• ১৮ এপ্রিল ২০২০ ১৭:২০:১২
  • ১৮ এপ্রিল ২০২০ ১৭:২১:১২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনা মোকাবেলার হাত নেই, আছে অজুহাত

ফাইল ছবি


মাসকাওয়াথ আহসান :


করোনা মড়ক প্রতিরোধে দক্ষিণ এশিয়ার শাসকেরা নিশ্চিতভাবেই ব্যর্থ হতে চলেছে। স্বাভাবিক অবস্থাতেই যারা সুশাসন নিশ্চিত করতে পারে না; জনগণকে দমন নিপীড়ন করে টিকিয়ে রাখে দুর্নীতি ও লুন্ঠন; তারা করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে বিশ্বের অকৃতকার্য রাষ্ট্রগুলোর মাঝেই থাকার কথা।

এখানে উল্লেখ্য যে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স; করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থ- ত্রয়ী রাষ্ট্র যেহেতু করোনা মোকাবেলার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে; সুতরাং চীনের বিরুদ্ধে গ্লোবাল ভিলেজ পলিটিক্স ও মিডিয়া ব্যবহার করে এই মুহূর্তে চায়নাফোবিয়া তৈরির চেষ্টায় ব্যস্ত। এতোকাল নিজের দেশের জনগণের জন্য সুদৃঢ় স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা তৈরি না করে; ইসলামোফোবিয়া তৈরি করে আফগানিস্তান থেকে মধ্যপ্রাচ্য তছনছ করে বিরাট সব পরাক্রমশালী রাষ্ট্রের তকমা জুড়ে নিয়েছিলো এরা। করোনা এসে তাদের প্রতারণা ও অক্ষমতার জায়গাগুলো উন্মোচন করে দিয়েছে।

ব্যর্থ রাষ্ট্র যারা; কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা-পূরণের মুরোদ নেই; তাদেরকেই জনগণকে প্রবোধ দিতে নানারকম মানসিক ফোবিয়া তৈরি করতে হয়। সুষ্ঠু রাষ্ট্র-ব্যবস্থাপনার অক্ষমতা ঢাকতে ইসলামোফোবিয়া তৈরির প্রায় দুই দশক পরে এখন বাজারে এলো চায়না ফোবিয়া।

দক্ষিণ এশিয়ার ব্যর্থ রাষ্ট্রগুলো তাদের দেশে ব্যবস্থাপনা বলে যে কিছুই নেই; রাষ্ট্র হয়ে ওঠার ন্যূনতম যোগ্যতা না থাকা সত্বেও; বিরাট বিরাট রাষ্ট্র নেতা ও হাতাকে জনগণের টাকায় পোষা হয় এই ব্যর্থ রাষ্ট্রগুলোতে। সেখানে সরকারের কর্মীর কর্মের হাত না থাকায় কেবল আছে অজুহাত।

এই দেশগুলোতে শিক্ষা-বিকাশে ন্যূনতম উদ্যোগ নেই; কারণ মানুষ যতদিন শিক্ষা-বঞ্চিত থাকবে; ততদিনই তারা সরকারের নেতাদের 'অজুহাতের গল্প' শুনবে ও বিশ্বাস করবে।

দশকের পর দশক দেশগুলো বেশির ভাগ মানুষকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রেখে; করোনাকালে তাদের অসচেতনতা দেখে দেশগুলোর সরকারের 'সহমত ভাইয়েরা' এসে করোনা প্রতিরোধে ব্যর্থ হবার দায় অসচেতন জনতার ওপর চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করছে। অজুহাত মহাকাব্যের রচয়িতা এই কোলাবরেটরেরা।

বাংলাদেশ-ভারত ও পাকিস্তানের কুসংস্কারাচ্ছন্ন-শিক্ষার অধিকার বঞ্চিত ধর্মান্ধ মানুষেরা মসজিদে দলবদ্ধ হয়ে নামাজ পড়ে ও পূণ্যস্নানে দলবদ্ধ হয়ে, জানাজার নামাজে অংশ নিয়ে বা বাৎসরিক রথযাত্রা উৎসবে অংশ নিয়ে করোনা ঝুঁকি বাড়িয়ে চলেছে।

এটি দেশগুলোর সরকার সমর্থকদের জন্য সুবিধাজনক এক অজুহাত ইসলামোফোবিয়া ও হিন্দুফোবিয়ার প্রকৃষ্ট ক্ষেত্র তৈরি করেছে। ফোবিয়ার জ্বর এসে গেলে করোনা-ভীতি কমে আসে। মরতে মরতে 'সরকারের করোনা ব্যবস্থাপনার' অক্ষমতা ঢেকে দেবার এমন সহজ সুযোগ হাতছাড়া করবে না ব্যর্থ সরকার।

বাংলাদেশ সরকার, অকরোনাকালে 'মতিঝিলের শাপলা চত্বরে'র ইসলামপন্থীদের সমাবেশ সরিয়ে দেবার সক্ষমতা রাখে; কিন্তু করোনাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জানাজার নামাজ বন্ধ রাখতে পারে না। ভারত সরকার পুরো কাশ্মির লকডাউন করে রাখতে পারে অকরোনাকালে; অথচ করোনাকালে তাবলিগ জামাতের সমাবেশ কিংবা কর্ণাটকের রথযাত্রা সমাবেশ বন্ধ রাখতে পারেনা। পাকিস্তান সরকার অকরোনাকালে ইসলামপন্থীদের ফয়েজাবাদ জলসা সরিয়ে দিতে পারে; আর করোনাকালে দলবদ্ধ নামাজ পড়া বন্ধ রাখতে পারে না।

এ ঘটনাগুলো থেকে একটা জিনিস স্পষ্ট হয়ে যায়, কিছু দাগ ইচ্ছা করেই পড়তে দেয়া হয়; যাতে জাতিসংঘ-বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা-র কানে পৌঁছে যায় ধর্মান্ধতার অজুহাত। "কী করবো ভাই; দেশের অধিকাংশ মানুষ ধর্মান্ধ ও কু-সংস্কারাচ্ছন্ন'; তাই করোনা প্রতিরোধ করতে পারলাম না।"

নরেন্দ্র মোদি যেহেতু হিন্দুত্ববাদী, উনি আবার হিন্দুদের ধর্মীয় সমাবেশ বিষয়টিকে পানদানির এক কোণায় রেখে, মুসলমানদের কারণেই করোনাটা ছড়াইয়া পড়লো; এমন ন্যারেটিভ তৈরিতে সচেষ্ট। শুধু এই 'মুসলমানেরা না থাকলে' উনি দলবদ্ধ রাজনৈতিক 'আলোর মিছিল' দিয়ে করোনাকে প্রায় অজ্ঞান করে ফেলেছিলেন যেন।

মোদি করোনাকালে এসেও তার ইসলামোফোবিয়ার অজুহাত চর্চা করে চলেছেন। এতে অবাক হবার কোন কারণ নেই। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে রাষ্ট্র-ব্যবস্থাপনার কাজে অযোগ্য নরভোজিরাই নেতা হয়। করোনাভাইরাসের চেয়ে ভয়ংকর এরা।

লেখক: সাংবাদিক

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0871 seconds.