• ০৭ এপ্রিল ২০২০ ১৮:৩৪:৩৭
  • ০৭ এপ্রিল ২০২০ ১৮:৩৪:৩৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

আমরাই জাগাবো আবার

ছবি : সংগৃহীত


অমল আকাশ :


তো এবার ছোটাও তোমার পাগলা মেশিন! কোথায় ছুটছিলে অমন ঊর্ধ্বশ্বাসে! হঠাৎ থমকে দাঁড়ালে কেন, একটা ভাইরাসের সামনে? তুমিইতো শিখিয়েছ, উদ্দাম গতিই প্রগতি। মুনাফার জ্ঞানই বিজ্ঞান, বিদ্যুৎ জ্বালবার নাম আলোকায়ন! আর প্রকৃতির প্রতিটি রক্তবমির নাম সভ্যতা!

তবে ছোটাও তোমার সভ্যতার মেশিন, একটা ভাইরাসের দিকে! অথচ কামান, মিসাইল, রকেট, যুদ্ধ বিমান, সামরিক ঘাটি কিংবা গোয়েন্দা বাহিনী, সব বেকার! কারি কারি ডলার, পরমাণু গবেষণা বাঁচাতে পারছেনা? হেই গ্লোবলাইজেশন-

তোমাদের জাতীয়তাবাদী লকডাউনও বাঁচাতে পারছে না তবে! নাকি নতুন ষড়যন্ত্রের বীজ করছো বপন? হেই জাত্তাভিমানী সেনজেন ইউরোপ, নিজেরাই যখন নিজেদের পাশে দাঁড়াতে পারছো না তবে কিসের বড়াই আর দেখাবে তুমি আমাকে? ইইউ, জি-সেভেন, জাতিসংঘ কেউ নেই আজ পৃথিবীর মানুষের পাশে! মুরুব্বী আমেরিকা নিজেই নিজেরে নিয়ে নাস্তানাবুদ। আর সুযোগ সন্ধানী সুচতুর চীন খোঁজে ব্যবসার নতুন ঠিকানা।

মানুষ কি ভুলে গেছে, এই গ্রহ শুধু তার একলার নয়। সকল প্রাণের সাপেক্ষে বিরাজিত সে। কে তবে সনদ দিলো শ্রেষ্ঠ জীবের? কে দিলো স্বীকৃতি, তোমার কর্তৃত্ববাদে-প্রকৃতির বিরুদ্ধে প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণে?
পৃথিবীর বণিকের দল, আমাদের ভালোবাসা পাঠিয়ে দিয়েছে আজ কোয়ারেন্টিনে! তোমার ঠোঁটে নিরাপদ চুমু খাওয়ার দিন ফিরবে কি আর? নাকি ঠোঁটে ঠোঁটে ঘষে নিবো সেনিটাইজার!

কতো কতোদিন আগে মানুষের সিস্টেম চলে গেছে লকডাউনে! আর তুমি কিনা টের পেলে আজ! নির্বোধ গতি, আশাহীন আলোর সভ্যতা, তোমার আমার থেকে কেড়ে নিতেছিলো সবুজ পাতার ঘ্রাণ, মেঘের হামাগুড়ি আর সপ্ত আসমান। যখন ওরা নদীটার শেষ জলবিন্দুটুকু বোতলে ভরে নিলো, যখন প্রাকৃতিক কৃষি ধ্বংস করে মহাখামার গুলো তৈরী করছিলো আর কলা গাছে কাঠাল ফলাতে মাটির শিরায় শিরায় মিশিয়ে দিতেছিলো বিষ-ভিটামিন, সেইদিন থেকে লকডাউনের পথে ছুটে চলেছে মুনাফার দুনিয়া! যখন ধরিত্রীর শরীর থেকে টেনে এনে জীবাশ্ম জ্বালানী, নিরূপায়-বিকল্পহীন হলো ওরা আলো জ্বালাতে। যখন প্লাস্টিকে প্লাস্টিকে ঢেকে দিলো সমস্ত শরীর! যখন আমাজন-আফ্রিকা-তৃতীয় বিশ্বের মানুষের নাম বদলে রাখলো ‘ক্রেতা’ আর ওদের পরিচয় দাতা-বিক্রেতা। সেইদিন থেকে ওরা পৃথিবীকে ঠেলে দিয়েছিলো লকডাউনের দরজায়।

পৃথিবীর শরীর পুড়ছে আজ প্রচণ্ড জ্বরে, তবু বিকারহীন তুমি! পুড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া, আমাজন, মরছে সুন্দরবন, তবু হুস ফেরেনা তোমার! একটা তিমির পেটে দেড় টন প্লাস্টিক ঢুকিয়েও তৃষ্ণা মেটেনা ! উত্তর মেরুর বরফ ভাঙার শব্দেও ঘুম ভাঙেনা তোমার! সাইক্লোন-সুনামির তান্ডবেও ভয় পাওনি তুমি!
জানি করোনা কোয়ারেন্টিনেও পড়তে শিখবেনা তুমি প্রকৃতির ভাষা! বরং নতুন করে সাজাবে তোমার নজরদারী আর স্বাস্থ্য ব্যবসা। নতুন ভ্যাকসিনের গিনিপিগ হবে হয়তো এশিয়া আফ্রিকার গরীব মানুষ। আমেরিকা, চীন নাকি ইউরোপ, ইসরাইল--প্রতিযোগিতায় এবার কে হবে প্রথম? কে বা কারা হবে বলো নতুন মাতবর?

সকল সিদ্ধান্ত যখন মানুষের কাছ থেকে ছিনতাই করে নিয়েছিলো বাইন্যার দল, সেই থেকে তুমি আমি কোয়ারেন্টিনে! কবে ফিরবে আবার সিদ্ধান্তের গণতন্ত্র, সামাজিক আলিঙ্গন? বদ্ধ দরজা জানালার ঘরে ঘরে বিভক্ত হে সমাজ আর তার মানুষেরা, একটা গ্রহের অপমৃত্যুর বার্তা কি টের পাচ্ছো? আমরা কি পৃথিবীর কান্না শুনতে পাচ্ছি? তবে দাঁড়াও এসে বৃক্ষের ছায়ায়, পাতাদের গল্প শোনো। চুপচাপ বসে থাকো নদীটার পাশে,ঢেউয়ে ঢেউয়ে কী বলে সে শোনো কান পেতে। বুক পেতে শোনো আরো কী বলে পৃথিবী, পাহাড়-নদী-সমতলে। সেই সব প্রকৃত কথা ছড়িয়ে দাও টান টান বুকে। যারা হাজার বছর ধরে ঘামে ঘামে গড়েছে দুনিয়া, তাদের সাথে বিরোধ ছিলো না তো জল-মাটি-হাওয়ায়! তবে সেই সব জ্ঞান হোক আমাদের পাঠ্য। যে ভোগ বিবেচনাহীন, সে আমার প্রয়োজন নয়। যে প্রয়োজন পৃথিবীর প্রাণ বিনাশী, সেই পথ প্রগতির নয়! যে জ্ঞান সর্বপ্রাণমুখি, সে আমাদের আগামী পৃথিবীর ইস্তেহার। আর আমাদের সেই পৃথিবী আমরাইতো জাগাবো আবার! তৈরী হও!

লেখক : শিল্পী ও সংগঠক

 

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0684 seconds.