• বাংলা ডেস্ক
  • ২৪ এপ্রিল ২০২০ ১৪:৪৭:১৯
  • ২৪ এপ্রিল ২০২০ ১৪:৪৭:১৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

গ্রামে টাকা পাঠানো বন্ধ করেছেন ৬৯ ভাগ গার্মেন্টসকর্মী

ফাইল ছবি

বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারীর কারণে বন্ধ হয়ে গেছে দেশের পোশাক কারখানাগুলো। এতে করে প্রায় ৬৯ শতাংশ গার্মেন্টসকর্মী গ্রামে তাদের পরিবারের কাছে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় এমন তথ্য উঠে আসে।

গবেষণা, কারিগরি সহায়তা ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা সেবা বিষয়ক ঢাকা-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরামর্শ সংস্থা ‘ইনোভেশন কনসাল্টিং’র সমীক্ষায় এমন চিত্র উঠে আসে। স্বল্প আয়ের পেশাজীবী শ্রেণিদের জীবিকা নির্বাহে কোভিড-১৯’র প্রভাব মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশে বাছাইকৃত (৮৪ জন) ‘গার্মেন্টস কর্মীদের’ ওপর সমীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়।

ওই সমীক্ষায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রকোপের পর ৬৬ শতাংশ নারী শ্রমিক এবং ৬১ শতাংশ পুরুষ শ্রমিক গ্রামে তাদের পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতে পারেনি। আর এপ্রিল মাসের বেতন না পেলে ৯৭ শতাংশ শ্রমিক তাদের গ্রামে টাকা পাঠানো বন্ধ করবেন।

সমীক্ষায় পুরুষ ও নারী শ্রমিকদের ৫২ শতাংশ জানান, তারা গ্রামে টাকা পাঠাতে না পারলে তাদের পরিবারের সদস্যরা না খেয়ে থাকবে। তাদের পাঠানো টাকার মধ্যে ৭ শতাংশ শিক্ষায়, ১৪ শতাংশ ঋণ পরিশোধে, ১১ শতাংশ পোশাক কেনাকাটায়, ৯ শতাংশ বিনোদনের জন্য ব্যয় হয়। এছাড়া ৪ শতাংশ সঞ্চয় করা হয়।

গবেষণা সংস্থাটি জানায়, ‘গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং ময়মনসিংহের সাতটি পোশাক কারখানার ৮৪ জন গার্মেন্টসকর্মীর ওপর আমরা সমীক্ষা চালিয়েছি। এসব কারখানার শ্রমিকদের অবস্থানকে প্রগতিশীল হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে।’

এই সমীক্ষায় লকডাউনের প্রভাবে নিম্ন-আয়ের মানুষের আয় ও ব্যয়ের ধরণ কিভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। পরিবারগুলো কিভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে এবং তাদের সহায়তা করার জন্য কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত সে বিষয়ে ধারণা লাভ করা যায়।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৮৫ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, আর মাত্র কয়েকদিন জীবিকা ধারনের জন্য তাদের হাতে সামান্য পরিমাণ নগদ টাকা রয়েছে। ‘এই উত্তরদাতাদের হাতে নগদ হিসেবে গড়ে ৩ হাজার ৬৮৬ টাকা রয়েছে। যা দিয়ে তাদের পরিবারের ব্যয় ১৬ দিন পর্যন্ত চলতে পারে।’

এ সব গার্মেসন্টকর্মীরা জানান, তাদের কারখানাগুলো বর্তমানে বন্ধ রয়েছে (৬-৯ এপ্রিলের তথ্য)। উত্তরদাতাদের ২৪ শতাংশ ইতোমধ্যে তাদের গ্রামের বাড়িতে ফিরে গেছেন এবং ৭৬ শতাংশ এখনও তাদের কর্মস্থলের আশপাশে বসবাস করছেন। পুরুষ শ্রমিকের ৩৩ শতাংশ ও নারী শ্রমিকদের ১৪ শতাংশ গ্রামে ফিরে গেছেন বলেও সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়।

খাবারের পেছনে ব্যয় সম্পর্কে করা প্রশ্নের জাবাবে তারা জানান, তারা এ খাতে খরচ ২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছেন। কাজ বন্ধ হওয়ার আগে শ্রমিকরা প্রতিদিন খাবারের জন্য গড়ে ২৬৬ টাকা ব্যয় করতেন, যা কমিয়ে ১৯৩ টাকা করেছেন।

মোবাইল-ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট রয়েছে কিনা- এর জাবাবে তারা জানান, প্রায় ৭৯ শতাংশের এটি  রয়েছে, যার মধ্যে ৮৩ শতাংশ পুরুষ শ্রমিক এবং ৭৪ শতাংশ নারী শ্রমিক। তাদের মধ্যে প্রায় ৫৪ শতাংশকে বর্তমানে নগদ অর্থে বেতন দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩৩ শতাংশকে মোবাইল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এবং ১৩ শতাংশ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বেতন প্রদান করা হয়েছে।

সূত্র: ইউএনবি

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0674 seconds.