• ২৪ মার্চ ২০২০ ১৪:৫২:২৪
  • ২৪ মার্চ ২০২০ ১৬:০৩:১৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

যা করতে হবে দ্রুত, সময় চলে যাচ্ছে

ছবি : সংগৃহীত


কাকন রেজা :


দেশের সব ট্রেন বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। মুশকিলটা হলো, ছুটি ঘোষণার পর যখন ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। সরকারি ভাষ্যমতে ঢাকাতেই কোভিড নাইনটিন আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। সুতরাং ঢাকা থেকে ছুটির পর মানুষ সারাদেশে ছুটবে এটাই ছিলো স্বাভাবিক। ছুটি ঘোষণার পর ট্রেন বন্ধ করা বা গণপরিবহন বন্ধের চিন্তা এ অবস্থায় কতটা প্রাপ্তবয়স্ক, সেটা বুঝে উঠতে পারছি না। 

আরো বুঝে উঠতে পারছি না, নেপালে যেখানে দুই জন আক্রান্তের পরই লকডাউন করা হলো, তখন আমাদের ক্ষেত্রে এখনো এ নিয়ে দ্বিধা কেন! সাদুল্যাপুর নামে উপজেলাটির নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা লকডাউনের ঘোষণার পর জেলা প্রশাসক উল্টো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন এমনটাই জানালো গণমাধ্যম। স্বাভাবিক ভাবেই এ ঘটনা দ্বিধা বা সমন্বয়হীনতার ব্যাপারটিই সামনে আনে। 

মূলত ছুটি ঘোষণার আগেই ঢাকার ট্রেন ও বাস বন্ধ করে দেয়া উচিত ছিলো। কথাটি শুনতে একটু কঠোর শোনালেও অপ্রয়োজনীয় নয়। ঢাকাতে চিকিৎসা সুবিধা বেশি এবং আইইডিসিআরে’র হাতের নাগালে। সে কারণেই, ঢাকাতে থাকা মানুষগুলোর চিকিৎসার ব্যবস্থা দ্রুত করা সম্ভব হতো। আর আইইডিসিআর সহজেই মানুষগুলোকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে পারতো। 

এখন কী হবে? কী হবে আর, সারাদেশে ছড়াবে। বিশেষ করে যারা নিম্নআয়ের মানুষ, যাদের সচেতনতা ওই ভাবে গড়ে উঠেনি, তারা গ্রাম পর্যায়ের কোভিড-১৯ ছড়াবেন। ফলে প্রতিটি গ্রাম হয়ে উঠতে পারে অরক্ষিত। আর গ্রামগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়ার কথা চিন্তা করলেই ভয় হয়। এমনকি ভেবে দেখতেও সাহস হয় না। তখন কি হবে, আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যে অবস্থা শহরই সামাল দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, আর গ্রাম!

আল্লাহ আমাদের প্রতি দয়া করুন। ইতালির মতন একটি সমৃদ্ধ দেশের প্রধানমন্ত্রীর যখন বলতে হয়, ‘আমরা আমাদের চেষ্টা করেছি, এখন আমাদের তাকিয়ে থাকতে হবে উপরের দিকে’, তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না, মানুষ কতটা অসহায় হয়ে পড়েছে।

আমাদের শহুরে মানুষদেরও এখনো সঠিক আক্কেল হয়নি। পাশের বাসার ভাবি, আরেক বাসায় যাচ্ছেন, আত্মীয়-স্বজন এখনো বাড়িতে বেড়াতে আসছেন। এমনকি আমাদের বাসায়ও পরিচিতরা আসছেন, যাদের মুখের উপর না বলে দেয়া যায় না। প্রতিবেশি এক রিকশায় বাজার সারতে যাচ্ছেন। আর একই সাথে সঙ্গরোধ ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছেন। জানি এ নিয়ে অনেকে সাধারণ মানুষদের দোষ দিবেন। মানুষের দোষ আছে এটা ঠিক। বিপরীতে পরিস্থিতির ভয়াবহতা যাদের বোঝানোর দরকার ছিলো তারা কতটা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। এতদিন তারা বলে এসেছেন, আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে, এখন বলছেন ঘাটতি আছে। অর্থাৎ তারা নিজেরাই সঠিক জানতেন না পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। চীনের সংক্রমনের পর তিন মাস হাতে সময় ছিলো সেই সময়টা গিয়েছে শুধু বাগাড়ম্বরে। সুতরাং সাধারণ মানুষকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।   

সরকার সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা খুবই ভালো একটা সিদ্ধান্ত। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশও এই রাস্তা ধরেছে। এখন সেনাবাহিনীকে দ্রুত কাজে লাগানো উচিত। তবে জরুরি স্বাস্থ্য বিষয়ে জেলা প্রশাসক বা সরকারি কর্মকর্তাদের কথার উপর নির্ভর করতে যেনো না হয় সেনা কর্মকর্তাদের। তারা প্রয়োজনে নিজস্ব কর্মপরিকল্পনায় কাজ করতে পারেন সেই স্বাধীনতাটাও তাদের দেয়া উচিত। না হলে ভোটের মতন ‘চেয়ে চেয়ে দেখলাম’ অবস্থা হবে। 

আমরা মহামারীর তৃতীয় পর্যায়ের দিকে এগিয়ে চলেছি। যতটুকু সময় আমাদের হাতে রয়েছে তার সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আমাদের প্রশাসনকে অবস্থাটা বুঝতে হবে। সেনা সদস্যরা মাঠে নেমেছেন, দেশরক্ষার সাথে মানুষদের রক্ষার চেষ্টাও তাদের কাজ। এই কাজটি দ্রুত করতে হবে। খুবই দ্রুত। সাদুল্যাপুরের মতন কোনো দ্বিধা ও দ্বিমতের সুযোগ নেই। এখানে কোনো রাজনীতি নেই, দর্শনগত দ্বন্দ্ব নেই, গোষ্ঠী সংঘাত নেই, পারিবারিক হিংসা নেই, এখন শুধু নিজে বাঁচতে হবে, মানুষকে বাঁচাতে হবে। 

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

করোনাভাইরাস বাংলাদেশ

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0210 seconds.