• বাংলা ডেস্ক
  • ০২ এপ্রিল ২০২০ ১০:০৭:৫৫
  • ০২ এপ্রিল ২০২০ ১০:০৭:৫৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে

করোনার বিরুদ্ধে আশা ‘বিসিজি টিকা’

ফাইল ছবি

গোটা বিশ্ব যখন নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীতে আতঙ্কগ্রস্থ, এর প্রতিষেধক টিকা তৈরিতে বিজ্ঞানীদের রাতের ঘুম হারাম- তখন শোনা গেলো আশার কথা। যেসব দেশে বিসিজি টিকা কর্মসূচি আছে, সেসব দেশে নভেল করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯’র সংক্রমনের ভয়াবহতা কম বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মেডআর্কাইভ। এর ফলে ব্যাসিলাস ক্যালমেট-গুউরিন বা বিসিজি কর্মসূচি চালু রাখা বাংলাদেশ রয়েছে সুবিধাজনক অবস্থানে।

মেডআর্কাইভ গত ২৪ মার্চ ওই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। ছয় মার্কিন বিজ্ঞানীর ওই গবেষণাটি স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। 

মূলত যক্ষ্মার প্রতিষেধক হিসেবে দেয়া হয় ব্যাসিলাস ক্যালমেট-গুউরিন বা বিসিজি টিকা। স্বাধীনতারও অনেক আগে থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্কদের এ টিকা প্রদান শুরু হয়। ১৯৭৯ সাল থেকে নবজাতকদেরও বিসিজি টিকা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের এখন প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ মানুষের শরীরে এই টিকা দেয়া হয়েছে। 

গত ২৪ মার্চ  মেডআর্কাইভ প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রতিষ্ঠানের ছয় বিজ্ঞানীর অনুসন্ধান বলছে, যেসব দেশের জাতীয় নীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিসিজি টিকা কর্মসূচি রয়েছে সেখানে ভয়াবহ হয়নি কোভিড-১৯ সংক্রমণ।

তারা জানান, নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমনে বিপর্যস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেন, বেলজিয়ামে জাতীয়ভাবে বিসিজি টিকা কর্মসূচি নেই। অন্যদিকে ইরানে যক্ষ্মাপ্রতিরোধী এই ভ্যাকসিনটিও সর্বজনীন করা হয় ১৯৮৪ সালে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে মৃত্যুহার অনেক বেশি হলেও সেখানকার বয়স্কদের মধ্যে যারা বিসিজি টিকা নিয়েছেন, তারা কোভিডের বিরুদ্ধে লড়তে পারছেন, তাদের মৃত্যু হারও কম।

অপরদিকে ১৯৪৭ সালে বিসিজি টিকা সর্বজনীন করে জাপান। ইরানে যেখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হার যখন ১৯ দশমিক ৭, জাপানে তা শূন্য দশমিক ২৮। আবার ১৯২০ সালেই ভ্যাকসিনটি ব্রাজিলে সর্বজনীন, এ দেশে মৃত্যুহার মাত্র ০.০৫৭৩ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমএনসি অ্যান্ড এইচ’র পরিচালক শামছুল হক এ বিষয়ে বলেন, ‘হাওর, পাহাড়ি এলাকা এবং যেসব এলাকাতে মানুষের যাওয়া-আসাও কষ্টকর, সেসব এলাকাতেও আমাদের এই টিকাদান (বিসিজি) কার্যক্রম চালু থাকে। এবং সেখানে আমাদের টিকাদানের হারটাও ভালো। যে কারণে আমরা প্রায় শতকরা ১০০ ভাগের কাছাকাছি, আমি যেটা বললাম ৯৯.৭ ভাগ শিশু জন্মের পরপরই এই টিকাদানের কার্যক্রমের আওতায় চলে আসে।’ 

মেডআর্কাইভের গবেষণাটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে এর যদি ইতিবাচক বিষয়টি থাকে, তা সকলকে এ বিষয়টি জানিয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন বলেও জানান শামছুল হক।

বাংলা/এসএ

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0890 seconds.