• ০৯ এপ্রিল ২০২০ ০১:৪০:১৩
  • ০৯ এপ্রিল ২০২০ ০১:৪০:১৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

লকডাউনের বিকল্প একমাত্র লকডাউনই

ফাইল ছবি


ডা. পলাশ বসু :


করোনাভাইরাস (কোভিড ১৯) যেহেতু মারাত্মক ধরনের সংক্রামক রোগ ফলে একে প্রতিরোধ করার বিকল্প নেই। এজন্য আমরা এতদিন ব্যক্তি পর্যায়ে যে সচেতনতার কথা বলেছি সেটার পাশাপাশি এখন আমাদেরকে  সামষ্টিকভাবে প্রতিরোধের দিকে যেতে হবে। কারণ আমাদের এখানে এর কমিউনিটি ট্রান্সমিশান শুরু হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই।

তাই একে প্রতিরোধ করতে না পারলে আগামীতে এ  ধারা চলমান তো থাকবেই এবং এ ভাইরাসের যে exponential growth বা সূচকীয় বৃদ্ধি হয় বলে যে কথা আমরা জানি সে অনুসারে এর বিস্তার ভয়াবহ রকমের হবে।

আর আমাদের যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ধরণ ও কাঠামো তাতে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে সে চাপ নেয়ার সাধ্য আমাদের নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়ও তা স্বীকার করেছেন। 

এ কারণেই আমাদেরকে অতি দ্রুত আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে হবে এর বিস্তার ঠেকানোর জন্য। যে কোন নিরিখে সেটাই এখন সর্বোত্তম উপায়। তাই লকডাউন এর সাথে সাথে টেস্ট, আইসোলেশান, কোয়ারেন্টাইন এর সুফল পেতে হলে আমাদের দেশের মতো জনবহুল দেশের প্রেক্ষাপটে করণীয় হতে পারে এমন-

★ পুরো দেশকে লকডাউন করার শুরুতেই আমরা পরিকল্পনা করতে পারি যে  প্রথমেই একটা জেলা/মহানগরকে আমরা ভাগ করে ফেলব। মানে পুরো দেশ লকডাউন হলে প্রক্রিয়াটা হতে পারে এমনঃ

মহানগর/জেলা ->থানা/উপজেলা->ইউনিয়ন->গ্রাম->ওয়ার্ড ->মহল্লা (শহরে/গ্রামে প্রযোজ্যভেদে)
 
★ এর মানে হচ্ছে- ঐ জেলা/ মহানগরকে একদম ছোট ছোট এরিয়াতে ভাগ করে ফেলতে হবে। এভাবে ছোট ছোট ভাগ করে আমরা পুরো এলাকার লকডাউন নিশ্চিত করব। অর্থাৎ ছোট ছোট এরিয়ার লকডাউন নিশ্চিত করা মানেই বৃহত্তর পরিসরে লকডাউনকেই নিশ্চিত করা। আর ছোট ছোট এরিয়ায় ভাগ করে ফেললে তাহলে মানুষের চলাচল একেবারেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। ফলে লকডাউনটাও যথাযথ হবে তাহলে।

এজন্য আমাদের যা করতে হবে :
★ রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের  দিকনির্দেশনায় পাড়া/মহল্লা/ওয়ার্ডভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবকবাহিনী  তৈরি করতে হবে। স্বেচ্ছাসেবকবাহিনী যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সাথে একযোগে কাজ করতে পারে তাহলে করোনার বিস্তার বন্ধ করার উপায়সমূহ ফলদায়ক হবে প্রায় শতভাগ। কারণ পাড়া/মহল্লা/ ওয়ার্ডভিত্তিক এ স্বেচ্ছাসেবকবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কোন বহিরাগত মানুষ যেমন এলাকায় ঢুকতে পারবে না তেমনিভাবে বেরও হতে পারবে না। 

ফলে এই কমিটিই  লকডাউনকে সফল করে তুলতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। একইসাথে তারা এলাকাভিত্তিক গরীব মানুষকে চিহ্নিত করে করে তাদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিবে। তাহলে লোকজনকে ত্রাণ দেয়ার নামে একত্রিত করে করে ত্রাণের বাহানায় করোনা ছড়ানোর সুযোগটাও বন্ধ হবে।

শুধু তাই নয়। এই কমিটি এলাকাভিত্তিক অপ্রয়োজনীয় দোকানপাট, আড্ডা জমানোর জায়গাগুলোকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করবে। কারণ শুধু  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবহিনীর পক্ষে মানুষকে ঘরে রাখা, তাদের একত্রিত হওয়া বন্ধ করা যে সম্ভবপর নয় তা তো আমরা দেখতেই পাচ্ছি। এক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরাই যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে।

সেই সাথে এই কমিটি পাড়া/ মহল্লাভিত্তিক সম্ভাব্য করোনা রোগীর টেস্ট, আইসোলেশান ও কোয়ারেন্টাইনের কাজকে হেল্থ কমপ্লেক্স এর নির্দেশনার আলোকে চালিয়ে যাবে। তাহলে করোনা আক্রান্ত হয়েও কেউ ইচ্ছেমতো লুকিয়ে থাকতে পারবে না। বা লুকিয়ে থাকার চেষ্টাও করবে না। কারণ তারা যখন জানবে যে এই  স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের ভালোর জন্য সবকিছু করছে তখন তারা আস্থা ফিরে পাবে। আর  এতে জনমনে চিকিৎসা বা টেস্ট সংক্রান্ত যেসব বিভ্রান্তি বা ভয় আছে  সেসবও তাহলে কেটে যাবে সহজেই।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই স্বেচ্ছাসেবকবাহিনী তৈরি করে পুরো দেশকে এভাবে প্রান্তিক পর্যায়ে ভাগ করে করে লকডাউন, ত্রাণ বিতরণ, টেস্ট, আইসোলেশান ও কোয়ারেন্টাইন করার ব্যবস্থা করাটা কি সরকারের জন্য খুব কঠিন কোন কাজ?

পরিশেষে বলব, ভিয়েতনাম শুরু থেকেই লকডাউনে গিয়ে আজ সফল। উহান প্রায় ৩ মাস পরে লকডাউন থেকে মুক্ত হলো। সিঙ্গাপুর, জাপান অল্প রোগী পেয়েও লকডাউনে গেছে। কারণ অল্প করে হলেও দিন দিন আক্রান্তের হার না কমে বরং বাড়ছিলোই।

আর সেখানে আমাদের অবস্থা কি? আমাদের মতো জনবহুল দেশে তাই পুরো দেশ লকডাউনের বিকল্প অন্য কিছু এখন আর হতে পারে না। কারণ করোনাকে প্রতিরোধ করাই হচ্ছে সর্বোত্তম পন্থা। এ ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। তাই যত দ্রুত সম্ভব একযোগে পুরো দেশকে লকডাউনে নিয়ে একেবারে প্রান্তিক পর্যায় অবধি এর সুফল নিশ্চিত করতে হবে।

আর এত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এরিয়া ধরে ধরে আমরা যদি কাজ করতে পারি আমাদের তৈরিকৃত স্বেচ্ছাসেবকবাহিনীর মাধ্যমে তাহলে সম্ভাব্য রোগীর টেস্ট, আইসোলেশান এবং কোয়ারেন্টাইনও নিশ্চিত করতে পারব। এতে লকডাউনও ফলপ্রসু হয়ে উঠবে। আমরাও তাহলে করোনার বিস্তার রুখে দিতে পারব।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, এনাম মেডিকেল কলেজ

সংশ্লিষ্ট বিষয়

করোনাভাইরাস লকডাউন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0769 seconds.