• ২৪ এপ্রিল ২০২০ ২২:২৯:০০
  • ২৪ এপ্রিল ২০২০ ২২:২৯:০০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

কিভাবে কাটছে শিক্ষার্থীদের করোনার দিনগুলো?

ছবি : সংগৃহীত

করোনার ভয়াল গ্রাসে স্থবির হয়ে আছে পৃথিবী। বাংলাদেশের পরিস্থিতিও দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। আর এমন পরিস্থিতিতে যাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে থাকত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস গু‌লো তারাও এখন ঘরের ভিতরে বন্দী জীবনযাপন করছে। করোনার এই ভয়াবহ অবস্থায় কিভাবে সময় কাটাচ্ছেন পাবলিক  বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব শিক্ষার্থীরা? করোনা নিয়ে তাদের বর্তমান অনুভূতি গুলোও কি? তাদের উত্তর তুলে ধরা হয়েছে পাঠকদের উদ্দেশ্য।

আজকে ৩৬তম কোয়ারেন্টাইন। করোনা ভাইরাসের মহামারী থেকে বাঁচতে আমাদের সকলকে লকডাউনে থাকতে হচ্ছে! শব্দটার সাথেও আমার পরিচয় ৩৬ দিন ধরেই। দেশে আর্থিক সংকট দেখা দিচ্ছে, জিডিপি কমে যাচ্ছে, খাদ্য সংকট,  করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। তবে পৃথিবীটা হচ্ছে পরিশুদ্ধ, দেখা দিচ্ছে এক অন্য রকম সৌন্দর্য! যে সৌন্দর্যে দেখা যাচ্ছে বঙ্গোপসাগরে ডলফিন, নতুন লাল কাকড়া, সামুদ্রিক লতা,  অতিথি বহু পাখি, ভোরে দেখা মিলছে শিষ দেয়া দোয়েল পাখির।

প্রকৃতি যেন আমাদের বদ্ধ করে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নিচ্ছে। তবে নিজেকে সাফল্যতার অর্জনের জন্য গড়ে তুলতে এই এক বিশাল অফুরন্ত সময়। আমি আমার কোয়ারেন্টাইন সময়গুলো খেয়ে ঘুমিয়ে শুক্রবার গুনে পাড়ি দেয়ার মধ্যে নেই। অনলাইনের মাধ্যমে আমরা পছন্দ মত শিক্ষনীয় কোর্সগুলো করতে পারছি এখন।

পাশাপাশি চেষ্টা করছি নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে থেকে অসচ্ছল মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে। গল্পের বই পড়ছি, অনলাইনে Discord এ  ডিবেট এ অংশগ্রহণও করছি। এই সময়কে নিজের জন্য কাজে লাগানো প্রয়োজন আমাদের সকলের। নিজের সময়কে শক্তি হিসেবে কাজে লাগাতে হবে, যেন অপর্যাপ্ত সময়গুলো সাফল্য ও শক্তিতে পরিণত হয়।

নাজনীন নাহার মজুমদার, ইসলামিক স্টাডিজ ডিপার্টমেন্ট, দ্বিতীয় বর্ষ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।


করোনার এই মৃত্যুমুখী চোখ রাঙানোর সময়ে প্রত্যেক সচেতন মানুষের মতো আমারও কিছুটা শঙ্কামিশ্রিত দিন কাটছে। যুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষরা যেমন গৃহকোণে লুকিয়ে থাকে, তেমনি করোনার সাথে মুখোমুখি না হতে আমাকেও গৃহবন্দী থাকতে হচ্ছে। ঘরে থেকে ঘুমানোর সময় পাচ্ছি অনেক, ঘুমাচ্ছিও বেশ তৃপ্তি করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় দিচ্ছি, বন্ধুদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি। তাছাড়া কিছু সময় আল মাহমুদ, শক্তি চট্টোপাধ্যায়সহ কয়েকজন কবির কবিতা পড়ছি, ইতিহাসভিত্তিক বই পড়ছি টুকটাক। কবিতার আইডিয়া আসলে মাঝেমধ্যে কবিতা লিখছি।

করোনার সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে সেটা আমাদেরকে ইতালি-আমেরিকার দিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটা কমিয়ে আনতে এখন থেকেই বেশিসংখ্যক টেস্ট করানোর মাধ্যমে আক্রান্তদের দ্রুত আলাদা করা এবং প্রয়োজনীয় খাবারের যোগান দিয়ে অন্যদেরকে ঘরে রাখার পলিসি নেয়া উচিৎ। পৃথিবীর সকল মানুষের সুস্হ আয়ু প্রার্থনা করছি।

মো : আরিফ ইসতিয়াক, দ্বিতীয় বর্ষ, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


ষোলশহর রেলস্টেশনে সকালের ট্রেন ধরে সকাল শুরুটা হতো বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকলে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় এখন বন্ধ। বর্তমানে এককাপ চা দিয়ে প্রতিদিনের সকালটা শুরু হয়।ক্যাম্পাসে দিনগুলোতে ক্লাস শেষে বন্ধুদের সাথে কলার ঝুপড়িতে, ষোলশহরে আড্ডা দিলেও এখন আর তা হচ্ছে না। ক্লাস বন্ধ থাকার কারণে এখন আর একাডেমিক পড়াশোনার চাপ না থাকায় দিনগুলো কাটছে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড যেমন করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, এলাকায় জীবাণুনাশক স্প্রে করে।

