• ০১ এপ্রিল ২০২০ ১৯:৫৩:১৪
  • ০১ এপ্রিল ২০২০ ১৯:৫৩:১৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনায় আক্রান্ত হওয়া বা না হওয়ার লক্ষণ

ফাইল ছবি

এ সময়ে এমনিতেই আমাদের অনেকের সর্দি, কাশি, গলাব্যথা এসব হচ্ছে। অনেকের হয়ত সাথে জ্বরও হচ্ছে। আর এমন হলে আমরা হয়ত করোনা মনে করে অহেতুক আতঙ্কিত হয়ে পড়ছি। সেটা কিন্তু মোটেও ঠিক নয়।

কারণ করোনা ছাড়াও অনেক কারণে এমন হতে পারে। ফলে অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে নিজেই একটু নিচের ৪ টি সমস্যার সাথে আপনার প্রকাশিত লক্ষণের একটা তুলনা করে নিতে পারেন। তাহলে আশাকরি একটা ধারণা অন্তত পেয়ে যাবেন আপনার বা আপনার পরিচিতজনের করোনা হয়েছে নাকি হয়নি।

আর সেটা না পরলেও সমস্যা নেই। সেক্ষেত্রে আপনি টেলিফোনে একজন চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নিতে পারেন।

সমস্যা নং -১ঃ
★ধরুন আপনার হাঁচি, কাশি, সর্দি আছে। গলাব্যথাও আছে হয়ত। তবে এর সাথে জ্বর নেই। তাহলে ধরে নিতে পারেন মোটামুটিভাবে এটা করোনার লক্ষণ নয়।

সমস্যা নং-২
★ হাঁচি, কাশি, সর্দি আছে। সাথে গলাব্যথা থাক বা না থাক; কিন্তু জ্বর আছে। তবে সে জ্বর উচ্চমাত্রার নয়। যদি তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি না হয় তাহলে সেক্ষেত্রেও করোনা হওয়ার সম্ভাবনা কিন্তু খুবই কম।

সমস্যা নং-৩ঃ
★ হাঁচি, কাশি এবং সর্দির সাথে অধিক জ্বর ( প্রথমে তাপমাত্রা কম থাকলেও তা পরে বাড়তে থাকে। ১০৩-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটন অবধি উঠতে পারে।) তাহলে তা করোনা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এর সাথে অনেকের গলাব্যথা থাকতে পারে। শ্বাসকষ্ট থাকতে পারে। আবার অনেকের তা থাকেও না। অনেকের আবার পাতলা পায়খানা, গা ব্যথা, জয়েন্ট ব্যথা থাকতে পারে।
★ সর্দি, কাশি, জ্বর এর সাথে শ্বাসকষ্ট থাকলে তা করোনার লক্ষণের সাথে সবচেয়ে বেশি মিলে গেছে।

সমস্যা নং-৪ঃ
★ সর্দি, কাশি, জ্বর যদি ৭ দিনের মধ্যে ভালো না হয় তাহলে সেটাও করোনার লক্ষণ হতে পারে।

নরমালি সর্দি, কাশি, জ্বর (আমরা যাকে ফ্লু বলি) তা ৭ দিনের ভেতরেই অনেকটাই কমে যায় বা একদমই সেরে যায়।

কখন হাসপাতালে যাবেন?

★ যদি সর্দি, কাশি, জ্বরের সাথে শ্বাসকষ্ট থাকে তাহলে আর দেরি নয়। হাসপাতালে যেতে হবে।

★ যদি সর্দি, কাশি, জ্বরের সাথে ঐ ব্যক্তির উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, আগে থেকেই শ্বাসকষ্টের সমস্যা বা হার্টের সমস্যা থেকে থাকে তাহলেও বাসায় সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে যেতে হবে।

এ সময়ে যা করবেন :

★ যদি শ্বাসকষ্ট বা আগে থেকে অন্য কোন অসুখ না থেকে থাকে- তাহলে কসুম গরম পানি, লেবু, আদা দেওয়া চা খেতে পারেন। টক জাতীয় ফল খেতে পারেন। প্রচুর তরল/ পানি খাবেন। নিজেকে একদম অন্যদের থেকে আলাদা করে ফেলুন। আলাদা রুমে থাকুন। বাড়ির সিনিয়রদেরকে আপনার থেকে পুরো আলাদা রাখুন।

আপনার থালা, প্লেট, গ্লাস আলাদা করুন। আপনি টিস্যু বা রুমাল নাকে- মুখে দিয়ে হাঁচি-কাশি দিবেন। পরে টিস্যু ঢাকনা যুক্ত বিনে ফেলুন অথবা পলিথিনে রেখে তার মুখ বন্ধ রাখুন। রুমাল সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন।

নিয়মিত হাঁচি, কাশির পরে হাত সাবান দিয়ে অন্তত ২০-৩০ সেকেন্ড ধরে ধুঁয়ে ফেলবেন। পারলে আপনার রুম নিজেই পানিতে লাইজল, ডেটল মিশিয়ে পরিষ্কার করুন। বাসায় থাকুন। মোটেও বাইরে বের হবেন না।

★ জ্বর কমানের জন্য প্যারাসিটামল খেতে পারেন।

★ হাঁচি, কাশির জন্য ফেক্সোফেনাডিন, লরাটিডিন, ডেসলরাটিডিন, লিভোসেট্রিজিন গ্রুপের যে কোন একটু ওষুধ খেতে পারেন।

প্রতিরোধে মনোযোগী হতে হবে

★ তবে, সবচেয়ে ভাল হচ্ছে করোনা প্রতিরোধ করা। এজন্য যতটা পারুন ঘরেই থাকুন। বাড়ির সিনিয়র মানুষটিকে আলাদা রাখুন। তার যত্ন নিন। সচেতন থাকুন। পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতার নির্দেশনা মেনে চলুন। অবশ্যই সাবান দিয়ে ২০-৩০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। হাঁচি,কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। বাইরে থেকে এসে সাবান দিয়ে গোসল করে ফেললে সবচেয়ে ভালো। জামাকাপড় পরিষ্কার রাখুন। টাকা পয়সা লেনদেন করলে হাত সাবান দিয়ে ধুতে হবে। মোবাইল, টিভির রিমোর্ট, দরজার হ্যান্ডেল, টিউবয়েলের হাতল, পানির ট্যাপ ইত্যাদি পরিষ্কার রাখুন।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, এনাম মেডিকেল কলেজ

সংশ্লিষ্ট বিষয়

করোনাভাইরাস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0676 seconds.