• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৬ মার্চ ২০২০ ১৭:৫৭:৫১
  • ২৬ মার্চ ২০২০ ১৭:৫৭:৫১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ওসির কক্ষে আসামির ঝুলন্ত লাশ, হত্যার অভিযোগ পরিবারের

ছবি : সংগৃহীত

বরগুনার আমতলী থানা পুলিশের ওসির (তদন্ত) কক্ষ থেকে মোহাম্মদ শানু হাওলাদার নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় ওই ওসি ও এক এসআইকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

নিহতের বাড়ি উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামে। তার স্ত্রী ঝরনা বেগমের অভিযোগ, তিন লাখ টাকা ঘুষ না দেয়ায় থানায় পিটিয়ে হত্যার পর তার স্বামীর লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ একটি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে আমতলী থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার পুলিশ হেফাজতেই তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বছরের ৩ নভেম্বরে উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম কলাগাছিয়া গ্রামে ইব্রাহিম নামের এক কৃষককে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই হত্যা মামলায় শানু হাওলাদারের সৎভাই মিজানুর রহমান হাওলাদার এজাহারভুক্ত আসামি। গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই মামলার সহেন্দভাজন আসামি হিসেবে শানু হাওলদারকে থানায় ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর আমতলী থানার ওসি আবুল বাশার ও ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি আসামির পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। 

নিহত শানু হাওলাদারের ছেলে সাকিব হোসেন বলেন, 'বিনা অপরাধে আমার বাবাকে ওসি ধরে এনে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমার বাবাকে নির্যাতন করেছেন তারা। এরপর  মঙ্গলবার দুপুরে আমি ওসিকে ১০ হাজার টাকা দিই। কিন্তু এরপর তিনি নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেন ও বারবার আমার কাছে ঘুষের টাকা দাবি করেন। '

তিনি আরো বলেন, ‘বুধবার সকালে আমি বাবার সঙ্গে দেখা করতে থানায় আসি কিন্তু আমাকে দেখা করতে না দিয়ে ওসি আবুল বাশার ও ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি গালাগাল করে তাড়িয়ে দেয়। সারাদিন আমাকে বাবার সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি। ওসি বলেন যে, টাকা নিয়ে আস তারপর দেখা করতে দেব। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে খবর পাই বাবা আর নাই।’

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি ও ডিউটি অফিসার এসআই আরিফকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার তদন্তে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তোফায়েল আহমেদকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন জানান, ভুক্তভোগী পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায় সেজন্য সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.1588 seconds.