• বাংলা ডেস্ক
  • ০৮ এপ্রিল ২০২০ ১৬:১১:৫৪
  • ০৮ এপ্রিল ২০২০ ১৬:১১:৫৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

কিসের ত্রাণ, আমি কি তাদের বোনকে বিয়ে করব? : সুলতান মনসুর

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। ছবি : সংগৃহীত

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারী ঠেকাতে সারাদেশে সরকার কার্যত অঘোষিত লকডাউন জারি করেছে। এতে করে থেমে গেছে অর্থনীতির চাকা। এমতাবস্থায় কর্মহীন হয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে দিনমজুর-দরিদ্র মানুষরা। তাই সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

তবে জাতীয় মহাদুর্যোগে ব্যতিক্রম নজির গড়লেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। ত্রাণ নিয়ে সরকার, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এগিয়ে এলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নেই জনগণের পাশে, স্থানীয় এমপি। জনপ্রতিনিধিদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।

এই পরিস্থিতিতে সহযোগিতার আহ্বান জানাতে ওই এলাকার এক অসহায় ব্যক্তি ফোন করলে তার সাথে বাজে ভাবে কথা বলেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। এমনকি ওই ব্যক্তিকে হাওরে ডুব দিতে বলেন তিনি। বাবা-মা তুলেও কথা বলেন। ফোনের সেই কথোপকথনের রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

সুলতান মনসুরের সঙ্গে ফোনে কথা বলা ওই ব্যক্তি মৌলভীবাজাররে কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের প্রতাবী গ্রামের বাসিন্দা। তবে তার নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ফোনের কথোপকথন তুলে ধরা হলো :

ত্রাণ চাওয়া ব্যক্তি : ‘হ্যালো এমপি সাব (সাহেব), প্রতাবী থেকে বলতেছি।’

সুলতান মনসুর : ‘প্রতাবী তো একটা জায়গার নাম।’

ওই ব্যক্তি : ‘পূর্ব প্রতাবী হাজি ফুরকান আলীর বাড়ির পাশ থেকে বলছি।’

সুলতান মনসুর : ‘নাম কউ নাম, নিজের নাম কউ।’

ওই ব্যক্তি : ‘বলছিলাম, আপনি এলাকায় নাই নাকি?।’

সুলতান মনসুর : ‘আমি আছি যেখানে থাকার সেখানে। কেন কিতা হইছে?।’

ওই ব্যক্তি : ‘না বলছিলাম; বর্তমান পরিস্থিতে আপনাকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।’

সুলতান মনসুর : ‘তোমাদের ঘরে গিয়ে আমি রান্না করে দেব নাকি?।’

ওই ব্যক্তি : ‘না বলছিলাল; কুলাউড়ায় আসবেন না নাকি?।’

সুলতান মনসুর : ‘কেন আসব না? প্রয়োজনে যাব। ঘর থেকে বের হবে না, শুনোনাই ডাক্তারের কথা?।’

ওই ব্যক্তি : ‘শুনেছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের দিকে যদি একটু খেয়াল রাখতেন।’

সুলতান মনসুর : ‘প্রতি ওয়ার্ডেই তো সাহায্য যাচ্ছে।’

ওই ব্যক্তি : ‘ওসব ত্রাণ তো মেম্বার-চেয়ারম্যানরা দিচ্ছেন।’

সুলতান মনসুর : ‘মেম্বার-চেয়ারম্যানরা দিচ্ছে মানে, তা কি মক্কা শরিফ থেকে এসেছে নাকি?। তারা কি তাদের বাবার ঘর থেকে দিচ্ছে? নাকি তোমার বাবার ঘর থেকে দিচ্ছে?।’

ওই ব্যক্তি : ‘তারা তো তাদের তহবিল থেকে দিচ্ছেন।’

সুলতান মনসুর : ‘তাদের তহবিল কিসের? এটা আমাদের তহবিল। তাদের কোনো তহবিল নেই।’

ওই ব্যক্তি : না বলছিলাম; এলাকার মানুষ আপনাকে নিয়ে নানা কথা বলতেছে।’

সুলতান মনসুর : ‘কি বলতেছে?’

ওই ব্যক্তি : ‘সবাই বলতেছে, আমাদের এমপি সাহেবকে দেখছি না, ভোট দিলাম। তিনি বিপদে আমাদের পাশে নেই।’

সুলতান মনসুর : ‘এমপি সাহেব নাই। কিসের ত্রাণ। তারা আমার বোনকে বিয়ে করবে, নাকি আমি তাদের বোনকে বিয়ে করবো?।’

ওই ব্যক্তি : ‘না, আসলে অনেক মানুষ বলতেছে আপনি এলাকায় আসেন না।’

সুলতান মনসুর : ‘ফালতু মানুষজনের তো আর কোনো কাজকাম নেই। আমি কি এলাকায় বিয়ে করতে যাব? এসব আলাপ আমার সঙ্গে করবা না। যার যার কাজ সে করবে। মেম্বার-চেয়ারম্যান কি বাবার ঘর থেকে খাবার দিচ্ছে?।’

ওই ব্যক্তি : ‘জ্বি হয়, গরিবদের কিছু খাবার দেন।’

সুলতান মনসুর : ‘তুমি গরিবনি?।’

ওই ব্যক্তি : ‘জ্বি হয়, গরিব।’

সুলতান মনসুর : ‘...(অস্পষ্ট)। না পারলে ভূকশিমইল হাওরে গিয়ে ডুব দে। তোমার মা-বাবা তোমাকে জন্ম দেননি?।’

ওই ব্যক্তি : ‘জ্বি, দিছইন।’

সুলতান মনসুর : ‘তোমার মা-বাবাকে খাওয়াতে বল। ফোন রাখো, রাখো টাউট, বাটপার সবটি। রাখো ফোন রাখো।’’

এই কথোপকথনের বিষয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, ‘আমি এসবের কিছুই জানি না।’

এলাকা থেকে ফোনে ত্রাণ সহায়তা চাওয়া কোনো ব্যক্তির সঙ্গে আপনার কথা হয়েছে কিনা- এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আই ডোন্ট নো।’

সূত্র : জাগো নিউজ

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0896 seconds.