• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৩ মার্চ ২০২০ ১৩:০৫:৩২
  • ২৩ মার্চ ২০২০ ১৩:০৫:৩২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

থানায় ডেকে নিয়ে বাদীকেই আসামি করে মামলা

ছবি : সংগৃহীত

থানায় ডেকে সন্ত্রাসী হামলায় আহত হওয়া বাদীকেই সাজানো মামলার আসামি বানানোর অভিযোগ উঠেছে পল্লবী থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। ২২ মার্চ, রবিবার ভোর ৪টার দিকে পরিস্থান পরিবহনের চেয়ারম্যান শেখ শিরিন শান্তির বিরুদ্ধে এ মামলা দেয়া হয়। ভুক্তভোগীর স্বামী ওয়াজউদ্দিন এমন অভিযোগ করেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য শিরিন শান্তি। রবিবার শিরিনকে আদালতে তোলা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে ওয়াজউদ্দিন জানান, একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। তারা চুরি, ছিনতাইসহ নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। শিরিন এসবের প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল সন্ত্রাসীরা। এরপর গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শান্তির কর্মচারী শামীম বাসায় আসার সময় তুচ্ছ ঘটনায় গালমন্দ করে স্থানীয় সন্ত্রাসী শফি। একপর্যায়ে সবুজ নামে আরেকজন এসে শামীমকে মারধর করে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি দৌড়ে শান্তির বাসায় আশ্রয় নেন।

তিনি আরো জানান, এ সময় ওই দুজন ছাড়াও আসামি ফয়সাল সোহেলসহ অচেনা আরো তিন থেকে চারজন বাসায় ঢুকে শামীমকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে ওয়াজউদ্দিন তার ছেলে সৈকত ও মেয়ে মুক্তা বাধা দিলে তাদেরও মারধর করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় বাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করে তারা। পরে আহতদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা আসলে তারা পালিয়ে যায়।

ওয়াজউদ্দিন আরো জানান, এ খবর পেয়ে শিরিন বাসায় এসে ছেলে সৈকতকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় গত শুক্রবার চারজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন শিরিন। এরপর থেকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয় আসামিরা। কিন্তু গত শনিবার পর্যন্ত আসামিদের গ্রেপ্তার না করে পুলিশ উল্টো সমঝোতার কথা বলে থানায় ডেকে নিয়ে শিরিনকেই হয়রানি করা হয়।

ওয়াজউদ্দিন আরো বলেন, ‘শনিবার দুপুরে পল্লবী থানার পুলিশ শিরিনকে ফোন করে মামলা তুলে নিয়ে আসামিদের সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব দেয় এবং থানায় ডেকে পাঠায়। এটির কল রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে। থানায় গিয়ে আমার স্ত্রী পুলিশের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় উল্টো তাকেই মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসিয়ে রাখা হয়। দেনদরবারের পর গভীর রাতে শিরিন শান্তিকে প্রধান আসামি করা ছাড়াও আহতদেরই হত্যাচেষ্টার মামলায় জড়ায় পুলিশ।’ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি করেন ওয়াজউদ্দিন।

তবে ওয়াজউদ্দিনের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেন পল্লবী থানার এসআই মো. আবদুর রহিম। তিনি এই দুই মামলারই তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে এসআই আবদুর রহিম বলেন, ‘শিরিন শান্তি যে মামলা করেছেন সেটির আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে সেটিতেই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পর ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।’

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

মামলা পল্লবী থানা

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.1568 seconds.