• ১৯ এপ্রিল ২০২০ ১৬:২৬:০৬
  • ১৯ এপ্রিল ২০২০ ১৭:১৭:০৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিন করোনাভাইরাসকে

আমিনা সুলতানা সানজানা


আমিনা সুলতানা সানজানা :


আপনি নিশ্চয়ই জানেন ১৯৭১ সালে কি পরিমাণ নির্মম নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল বাঙালিদের। ঘর থেকে ধরে ধরে নিয়ে যেমন মানুষকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মারা হয়েছে বড় ছোট দুধের শিশুকে, তেমনি নারীদের জন্য তৈরি টর্চার সেলে নারীদের কোন কাপড় পরতে দেয়া হতো না। যদি ওরা অপমানে, লজ্জায় আত্মহত্যা করে! এর মানে মৃত্যুও অনেক কঠিন ছিল বীরাঙ্গনাদের জন্য।

এরপর দেশ স্বাধীন হলেও সমাজে মিলেনি ঠাঁই। তবুও ওঁনারা কি হেরে গিয়েছিল? নাহ আবার নতুন করে জীবন শুরু করেছেন। বেঁচেছেন, খুব কম হলেও হেসেছেন! সবাই মিলে নতুন দেশে মাথা তুলে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন।

১৯৭৪ সালের বন্যার কথা হয়তো সবাই সেভাবে জানে না। আমিও জানতাম না খুব একটা। ইন্টারনেটে পড়ে শিওরে উঠলাম। ক্ষুধায় অভাবে কোলের বাচ্চাকেও বিক্রি করে দেয় বাবা। আম্মার কাছে শুনেছি ওনারা একদিন ফল কিনে বাড়িতে ফিরছিলেন কিছু ক্ষুধার্ত মানুষ ওনাদের কাছ থেকে খাবার ছিনিয়ে নিয়ে যান। ইন্টারনেটে পাওয়া ১৯৭৪ সালের এই ছবি সেই সময়ের একটি প্রমাণ। সরকারী হিসাবে ২৭০০০ এবং বেসরকারি হিসেবে ১,০০,০০০ মানুষ মারা যায় বাংলাদেশে। স্বাধীন দেশে এমন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ভাবা যায় না। সেই ভয়াবহতা কাটিয়ে মানুষ কিন্তু ঠিকই আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

এরপর ১৯৮৮ সালের প্রলয়ংকারী বন্যায় প্রায় ৫৭০৮ জন মারা গেছেন। প্রায় ৬০% ফসলি জমি তলিয়ে যায়। তারপর ৯৮ বন্যা, ২০০৭ এর সিডর, আরো কত রাজনৈতিক অস্থিরতা! তারপরও বাংলাদেশ আবার দাঁড়িয়েছে!
আজ যে বিব্রতকর চাল চুরি হচ্ছে, এটা আমাদের ইতিহাসে নতুন নয়। আমাদের রক্ত অনেক আগে থেকেই দ্বিধা বিভক্ত। সিরাজুদ্দৌলা পেয়েছিলেন যেমন মিরজাফর, তেমনি ভুলে গেলে চলবে না মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের শত্রু শুধু ওই পাকিস্তানিরাই ছিল না, নিজ দেশের রাজাকারের সংখ্যাও নেহাত কম ছিল না।

৭৪ এর দুর্ভিক্ষের কারণ ঘাটলে দেখা যায় শেখ মুজিবুরের চারপাশে ছিল সব চোর, যাদের তিনি অসম্ভব বিশ্বাস করতেন। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়, হবে।

সেই সাথে এটাও সত্য কাল যেমন মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করে এনেছিলেন, যে মানুষেরা রক্ত মাংস এক করে তিল তিল করে গড়েছে এই বাংলা তারাই বাংলাদেশকে বারেবারে মাথা তুলে দাঁড় করিয়েছে। এটা সত্যি দুষ্টু লোকের সংখ্যা কম হলে আমরা অনেক এগিয়ে যেতাম, কিন্তু এটাও সত্যি আজ আমরা যতটুকু অর্জন করেছি তার জন্য আমরা কি কৃতজ্ঞ নই?

