস্থা সৃষ্টি হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো হাসপাতালের বেড পরিষ্কার করার যথেষ্ট সময় পাচ্ছি। চিকিৎসা-সামগ্রী মজুত করা হচ্ছে এবং ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জমাদি বিতরণ করছি।’

এই জার্মান বিশেষজ্ঞের মতে, তবে জার্মানি একদিক দিয়ে একটা সুবিধা পেয়েছে, তা হলো-প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর তারা প্রফেশনাল কনটাক্ট ট্র্যাসিং শুরু করে।

তিনি বলেন, ‘আসন্ন ঝড় আসার আগেই আমরা ক্লিনিকগুলো প্রস্তুতি করার সময় পেয়েছি।’

দ্বিতীয় যে বিষয়টির উল্লেখ করেন তিনি, তা হলো-স্বাস্থ্য পরীক্ষা। প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ব্যাপকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা অভিযান চালায় জার্মানি। এমনকি করোনার ছোটখাট লক্ষণ প্রকাশ পেলেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেশটি। যার ফলই পাচ্ছেন তারা।

জার্মানির ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্ট্যাটিউটরি হেলথ ইনস্যুরেন্স ফিসিশিয়ান্সের তথ্য বলছে, জার্মানিতে যে পরিমাণ টেস্ট কিট রয়েছে তা দিয়ে প্রতিদিনে কমপক্ষে ১২ হাজার জনের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা সম্ভব। 
আরকেআইয়ের বিশেষজ্ঞ ওয়েলারের তথ্য মতে, সপ্তাহে এক লাখ ৬০ হাজার টেস্ট করার সক্ষমতা রয়েছে জার্মানির।

দক্ষিণ কোরিয়া তাদের নাগরিকদের যেভাবে কোভিড-১৯ টেস্ট করিয়েছে, সেই হারে জার্মানি টেস্ট করেনি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আক্রান্ত রোগী ও ‘উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ আক্রান্ত (যেমন ইতালির লম্বার্ডি বা চীনের উহান)’ এলাকা থেকে সম্প্রতি ফেরা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। 

এসব কারণেই বয়স্ক জনসংখ্যায় সমান সমান হলেও প্রতিবেশী ইতালির তুলনায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কম হারে মানুষের মৃত্যু হয়েছে জার্মানিতে।

সূত্র : দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও দ্য গার্ডিয়ান

বাংলা/এসএ

 

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0208 seconds.