• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ৩১ মার্চ ২০২০ ১১:০৯:৩৮
  • ৩১ মার্চ ২০২০ ১১:০৯:৩৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

দশদিনেই ঢাকার বায়ুর এমন উন্নতি!

ঢাকার শূন্য সড়কের দৃশ্যটি ফার্মগেট থেকে তোলা। ছবি : বাংলা

মাত্র দশদিন আগেই রাজধানী ঢাকা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর নগর। সেই ঢাকাই এখন দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ২৩ নম্বরে নেমে এসেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণার কারণেই রাজধানীর বায়ুর মানের এমন উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, করোনা আতঙ্কে যান চলাচল ও নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া বেশির ভাগ শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই ঢাকার বাতাসের দূষণ অনেক কমে গেছে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে গতকাল ৩০ মার্চ, সোমবার বেলা ৩টায় দূষণের দিক থেকে বিশ্বে ঢাকার অবস্থান ছিল ২৯ নম্বরে। বিকালের দিকে শহরে যানবাহনের চলাচল সামান্য বৃদ্ধি পায়। ফলে বিকাল ৫টায় ইনডেক্সে ঢাকার অবস্থান ২৫ নম্বরে আসে। আর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তা ২৩ নম্বরে অবস্থান নেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের অধ্যাপক ও বায়ুদূষণ গবেষক ড. আবদুস সালাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সাধারণ ছুটি থাকায় শিল্পকারখানা, নির্মাণ কাজ ও যানবাহন কম চলায় বাতাসের এমন উন্নতি।’

ঢাকার বাতাসের দূষণের প্রধান চারটি কারণ জানান এ গবেষক। তার মতে এগুলো হচ্ছে- যানবাহন, বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ কাজ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং ইটভাটা।

২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় ঢাকার সাধারণ জীবনযাত্রা বদলে গেছে। একরকম থমকে গেছে সদাব্যস্ত এ নগরী। এরই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বায়ুর মানে। ছুটি শেষে ঢাকা যদি ফের পুরনো ব্যস্ত রূপে ফিরে যায়, তখন হয়তো বৈশ্বিক হিসাবে এ শহরের বায়ুর মান আগের অবস্থায়ই ফিরে যাবে। তবে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিকরা সচেতন ও আন্তরিক হলে অপেক্ষাকৃত মানসম্মত বায়ু নগরবাসীর পক্ষে পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন পরিবেশবিজ্ঞানী ও গবেষকরা।

তাদের মতে, বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস হলো ধুলোবালি। এছাড়াও আছে অপরিকল্পিত-অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ কাজ। মেয়াদোত্তীর্ণ মোটরযান ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ভারী ধাতু ধুলার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার বাতাসে প্রাপ্ত ধুলায় সর্বোচ্চ মাত্রায় সিসা, ক্যাডমিয়াম, দস্তা, ক্রোমিয়াম, নিকেল, আর্সেনিক, ম্যাঙ্গানিজ ও কপারের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মাটিতে যে মাত্রায় ক্যাডমিয়াম থাকার কথা, ধুলায় তার চেয়ে প্রায় ২০০ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। আর নিকেল ও সিসার মাত্রা দ্বিগুণের বেশি। খুব সহজেই এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণা ত্বকের সংস্পর্শে আসছে। শ্বাসপ্রশ্বাস, খাদ্য ও পানীয়র মাধ্যমে মানুষের শরীরেও প্রবেশ করছে।

করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমন ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে চলছে সাধারণ ছুটি। বন্ধ হয়ে আছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। দেশে চলছে অঘোষিত ‘লকডাউন’। মানুষের চলাচল একেবারেই সীমিত হয়ে পড়েছে। আর গণপরিবহন, শিল্পকারখানা ও নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় বায়ুর মানে উন্নতি ঘটছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বায়ুর দূষণ যদি সাধারণ মাত্রায় থাকে তাহলে শ্বাসনালির নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।’

এছাড়া এ কারণে যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, নানা রকম ইনফ্লুয়েঞ্জা, অ্যাজমা, চর্মরোগ, পেটের পীড়া পর্যন্ত হতে পারে পারে বলে জানান তিনি।  যেসব সমস্যার বেশি শিকার হন শিশু ও বৃদ্ধরা।

বাংলা/এসএ

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ঢাকা বায়ুদূষণ

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0782 seconds.