• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৩৯:০৫
  • ০৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৪৯:৩৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

চিকিৎসকের কথা: কেউ কি করোনায় দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হতে পারেন?

ছবি : আলজাজিরা থেকে নেয়া

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে থেকে সেরে ওঠার পর আবারো আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ফ্রেরুয়ারি মাসের শেষ দিকে জাপানের ওসাকাতে এক নারী দ্বিতীয়বার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই এই শঙ্কা দেখা দেয়। তবে এ বিষয়ে এখনেই নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ এটা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে।

করোনাভাইরাসে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হবো কি না, তার আগে এটা জানা গুরুত্বপূর্ণ কীভাবে ভাইরাসকে ধ্বংস করার জন্য আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

যখন কোন রোগজীবাণু (বাহিরের কোন ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) শরীরের ভিতরে প্রবেশ করে, প্রথমেই রোগ প্রতিরোধ এন্টিবডি তাকে এলিয়েন হিসেবে চিহ্নিত করে। নির্দিষ্ট ব্লড সেল রয়েছে যাদের কাজ হলো শরীরে টহল দেয়া এবং নতুন কোন সংক্রমণ দেখা দিলে দ্রুতার সাথে সতর্কবার্তা পাঠানো।

এই সতর্কবার্তা পাওয়া মাত্রই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নির্দিষ্ট পরিমাণে এন্টিবডি তৈরি করে। সংক্রমণ দূর করতে নির্দিষ্ট পরিমাণে এন্টিবডি দরকার। তাই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। আর এই সময়ের মধ্যে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া বহুগুণে বৃদ্ধি পায়, ফলে আপনি এ সময় কিছুটা অসুস্থ বোধ করতে পারেন।

সংক্রমণের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য আপনার শরীরের এন্টিবডির কয়েকদিন বা এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এই সময়ের মধ্যেই সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিবে। যখন যথেষ্ট পরিমাণে এন্টিবডি তৈরি হবে, তখন সংক্রমণ ভালো হবে এবং আপনি সুস্থ বোধ করবেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বুদ্ধিমানের মতো কাজ করে :

এটা মেমরি সেল তৈরি করে। এই সংক্রামণ আবার যদি আপনার শরীরে প্রবেশ করে তার জন্য মেমরি সেলগুলো তৈরি থাকে এবং অপেক্ষ করে।

যদি এমনটা ঘটে, তাহলে আপনি অসুস্থ হওয়ার আগেই এন্টিবডিগুলো দ্রুতই সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সংক্রমণকে ধ্বংস করে দেয়। এছাড়াও সেলগুলো রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কার্যকর করার জন্যও দ্রুত বার্তা পাঠায়।

এক্ষেত্রে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতো দ্রুত কাজ কবরে যে আপনি আর অসুস্থ বোধ করবেন না, এমনকি বুঝতেও পারবেন না আপনি সংক্রমিত হয়েছেন। কারণ, এই নির্দিষ্ট সংক্রমণ প্রতিরোধ করার শক্তি আপনার তৈরি হয়েছে।

সাধারণত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্থায়ী হয়- কিন্তু সব সময় নয়।

করোনাভাইরাসের মধ্যে অন্যতম একটি রোগ হলো কোভিড-১৯ (COVID-19)। সাধারণ সর্দির ভাইরাসগুলো মূলত করোনাভাইরাস পরিবারের অন্তর্গত। এদের দ্বার আক্রান্ত হওয়ার পর আজীবন তাদের প্রতিরোধ করার ক্ষমতা অর্জন করি না। যে ব্যক্তি অন্য ধরনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, যাকে সিভিয়ার একিউট রেস্পরেইশন সিনড্রোম ( এসএআরএস) বলে। এটা দুই থেকে তিন বছর ধরে সংক্রমিত করতে পারে।

এই মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়ার তিনটা পথ রয়েছে বলেই অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করেন। প্রথমটা হলো এই ভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা। দ্বিতীয়টি হলো দ্রুত রোগ প্রতিরোধ শক্তি তৈরির জন্য টীকা দেয়া। অথবা বর্তমানে ভাইরাসটি যেভাবে ছড়াচ্ছে তাতে পর্যাপ্ত মানুষ সংক্রমিত হওয়া এবং প্রকৃতিকভাবে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করা। এক পর্যায়ে তা ‘হার্ড ইমিউনিটি (সম্প্রদায়গতভাবে রোগপ্রতিরোধী)’ গড়ে উঠবে। এই পর্যায়ে অনেক লোকের শরীরে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে ফলে ভাইরাসটি আর ছড়াতে পারে না।

ধারণা করা হয়, সম্প্রদায়গতভাবে রোগপ্রতিরোধী হতে হলে জনসংখ্যার ৭০-৬০ শতাংশকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে হবে।

তবে এই সমাধানগুলো যে বিষয়টি বিবেচনায় নেয় না, তাহলো কোভিড-১৯’র গঠন পরির্বতনের সক্ষতা। এতে করে ভবিৎষতে ব্যক্তির মেমরি সেলগুলো এই ভাইরাসকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হবে।

দ্বিতীয়বার কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা কতটুকু?

প্রথমে এটা মনে রাখতে হবে যে খুব অল্পসংখ্যক মানুষের প্রতিবেদন আমাদের হাতে রয়েছে। এটাও পরিষ্কার নয় যে তারা নতুন করে আক্রান্ত নাকি আগের সংক্রমণটি পুনরায় দেখা দিয়েছে।

চীনে এ বিষয়ে এক গবেষনা করা হয়, সেখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এন্টিবডি তৈরি করা বানোরগুলো দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হয় কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। আশ্বাসজনকভাবে তারা দেখতে পান, সবদিকে থেকেই তারা সংক্রামণ প্রতিরোধ করতে পেরেছিল।

তবে ইমিউনোলজিস্টরা একমত যে এ বিষয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন। এটা এখনো পরিষ্কার নয় যে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ শক্তি স্থায়ী হবে। সাধারণ সর্দির মতো করোনাভাইরাসের তথ্য গুলো দেখায় যে, এন্টিবডিগুলো অস্থায়ীভাবে প্রতিরোধ করে, এটা সাধারণত তিনমাস স্থায়ী হয়।

তবে কিছু বিশেষজ্ঞ আশাবাদী। লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিকাল মেডিসিনের ইমারজিং এন্ড ইনফেকশন ডিজিজ’র অধ্যাপক মার্টিন হিবার্ড বলেন, ‘এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে গেলে আমাদের আরো প্রমাণ প্রয়োজন। সুস্থ হওয়া ব্যক্তিরা সম্ভব্য পুনরায় এসএআরএ-কোভ-২’তে আক্রান্ত হতে পারে।’ যাকে বলা হয় কোভিড-১৯।     

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.1090 seconds.