• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৯ এপ্রিল ২০২০ ১৪:০৭:০৬
  • ০৯ এপ্রিল ২০২০ ১৪:০৭:০৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনাও দমাতে পারেনি মনীষাদের!

অ্যাম্বুলেন্স কার্যক্রম উদ্বোধনে ডা. মনীষা চক্রবর্তী। ছবি : বাংলা

সম্পদ সীমিত, সামর্থ্য কম। তাতে কি? সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রবল ইচ্ছা থাকলে উপায়ও মিলে যায়। ডাক্তার মনীষা চক্রবর্তীর নেতৃত্বে আবারো সেটা প্রমাণ করলো বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের বরিশালের নেতাকর্মীরা। করোনাও দমাতে পারেনি মনীষাদের। সংকট যত প্রকট হচ্ছে, তার সাথে লড়তে নতুন নতুন পথও তৈরি করছেন তারা।

সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবার ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নিয়ে বরিশালবাসীর পাশে দাঁড়ালো মনীষারা। ব্যাটারিচালিত অটো রিকশাকেই অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার উপযোগী করে তুলে বিনামূল্যে সেবা দিতে এগিয়ে এসেছেন তারা। বাসদের বরিশাল জেলা সদস্য সচিব মনীষা চক্রবর্তী ইতোমধ্যে ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন- হতদরিদ্রদের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে। এবার ‘গরিবের ডাক্তার’ বিপদকালীন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসও চালু করে ফেলেছেন।

করোনা আতঙ্কের কারণে যখন জ্বর-শ্বাসকষ্ট সহ নানা ধরনের রোগী বহন করতে ভয় পাচ্ছেন সাধারণ চালকরা সেই মুহূর্তে এই জরুরি সেবা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন মনীষারা। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই মোট ১০টি অটোরিকশার অ্যাম্বুলেন্স তৈরি আছে রোগগ্রস্থ, করোনা আক্রান্ত মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে।

চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। ছবি : সংগৃহীত

মনীষা চক্রবর্তী  বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিভিন্ন জায়গায় শ্বাসকষ্ট ও জ্বরের রোগীর যখন হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে তখন সাধারণ পরিবহনগুলো ভয়ের কারণে তাদের নিতে চাচ্ছেনা।  মর্মান্তিক সব ঘটনার জন্ম হচ্ছে। এর ফলে আমরা এই ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করেছি। আমাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়েই এই কার্যক্রম শুরু করেছি। করোনার দুর্যোগ যতদিন চলবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের এই কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করবো।’

বাসদের বরিশাল জেলার আহবায়ক প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রুমন বাংলাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা মোট ১০টি অ্যাম্বুলেন্স নামানোর অনুমতি পেয়েছি জেলাপ্রাশাসনে আবেদন করে। তাই আমরা এখন ১০টি দিয়েই কাজ শুরু করবো। যেহেতু আমাদের সামর্থ্য সীমিত তাই আমরা অটোরিকশা নিয়েই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস দিচ্ছি। অ্যাম্বুলেন্সগুলো বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। চারিদিক থেকে কাপড় এবং পলিথিন দিয়ে এমনভাবে আটকানো হয়েছে যাতে করে জীবাণু বাইরে যেতে না পারে এবং চালকদেরও ক্ষতি করতে না পারে। এছাড়া এই সার্ভিসের সাথে যুক্ত চালক ও স্বেচ্ছাসেবীরা পিপিই পরা থাকবেন।’

প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সেরই আলাদা নাম আছে। ‘নির্ভয়’, ‘আস্থা’, ‘নির্ভীক’ ইত্যাদি নামে বরিশালজুড়ে চলবে এই বিপদকালীন অ্যাম্বুলেন্সগুলো। এখানে কাজ করবেন ২০ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবী দল। যার ভেতর আছেন বেশ কয়েকজন অটোরিকশাচালকও। যারা এই উদ্যোগে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে বেশি কিছু কর্মশালাও করা হয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।

করোনার প্রকোপ শুরু হতেই নানারকম কার্যক্রম নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন মনীষারা। সচেতনতা সৃষ্টি, ত্রাণ কার্যকম চালু রাখা, স্বাস্থ্যসেবা দেয়াসহ নানা রকম কর্মসূচি নিয়ে মাঠে আছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে মনীষা বলেন, ‘করোনার প্রকোপ থেকে বাঁচতে হলে আমাদের নিয়ম মেনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে ঠিকই, তবে সেই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে যেন আমরা সামাজিক দূরত্ব তৈরি না করি। সামাজিক দায়িত্বটি যেন এড়িয়ে না যাই।’

২০১৮ সালে বরিশাল সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন মনীষা। তবে নির্বাচন শেষ হলেও মাঠ ছাড়েনি মনীষা। নানা রকম কার্যক্রমের মাধ্যমে মনীষা বরিশালবাসীর আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন বরাবরই। বরিশালের বিভিন্ন নাগরিক ইস্যু নিয়ে আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলনসহ বিভিন্ন দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন নিজেদের সীমিত সামর্থ্য নিয়েই- লড়ে যাচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ ও তরুণ ছাত্রদের সাথে নিয়ে।

চলছে  ‘একমুঠো চাল’ ত্রাণ কার্যক্রম :  করোনায় বিপদগ্রস্ত ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য ত্রাণ সামগ্রী সংগ্রহ ও বিতরণ চালু আছে। ‘না খেয়ে একজন মানুষের মৃত্যু মানে আমাদের বিবেকের মৃত্যু’ স্লোগান নিয়ে তারা এক মুঠো চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেন। বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছ থেকে অনুদান পাওয়া অর্থ ও খাদ্য সামগ্রীর মাধ্যমে তারা এই ত্রাণ কার্যক্রম চালু রেখেছেন। দরিদ্র-অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করছেন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য।

চালু হবে মানবতার বাজার :  বরিশাল ফকির বাড়ি রোডে মানবতার বাজার চালু করতে যাচ্ছে বাসদ। শুধুমাত্র হতদরিদ্র-দুস্থদের জন্য এই বাজার চালু করা হবে। হতদরিদ্ররা রেশন কার্ডের মতো একটি কার্ডের মাধ্যমে এখান থেকে তার প্রয়োজনীয় বাজার সংগ্রহ করতে পারবেন।  এখানে চাল-ডাল, তেল-সবজি ও মাছসহ প্রয়োজনীয় সব কিছুই পাওয়া যাবে।

এই বাজার প্রসঙ্গে ইমরান হাবিব রুমন বাংলাকে বলেন, ‘আমরা এমন বাজার চালুর উদ্যোগ নিয়েছি কারণ  যার যেটা প্রয়োজন সে যেন সেটা সংগ্রহ করতে পারে। কার কি লাগবে এটা তো আমরা জানিনা। দেখা গেছে কারো হয়তো এই মুহূর্তে তেল দরকার নেই কিন্তু তার দরকার সাবান বা অন্য কিছু। সে সেটা সংগ্রহ করতে পারবে। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের কার্ড আমরা তাকে দিবো। সে এই কার্ড দেখিয়ে তার প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করে নিতে পারবে। ঠিক যেভাবে আমরা ত্রাণ বিতরন করেছি ঠিক সেভাবেই এই কার্যক্রমও চলবে। প্রতিদিন সকালে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই বাজার চালু থাকবে।’

বাংলা/এএমও/এসএ

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0859 seconds.