• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৪ মার্চ ২০২০ ১৭:০৪:০০
  • ২৪ মার্চ ২০২০ ১৭:৪৪:০৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনা মোকাবিলায় দেশে আইসিইউ শয্যা মাত্র ২৯টি

ছবি : সংগৃহীত

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালে মাত্র ২৯টি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) বেড প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকার বাইরে করোনা আক্রান্তদের জন্য কোনো হাসপাতালে আইসিইউ বেড নেই। 

করোনাভাইরাসের রোগী সামলাতে বাংলাদেশে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ১০টি, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রো লিভার হাসপাতালে ৮টি, উত্তরা রিজেন্ট হাসপাতালে ৩টি, মিরপুর রিজেন্ট হাসপাতালে ৩টি ও যাত্রাবাড়ির সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ৫টি আইসিইউ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে।

তবে এ হাসপাতালগুলোর মধ্যে শুধু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে নির্ধারিত একমাত্র হাসপাতাল কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল। ২০০ বেডের ওই হাসপাতালেই এখন করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ও আইসোলেশন করা হচ্ছে। 

করোনাভাইরাস আক্রান্ত কোনো কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হলে কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে মাত্র ৫ বেডের ডায়ালাইসিস বেড প্রস্তুত রয়েছে। যদিও দেশে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের ডায়ালাইসিস প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা আক্রান্ত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ রোগীর আইসোলেশন ও আইসিইউ প্রয়োজন। এর মধ্যে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন পড়ে। আমাদের দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা ৮০ লাখেরও ওপরে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট আইসিইউ বেড রয়েছে ১২৮৫টি। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে রয়েছে ২১১টি। প্রয়োজনের তুলনায় এ সংখ্যা খুবই কম।

তবে দেশে যে আইসিইউ বেড রয়েছে সেগুলোতে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়া যাবে না। কারণ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীকে কোনো আইসিইউতে ঢোকানো হলে সেখানে থাকা অন্য রোগীরাও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন। 

সম্প্রতি রাজধানীর ডেল্টা হাসপাতালের আইসিইউতে এক রোগী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর সে হাসপাতালের আইসিইউ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘যে হাসপাতালগুলোতে করোনার চিকিৎসা দেওয়া হবে সেগুলো ডেজিগনেটেড হসপিটাল হতে হবে। সেখানে অন্য কোনো রোগীর চিকিৎসা দেওয়া যাবে না। করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের আলাদা আইসিইউর ব্যবস্থা থাকতে হবে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক মুজাহারুল হক বলেন, আমাদের দেশে করোনা ভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। কমিউনিটিতে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে যে পরিমাণ আইসিইউ বেড দরকার হয়েছে, সেই তুলনায় আমাদের রয়েছে খুবই স্বল্প। জনসংখ্যা ও পারসেন্টজ অব সিনিয়র সিটিজেনের তুলনায় এ একেবারে কম। আইসিইউ বেডের সংখ্যা শিগগিরই আরও বাড়াতে হবে এবং প্রস্তুত রাখতে হবে।

২১ মার্চ প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের জন্য ১০০টি আইসিইউ স্থাপন করা হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৪০০ ইউনিট স্থাপন করা হবে। কিন্তু কবে সে বেড স্থাপন করা হবে, তা নিশ্চিত করে বলেননি তিনি।

সূত্র: বিজনেজ স্ট্যান্ডার্ড 

সংশ্লিষ্ট বিষয়

করোনাভাইরাস আইসিইউ

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0219 seconds.