• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৭ মার্চ ২০২০ ১৪:৫০:২৭
  • ২৭ মার্চ ২০২০ ১৪:৫২:১৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

‘করোনার ওষুধ’ বিক্রি করায় কথিত কবিরাজের দণ্ড

ছবি : সংগৃহীত

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ওষুধ বিক্রি করার দায়ে কথিত কবিরাজ আলতাফ ফকিরকে (৫৫) কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ‘ওষুধ খেলে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে’ বলে শরীয়তপুর সদরের মনোহর বাজার বাসস্ট্যান্ডে বসে ওষুধ বিক্রি করছিলেন তিনি।

২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে তাকে আটক করেন সদরের আংগারিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মিন্টু মন্ডল। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহাবুর রহমান শেখ ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওই কবিরাজকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। পরে রাতেই তাকে জেলা কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

ফাঁড়ির পরিদর্শক মিন্টু মন্ডল জানান, উপজেলার চরপাতাং এলাকার বাসিন্দা আলতাফ ফকির। তিনি শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কের মনোহর বাজার বাসস্ট্যান্ডের ফুটপাতে বসে বিভিন্ন গাছপালার শিকড় ও লতাপাতার রস বিক্রি করতেন। সম্প্রতি তিনি সেখানে পেট্রল পাম্পের সামনে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করেন। গত তিন-চার দিন ধরে বিভিন্ন গাছের পাতার রসের সঙ্গে ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে করোনাভাইরাস ভালো করার ওষুধ বলে বিক্রি করছেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পায় পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে মনোহর বাজার এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন।

এ বিষয়ে ডামুড্যা উপজেলার মডেরহাট এলাকার বাসিন্দা রাজিব হোসেন বলেন, ‘লোকমুখে শুনেছি আলতাফ ফকির নামে এক ব্যক্তি করোনার ওষুধ বিক্রি করছেন। তাই আমি তাকে ফোন করে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই। তিনি আমাকে জানান, জ্বর, ঠান্ডা, কাশিসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ তিনি বিক্রি করেন। সেই সঙ্গে করোনা থেকে সুস্থ করার ওষুধও প্রস্তুত করেছেন তিনি। যে কেউ চাইলেই সেই ওষুধ দিতে পারবেন। বিষয়টি আমার কাছে প্রতারণা মনে হলে পুলিশকে খবর দেই। আর আমার সঙ্গে ওই কবিরাজের ফোনের কথা বলার রেকর্ডও পুলিশের কাছে পৌঁছে দেই।’

এ বিষয়ে ইউএনও মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, ‘কথিত ওই কবিরাজ করোনা নিরাময়ের ওষুধ বিক্রি করছেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের অভিযানে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গাছের ও লতাপাতার রসের সঙ্গে ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে ওষুধ বানিয়ে বিক্রি করার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। করোনাভাইরাসের ওষুধ বলে বিক্রি করায় সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয়েছেন। ফলে তাকে এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।’ এ ধরনের প্রতারকদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

বাংলা/এনএস

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0856 seconds.