• ২৪ এপ্রিল ২০২০ ১৫:৩৬:১১
  • ২৪ এপ্রিল ২০২০ ১৫:৪৬:৫৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

গোঁয়ার্তুমির মহোৎসব

ছবি : সংগৃহীত


যূথিকা গোলদার :


যে অঙ্গরাজ্যে বাস আমার, সেখানকার রাজ্যসরকার দেশের মহারাজের একটু ইশারাতেই কয়েক কাঠি বেশি সরস হয়ে ব্যবসা বাণিজ্য খুলে দিয়েছেন। মহারাজ বলেছিলেন যে সকল রাজ্যসরকার তাদের যার যার রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি (মূলত স্বাস্থ্য ঝুঁকি) বিবেচনা করে যদি মনে করেন ব্যবসা খুলে দেবার মত পরিস্থিতি এসেছে তবে মে মাসের এক তারিখ থেকে খুলে দিন।

এই রাজ্যের রাজা মশাই কেম্প, আগে পিছে না ভেবে মহারাজের পদলেহনে সবার আগে এগিয়ে এলেন। কে দেরী করে মে মাস অবধি? প্রায় দু সপ্তাহ আগেই সচল করতে চাইলেন সবকিছু। অথচ জর্জিয়ার অবস্থা যথেষ্ট খারাপ। আক্রান্তের সংখ্যাও অনেক বেশি, আর মৃতের সংখ্যা ৮৭২+। এর মাঝে সেলুন, বার, জিমসহ সকল বিজনেস খুলে দেওয়া মানেই বহু লোকের সমাগম, আর সেই লোকগুলো হয়ে উঠবে এক একটি মানব বোমা। বোমারা বিস্ফোরিত হবে নিঃশব্দে, কেউ জানতেই পারবে না কার আক্রান্ত হবার পালা আসতে চলেছে। যমরাজ হাসি মুখে জ্ঞানপাপীদের মূর্খতার সুযোগ নিয়ে লিস্ট বানিয়ে চলেছে।

এতদিন গ্রোসারির দোকানে বা হোম ডিপো ধরনের দোকানে যে মানুষগুলো যাচ্ছিলো তাদের অন্তত অন্য কোথাও যাবার সুযোগ ছিলোনা। ভাইরাস বহনকারীরা এই একটা দুটো জায়গাতেই ঘোরাঘুরি করছিলো। এখন থেকে শুরু হলো - চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে চলা।

সৌন্দর্য সচেতন মার্কিনীরা চুল কাটিয়ে বা নখের পরিচর্যা করিয়ে চলে যাবেন রেস্তোরাতে খেতে অথবা বারে মদ্যপানের উদ্দ্যেশ্যে।

ইস! ওজন যে বেড়েই চলেছে, যাই জিমে গিয়ে ঝরিয়ে আসি কিছু পাউন্ড। জিমে গিয়ে একই যন্ত্র সকলেই ব্যবহার করবেন, পাশাপাশি শ্বাস নেবেন বদ্ধ ঘরে। তারপর, এই জিম বা রেস্তোরা থেকে অর্জিত করোনা ভাইরাস এবার চললো গ্রোসারি, হোম ইম্প্রুভমেন্ট দোকানগুলোতে। সেখানে ছড়ানো শেষ । এবার সেখান থেকে ভাইরাস চলে যাক বাদবাকি মার্কিনীদের ঘরে ঘরে।

সমুদ্র সৈকতে যাবেন মনের শান্তির সন্ধানে, চার্চে যাবেন আত্মিক শান্তির জন্যে, করোনা ভাইরাসকে সঙ্গে নিয়েই চলবে সবকিছু।

এই গেলো জর্জিয়ার কেচ্ছা। এবার চলুন ঘুরে আসি লাস ভেগাসে। চিত্র তো আরো ভয়াবহ সেখানে। সেখানকার ক্যাসিনো, হোটেল সব খুলে দেওয়া হচ্ছে- বাহ! বাহ!

আর কতকাল মার্কিনীরা আনন্দ উৎসব থেকে বঞ্চিত করবে নিজেদের?

দলে দলে লোক যাবেন ক্যাসিনোতে মজা লুটতে। গাদাগাদি করে মউজে থাকবেন বদ্ধ ঝলমলে ঘরে। আহা! করোনা ভাইরাস এত অনুকূল আবহাওয়া ভারতীয় উপমহাদেশের কিছু মানুষের মাঝে ছাড়া আর কোথাও পেয়েছে কিনা সন্দেহ আছে। ক্যাসিনোর লোকগুলো লাস ভেগাসের রেস্তোরাগুলোতে গিয়ে খানা পিনা করবেন, হোটেলগুলোতে রাত্রিযাপন করবেন। তারপর, তারা সকলে নিজ নিজ ঘরে ফিরবেন- এই ঘর হতে পারে পাশের শহরে, পাশের রাষ্ট্রে অথবা দূরের রাষ্ট্র কিংবা দূরের দেশে।

হাওয়ায় ভেসে চলা ভাইরাসের মহোৎসব চলতেই থাকবে।

ওহে মানব জাতি! আর চায়নাকে দোষ দিয়ে লাভ নেই !

এবার আসুন আঙ্গুল তুলি মহাপ্রতাপশালী মার্কিনীদের উদ্দ্যেশ্যে।

কেয়ার ফ্রি, গোঁয়ার মানুষগুলোর একটু সাবধানতা হয়তো ঠেকাতে পারতো কিছু মৃত্যু।

আমাদের চারিদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে করোনা ভাইরাসবাহী নীরব ঘাতক বোমা। এর মাঝ দিয়ে নিজেদের যতটুকু সম্ভব সাবধানে থেকে প্রতিদিনের শ্বাস নেবার ক্ষমতাকে কে ধন্যবাদ জানাবো, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাবো। আর ক্ষমা চাইবো নিজেদের অক্ষমতার জন্যে, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের আরো ভয়াবহতার দিকে ঠেলে দেবার জন্যে - এ ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির পেছনে শুধু পুঁজিবাদই কি দায়ী? আমাদের কি কোনো দায় নেই?

লেখক : ট্রাফিক ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার, ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রান্সপোর্টেশন, জর্জিয়া।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

করোনাভাইরাস জর্জিয়া

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0608 seconds.