আজ যেমন এক দিকে দুর্নীতি, কথা না শোনা চলছে অহরহ। অন্য দিকে শত বাঁধার মুখে ডাক্তাররা জীবন বাজি রেখে লড়ে যাচ্ছেন। যেখানে সন্তান যায় না, সেখানে পুলিশ ভাইয়েরা লাশ দাফন করে। কত শত তরুণেরা রাতের আঁধারে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে ঘরে ঘরে। আলো আসবে, এদের হাত ধরেই আলো আসবে।

আমি খুব আশাবাদী মানুষ। এই মানুষগুলোর জন্য আশাবাদী হই বারেবারে। কাজ কিন্তু হচ্ছে অনেক।
তাই আসুন আশায় বুক বাঁধি। যে দেশ বারবার উঠে দাঁড়িয়েছে, সে আবার উঠে দাঁড়াবেই। আজ আমার মা, বোন, ভাই, বন্ধু অনেকেই হতাশায় ডুবে যাচ্ছে। ওদের বলছি নিরাশা যেমন আছে, আছে আশার হাত ছানিও। এতো কিছুর পরেও আমরা আবার উঠে দাঁড়িয়েছি, আবারও দাঁড়াবো ইনশাল্লাহ। বাঙালি অনেক খারাপ হতে পারে, কিন্তু ভালোর সংখ্যাও নেহাত কম নয়।

আসুন আমরা নিজেদের এই প্রবোধ না দেই, আমি যেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হই, বরং নিজেকে শক্ত ভাবে বিশ্বাস করাই, আমি আক্রান্ত হলেও, এই রোগ থেকে মুক্ত হবো। আমি ভুলে যাবো মৃত্যুর হার কত। আমি মনে রাখবো সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ৮০%। আমি সকল নিয়ম মানবো। গরম পানি খাওয়া, গারগেল করা, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, হাত বিশ সেকেন্ড পর্যন্ত ধোয়া আমি মানবো। কোন ভাবেই মনোবল ভাঙবো না। আমি মনে রাখবো আমার সন্তানের জন্য আমি লড়বো। লড়বো আমি অদৃশ্য শত্রুর সঙ্গে। আমার মানসিক শক্তিই আমার সম্বল।

নিজে বিশ্বাস করুন এই কথাগুলো, আপনার আপনজনদের বুঝান। এতে নিজের আত্মবিশ্বাস দ্বিগুন বেড়ে যাবে।

আচ্ছা আপনি একটা সুন্দর জামা পরেন কেন? কেন একটি ভালো কবিতা বা গান শোনেন? যখন আপনি ভালো জামা পরে অন্যের সামনে যান এবং কেউ আপনাকে সুন্দর বলে তখন আপনার মানসিক প্রশান্তি হয়। ভালো গান শুনলে আপনি মানসিক প্রশান্তি পাবেন। আমাদের মানসিক প্রশান্তিই কিন্তু পারে আমাদের দিয়ে অনেক কঠিন কাজকে সহজ করিয়ে নিতে। ডাক্তারি ভাষায় বলে শুনেছি মানসিক ভাবে ভালো থাকলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও নাকি বাড়ে।

অতএব বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিন করোনাভাইরাসকে। মনের মধ্যে বিশ্বাস রাখুন আমি জিতে ফিরবোই। যুদ্ধে নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও ছোট বড় সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, কারণ তারা লড়াই করে মরতে চেয়েছিল। এ লড়াইয়ে নিজের সুখ আছে। আত্ম সন্তুষ্টি আছে। আসুন আমরা নিজে শক্ত হাতে মোকাবেলা করি এই কঠিন সময়। অন্যদেরও সাহায্য করি। আলো আসবেই।

লেখক : উদ্যোক্তা

সংশ্লিষ্ট বিষয়

করোনাভাইরাস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0664 seconds.