• ২৬ মার্চ ২০২০ ১৯:৩১:৫৫
  • ২৬ মার্চ ২০২০ ১৯:৩১:৫৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

অন্যকে দোষ দেয়ার আগে নিজের মুখটাও আয়নায় দেখা উচিত

ছবি : সংগৃহীত


কাকন রেজা :


অনেকেই দেখলাম বিএনপি চেয়ারপার্সনের মুক্তি উপলক্ষে বিএনপির জনসমাগম নিয়ে পড়ে আছেন। করোনা ছড়ানো নিয়ে তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। তা পড়তেই পারে, সচেতন মানুষের ক্ষেত্রে এমন ভেঙে পড়াটা স্বাভাবিক। যেহেতু জনসমাগম থেকে বড় একটা সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে।

কিন্তু যারা এমন কথা বলছেন, তাদের অনেককেই তো বলতে শুনলাম না, ঢাকা লকডাউন করার আগে অফিস আদালত ছুটি দিয়ে দেয়া হলো কেন? ঢাকাটা পুরো দেশ নয়। পুরো দেশের কথা চিন্তা করে এমন প্রশ্নটা জরুরি ছিলো। 

ঢাকায় কোভিড-১৯ আক্রান্তদের সংখ্যা বেশি। আর আমাদের সঙ্গতি এতটা নেই যে, ঢাকায় ঠান্ডা-কাশির লক্ষণ যাদের আছে তাদের পরীক্ষা করা যাবে। এমন অবস্থায় এই লোকগুলোকে ঢাকা ত্যাগ করতে দিলেন কেন? সঙ্গনিরোধের তবে লাভটা হলো কী! এদের মধ্যে বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের মানুষ। যাদের সচেতনতা আকাশ ভেঙে পড়া মানুষদের সমপর্যায়ের নয়। সুতরাং তারা গ্রামে গিয়ে মানুষের সাথে মিশবে অবাধে। তখন অবস্থাটা কেমন হবে? জ্যামিতিক হিসাবটা চিন্তা করে দেখেছেন কি একবার? দেখেননি, দেখলে সেটা আগে ভাবতেন। সেই গ্রামের কোন একটা আক্রান্ত লোক মফস্বলের বাজারগুলোতে আসবে ধান-চাল বা শাক-সবজি বিক্রি করতে। শহুরে মানুষেরা কিনবেন সেসব। এভাবেই গ্রাম থেকে ছড়াবে শহর-বন্দরে। চিন্তা করে দেখুন তো ভয়াবহতাটা।

খোদ রাজধানীর আরেকটা খবর কি কারো চোখে পড়েছে? ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো, কোভিড-১৯ এ মৃতদের খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে দাফন করা হবে। কিন্তু এর প্রতিবাদে এ দুই এলাকার লোকজন বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে। কি বুঝলেন, চিন্তাবিদগণ, মৃতরা কি ভাইরাস ছড়ায়! আর যেভাবে কবরস্থ করা হয় তাতে ভাইরাস ছড়ানোর কোনো সম্ভাবনাই থাকে না। বিপরীতে মানববন্ধন আর বিক্ষোভ কি ভাইরাস ছড়ানোর উপযোগী নয়? মানববন্ধনে সামাজিক দূরত্বের ব্যাপারটি কি থাকে? আর সবাই মিলে বিক্ষোভে? এই যে যারা মানববন্ধন করলেন, তাদের কেউ যদি আক্রান্ত হন, খোদা না করুক মারাও যান, তবে তাদের কবর কোথায় হবে? 

তবে কথা হলো, দোষ কি শুধু জনগণের, এমনসব কাণ্ডের জন্য শুধু তারা দায়ি? না, কোনভাবেই নয়। এই যে ঢাকা ছাড়লো মানুষ ট্রেনে-লঞ্চে-বাসে গাদাগাদি করে, তাদের কি জানানো হয়েছিলো গণপরিবহন কতটা বিপজ্জনক? নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষগুলো কি জানে, যানবাহনের হাতল, বসার জায়গা কোনটাই নিরাপদ নয়? জানে না। জানার কথাও নয়। তাদের হাতে হাতে স্মার্ট ফোন নেই। অন্তর্জালের দুনিয়া সম্পর্কেও নেই তেমন ধারণা। আর তাদের সেভাবে জানানোও হয়নি। এক কথায় তাদের প্রস্তুত করা হয়নি, এসব কিছুর জন্য। অথচ চীনের ঘটনার পর তিনমাস হাতে সময় পেয়েছিলাম আমরা। সময়ের দেয়া সেই সুযোগটা নিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। 

হিসাব করে দেখুন আমাদের সচেতনদেরই কোন প্রস্তুতিই নেই। আমরা ভেবে বসে আছি, কয়েকদিন ঘরে বসে থাকলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আরে, সমস্যাতো এখনো শুরুই হয়নি। যদি লকডাউন দীর্ঘদিনের হয়। চীনের মতন তিন মাস, সেই অবস্থার কথা ভেবেছেন কি? আমাদের ভঙ্গুর অর্থনীতি এতটা চাপ নিতে পারবে কি? আমাদের দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর তিন দিন ঘরে বসে থাকলে ভাত জোটে না, তাদের কী হবে? প্রশ্ন রয়েছে অনেক, উত্তর নেই জানা। 

সুতরাং দৃষ্টি শুধু এক জায়গায় নিবদ্ধ করলে চলবে না, সব জায়গায় করতে হবে। সামগ্রিক চিন্তা থেকেই সত্যিকার বিষয়টি বেড়িয়ে আসবে। আমরাও তো আমাদের দায়িত্ব ঠিকমত পালন করিনি। আমরাও জানাতে চেষ্টা করিনি গত তিনমাস সময়ের মধ্যে। হঠাৎ করেই যখন ঘাড়ে চেপে বসলো তখন থেকে আমরাও শুরু করলাম। যার ফল ভুগতে হচ্ছে সবাইকে। সুতরাং সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীদের দোষ দিয়ে লাভ কী! তারাও তো সেই সাধারণ মানুষই, যাদের আমরা সচেতন করতে পারিনি। সে অর্থেই অন্যকে দোষ দেয়ার আগে নিজেদের মুখটাও আয়নায় দেখা উচিত। কি বলেন?

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট। 

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

করোনাভাইরাস কাকন রেজা

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0776 seconds.