• অর্থনীতি ডেস্ক
  • ২১ এপ্রিল ২০২০ ১২:৪৭:৪৩
  • ২১ এপ্রিল ২০২০ ১২:৪৭:৪৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

নকল এন-৯৫ মাস্ক : ভুল স্বীকার করেই দায় মুক্তি চায় জেএমআই

ফাইল ছবি

সমালোচনার মুখে পড়ে নিজ ভুল স্বীকার করেছে নকল এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড। সরবরাহকৃত কোনোটি মাস্কই এন-৯৫’র সমতুল্য নয় বলে স্বীকার করে সেগুলো ফেরত নিয়ে এর দায় থেকে মুক্তি চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে এর মধ্যেই করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) সংক্রমিত হয়ে পড়েছেন অন্তত ১৭০ জন চিকিৎসক। জেএমআই করোনা থেকে সুরক্ষায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ২০ হাজার ৬০০ পিস মাস্ক এন-৯৫ হিসেবে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) সরবরাহ করেছিল।

বণিক বার্তা’র প্রতিবেদনে বলা হয়, দুটি চালানের মাধ্যমে জেএমআই সিএমএসডিতে ২০ হাজার ৬০০ পিস মাস্ক সরবরাহ করেছিল। চালানে মাস্কগুলোকে এন-৯৫ ফেস মাস্ক (অ্যাডাল্ট) হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিদর্শনে উঠে আসে, যে মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে বাস্তবে তা এন-৯৫ মাস্ক নয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের ভাণ্ডার ও রক্ষণের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এ ঘটনায় জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেয়ার নির্দেশ দেন।

ওই চিঠির জবাবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, সাম্প্রতিক সময়ে করোনার প্রাদুর্ভাবে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে সংকটময় সময়ে মাস্কের সংকট দেখা দিয়েছে। জেএমআই হসপিটাল স্বপ্রণোদিত হয়ে মাস্ক তৈরির চেষ্টা করছে, যা এখনো প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট পর্যায়ে আছে। যে সময় মাস্কগুলো সরবরাহ করা হয়, তখনো দেশে এন-৯৫’র স্পেসিফিকেশন সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন ছিল না। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে বেশকিছু পণ্য সরবরাহ করে। সরবরাহকৃত পণ্যের সঙ্গে ভুলক্রমে প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট পর্যায়ে তৈরীকৃত ২০ হাজার ৬০০ পিস এন-৯৫ মাস্ক অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা এন-৯৫’র স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে ‘কমপ্লাই’ করে না।

সেখানে আরো বলা হয়, পণ্য উন্নয়নকালে এসব মাস্কে কোনো প্রস্তুতকারক, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ মুদ্রিত হয়নি। পণ্যটি এখনো স্থানীয় বাজারেও বিক্রয় করা হয়নি।

জেএমআই’র এমডি আব্দুর রাজ্জাক চিঠিতে উল্লেখ করেন, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও উপরোক্ত ব্যাখ্যা সদয় বিবেচনাপূর্বক সরবরাহকৃত মাস্ক ফেরত দিয়ে আমাদের অনিচ্ছাকৃত সম্পাদিত ভুলের দায় হতে মুক্তি দানে বাধিত করবেন।’

শুরু থেকেই দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই চিকিৎসকদের সেবা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন। মানসম্পন্ন পিপিই ও মাস্কের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ ছাড়াও সারাবিশ্বের চিকিৎসক-নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরাও করেনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের (বিডিএফ) হিসাব মতে, সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে কমপক্ষে ১৭০ জন চিকিৎসক করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের একজন চিকিৎসক ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারাও গিয়েছেন। নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের যোগ করা হলে এ সংখ্যা আরো বেশি হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, যথেষ্ট সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দেয়ার কারণে চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে করোনায় সংক্রমিতের হার বাড়ছে। মূলত যারা চিকিৎসা সেবা নিতে আসছেন, তারা তাদের রোগ গোপন করছেন। আবার অনেক চিকিৎসক কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের শিকার। চিকিৎসকদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ অন্যদেরও ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। কারণ সেক্ষেত্রে চিকিৎসা নিতে এসে তাদের সংস্পর্শে আরো অনেকেই আক্রান্ত হতে পারেন।

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0648 seconds.