• বিদেশ ডেস্ক
  • ২৭ মার্চ ২০২০ ১৬:৫৬:১২
  • ২৭ মার্চ ২০২০ ১৬:৫৬:১২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ভেষজই কাজ করছে করোনায়, দাবি চীনা গবেষণায়

ছবি : সংগৃহীত

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস প্রথম আক্রান্ত হয়ে চীনের হুবেই প্রদেশে। এরপর এটি ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। এই ভাইরাসে সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২৪৩৬৫ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪২১৯২ জন। এই ভাইরাসটির এখনো কোনো প্রতিষেধক বানাতে পারেনি কোনো দেশ। তবে পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্য দেশগুলো যখন এই করোনাভারাসে কাবু ঠিক তখন চীন এই ভাইরাসটিকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে। দেশটিতে আক্রান্তের হার কমছে, বাড়ছে সুস্থ হয়ে উঠার হার। চীনা গবেষকদের দাবি, এর পেছনে কাজ করেছে ভেষজ ওষুধ।

আদা, দারচিনি, যষ্ঠীমধুর মতো পরিচিত ১২টি মশলা দিয়ে বানানো একটি মিশ্রণ প্রয়োগ করা হয়েছিলো চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে। এতে দারুণ কাজ করেছে বলে জানান গবেষকরা।

গবেষকরা জানান, চীনারা প্রথাগত বা প্রচলিত ওষুধে বিশ্বাসী। যার প্রায় বেশিরভাগই ভেষজ। ভেষজ মানবশরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এমন প্রায় বারোটি ভেষজকে বেছে নিয়ে একটি মিশ্রণ প্রয়োগ করা হয়েছিল কোভিড-১৯ পজিটিভ হওয়া ৭০১ জনের উপর। এতে ভালো কাজ হয়েছে।

‘হেইলংজিয়াং ইউনিভার্সিটি অফ চাইনিজ মেডিসিন’-এর তিন বিজ্ঞানী জান-লিং রেন, আই হুয়া ঝাং এবং ঝি-জান ওয়াংয়ের সম্মিলিত গবেষণা পেপারটি ৪ মার্চ প্রকাশিত হয়েছে ‘এলসভিয়ার’ নামক মেডিক্যাল জার্নালে।

গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ২০০৩-এ সার্স সংক্রমণের সময়ও এই মিশ্রণ খাইয়ে অনেক রোগীকে সুস্থ করা হয়েছিল। এবার সেই পরীক্ষা চালানো হয় ৭০১ জন করোনা পজিটিভের উপর। তাদের মধ্যে ১৩০ জন দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ৫১টি ক্ষেত্রে উপসর্গগুলো গায়েব হয়ে  গেছে। ২৬৮টি ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছিল। ২১২টি ক্ষেত্রে নতুন করে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়নি। দেখা যায়, ৯০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই দারুণ কাজ করেছে যষ্ঠীমধু, দারচিনি, আদার ক্বাথ।

প্রমাণ হিসেবে ওই গবেষকরা, রোগীদের ফুসফুসের সিটি স্ক্যান রিপোর্টও প্রকাশ করেছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, রোগীদের ফুসফুসের সংক্রমণ ধাপে ধাপে কমিয়ে দিচ্ছে আয়ুর্বেদ ওষুধ।

এদিকে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের রিপোর্টে বলা হয়েছে, চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৮৫ ভাগের চিকিৎসাই এই ভেষজে হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মত, করোনা সংক্রমণের সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক। সুতরাং ইমিনোমডিউলেটর ওষুধ বা পথ্য কার্যকর হতেই পারে। তবে আরো গবেষণার প্রয়োজন।

এই গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর ভারতও একই পথে হাঁটতে চাচ্ছে। ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছেন ভারত সরকারের আয়ুশ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। মত নেয়া হচ্ছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের।

পশ্চিমবঙ্গের আয়ুর্বেদ পরিষদের সহ-সভাপতি ডা. প্রদ্যোতবিকাশ কর মহাপাত্র বলেন, ‘জীবাণু নিয়ন্ত্রণে আয়ুর্বেদের অভিজ্ঞতা পাঁচ হাজার বছরের। তারই একাংশ প্রয়োগ করেছে চীনারা। এই ওষুধ প্রয়োগের জন্য ভারত সরকার নীতি তৈরি করুক। রোগীদের চিহ্নিত করুক। আমাদের পরিষদ সবরকম সহযোগিতা করবে।’

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় আয়ূশ সচিব ডা. রাজেশ কোটেচা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টির সত্যতা প্রমাণিত হলে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আয়ুর্বেদিক প্রোটোকল তৈরি করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

করোনাভাইরাস ভেষজ চীন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0711 seconds.