এলাকায় দিন আনে দিন খায় এমন লোকের সংখ্যা বেশি। বর্তমানে তাদের কাজকর্ম না থাকার কারণে নিজ উদ্যোগে এলাকার তরুণদের নিয়ে মানুষকে সাহায্যের জন্য একটি ফান্ড গঠন করে ফান্ডের মাধ্যমে এলাকার অসহায় লোকদের সাহায্য করার চেষ্টা করতেছি। এছাড়া দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে গল্পের বই পড়ছি।

ইতোমধ্যে বঙ্কিম রচনাবলি, ইসলামিক বিভিন্ন বই ও গল্পগুচ্ছ শেষ করেছি।পাশাপাশি বাড়ির আশে পাশে কিছু গাছ লাগিয়েছি এবং একটা সবজি বাগান করছি। এখন সেগুলোর যত্ন নিতেছি।এই ভাবে চলছে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের দিনগুলো।

মো. শাহ আজিজ (ইমন), দর্শন বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।


করোনা ভাইরাসের মহামারী ঠেকাতে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের মাধ্যমে নিরাপদ রাখতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মত বিশ্ববিদ্যালয়ও এখন বন্ধ রয়েছে। কবে আবার চালু হবে তার ঠিক নেই! ফলে হাতে অফুরন্ত সময়। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বাড়ির বাইরে যাওয়ার তেমন উপায় নেই। ছোটদের সাথে গল্প এবং নানারকম ইনডোর গেমস, গল্পের বই পড়া এবং একটু একাডেমিক পড়াশোনাও হচ্ছে। এছাড়া ছোটদের পড়াশোনায় সাহায্য করি।অন্যদিকে কিছুটা প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম বিটিভি। রাত ৮টার সংবাদের পর প্রায় সবাই মিলে ধারাবাহিক নাটকগুলো দেখা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং ইন্টারনেটেও কিছু সময় ব্যয় করা হয় সকলের সাথে যোগাযোগ রাখতে এবং সর্বশেষ খবরাখবর জানতে।এর বাইরে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং দুঃস্থদের সহায়তা প্রদানকারী কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকার চেষ্টা করছি।করোনা বিষয়ে সচেতনতাবোধ আরো বৃদ্ধি করা উচিত। ত্রাণ কার্যক্রম যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, দ্রব্যমূল্য যাতে কোনক্রমে বাড়তে না পারে, গুজব যাতে ছড়াতে না সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।সর্বোপরি আমাদের সকলকে সরকারি নির্দেশ মেনে ঐক্যবদ্ধভাবে করোনাকে মোকাবিলা করতে হবে।আল্লাহ আমাদের সহায় হউন।

মো. কামরুল হাসান কিরণ, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ, আইন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।


ক্যাম্পাসের মাঝে যে অদ্ভুত মায়া আছে তা হয়তো এই সময় না আসলে বুঝতাম না। করোনার সংক্রমণের এই দিনে সময় কাটে বই, লেখালেখি,অনলাইন আর মোবাইল ফোনের সাথে। করোনা সংক্রামণের এই সময় আমাদের সকলের উচিত দরিদ্র/দিনমজুর মানুষকে সাহায্য করা এবং করোনা সংক্রমণ কেমন করে প্রতিরোধ করা যায় তা জনসাধারণকে বুঝানো নিজ নিজ অবস্থান থেকে। আমরা নিজে ঘরে থাকবো ও পরিবারের অন্য সদস্যদের ঘরে থাকতে বলবো এবং সকলে সম্মিলিত ভাবে করোনা সংক্রামণ প্রতিরোধ করবো ইনশাআল্লাহ।

মোছা. সানজিদা আক্তার, ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং, দ্বিতীয় বর্ষ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।


মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সকল সাধারণ মানুষের মত আমরা যারা শিক্ষার্থী তাদেরও সময় কাটছে আতঙ্ক  উৎকন্ঠার মাঝে। প্রতিদিনই কেউ না কেউ এই মৃত্যুর মিছিলে শামিল হচ্ছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবরে খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছে। নিজেদেরকে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে পরিবারের সকলের সাথে হাসি-খুনশুটি করছি। এছাড়াও চেষ্টা করছি গ্রামের সহজ সরল মানুষ গুলোকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করতে এবং আসহায় মানুষ গুলোকে যতটুকু সম্ভব সাহায্য করতে।

বিভিন্ন বই, উপন্যাস পড়ছি আর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচরণ করা হচ্ছে খুব। প্রাণপ্রিয় বন্ধুদের ও সিনিয়র ভাই-বোনদের খুব মনে পড়ছে। তাদের এবং তাদের পরিবারের খবর নিচ্ছি যতটুকু সম্ভব। ক্যাম্পাসের  শান্ত চত্বর, শহীদ মিনার, টিএসসি, কাঁঠালতলা আর ক্যাফেটেরিয়ার আড্ডা গুলো ভীষণ মিস করছি। কোরান তিলাওয়াত  এবং প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর দোয়া করছি যেন এই দূর্যোগ মুহূর্ত দ্রুত কাটিয়ে আবার যেন আমরা একসাথে হতে পারি। আবার যেন প্রাণপ্রিয় শিক্ষকদের ক্লাসে বসে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিচরণ করার সুযোগ পাই।

মো. ইয়াছির আরাফাত সবুজ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 1.0800 seconds.