• ২৬ এপ্রিল ২০২০ ০২:৩০:৩৩
  • ২৬ এপ্রিল ২০২০ ১৩:২৮:৫৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

উল্টো রথের যাত্রী

ডা.মহিউদ্দিন আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত


ডা. মহিউদ্দিন আহমেদ :


কোভিড-১৯, সন্দেহজনক কোভিড, নন কোভিড জোনে ভাগ করে নিন।

কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর পরিপ্রেক্ষিতে অনেক দেশেই একের পর এক অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল বানিয়ে যাচ্ছে যাতে বিনা চিকিৎসায় কারো মৃত্যু না হয়। শুধুই কি তাই? চলমান হাসপাতালগুলো রোগীধারণ ক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করলে পরে যাতে অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর রোগীদের ফিল্ড হাসপাতালে পাঠিয়ে জটিল মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসাসেবা বহাল রাখা যায়।

প্রথমে হয়তো ২০ শতাংশ রোগী কোভিড আক্রান্ত ছিল, পরবর্তীতে ৮০ শতাংশ, কোথাও বা আরো বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে সেই হাসপাতালগুলোতেই যারা পেনডেমিক পূর্ববর্তী সময়ে সেবা দিচ্ছিল। তারা ক্রিটিকেল বেড বাড়িয়ে নিচ্ছে, অনেকেই অপারেশন থিয়েটারকে অস্থায়ী ইন্টেসিভ কেয়ার ইউনিটে কনভার্ট করছে। দক্ষ কর্মীবাহিনী তৈরী করছে, নন ক্রিটিকেল কেয়ার স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্রিটিকেল কেয়ার ট্রেনিং দিচ্ছে। সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কমিটি (IPCC) স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে আরো বেশি বেশি ট্রেনিং ও তদারকির ব্যবস্থা করছে এবং সুরক্ষা উপকরণ কেনা কিংবা স্টোরের ব্যপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।

ইউটোপিয়ান বলে গালমন্দ করবেন না।

বংগদেশে যারা টারশিয়ারি লেবেল হাসপাতালের হর্তাকর্তা হিসেবে নিজেদের মনে করেন, প্রশ্ন করুন নিজেদের; আমরা কি উল্টো পথে হাঁটছি না নিরাপত্তার অজুহাতে? ঠেকাতে পারছেন নিজেদের কর্মীবাহিনীকে সংক্রমণের হাত থেকে? নিজেদের কিংবা নিকটজনদের ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারছেন না। কবিড সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ঐ হাসপাতালগুলোয় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন।

রোগীরা কখন ও উপসর্গ গোপন করে না। আমারই ব্যর্থতা। আমিই তো অচ্যুতজ্ঞান করে পাড়ার বাইরে ‘চিকিৎসা’ দেয়ার বন্দোবস্ত করে দিয়েছি। ফলাফল? ভিনদেশে স্বাস্থকর্মীদের বাহবা দেয়, আমরা বাস্তুচ্যুত করি।

সময় ফুরোয়নি এখনও।

তিনটা জোনে চিকিৎসাসেবা দেয়া মোটেও অবাস্তব কিছু না। হাসপাতালের কথা বলছি সরকারি, বেসরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত, ছোট ক্লিনিকগুলোর কথা বলছি না; যাদের পর্যাপ্ত জনবল, যন্ত্রপাতি ও কাঠামো আছে। উপচেপড়া রোগীর সেবা দেয়ার দায় নেয়ার সময় এখন নয়।

কোভিড, সন্দেহজনক কোভিড, নন কোভিড জোনে ভাগ করে নিন। গাইডলাইন দরকার। বেশি দরকার জেলা কিংবা উপজেলা পর্যায়ে, অপেক্ষাকৃত দুর্বলতর স্বাস্থ্যকাঠামো যেখানে। মন্ত্রণালয়ের অনেক দায়িত্ব আছে সেখানে; জনবল, কাঠামো ও সরঞ্জামের ব্যবস্থা করার দায় সরকারের।

আত্নসমালোচনা করুন। আমি যেমন আমার শাসক ও তেমন, এ তো খুবই স্বাভাবিক।

প্রতিরোধের কোন বিকল্প নাই। জনস্বাস্থ্যবিদ, বুদ্ধিজীবী ও প্রশাসনের বিজ্ঞজনরাই ব্যবস্থা নিবেন। আস্থা রাখতেই হবে।

আমাদের কাজটা আমরা করি। স্বাস্থ্যকাঠামো কখন ও সবল ছিল না। কিন্তু যা ছিল তা ও যদি ভেন্গে পড়ে, কোথায় যাবে মানুষ। প্রতিনিয়ত ক্ষরণ হচ্ছে; রোগী, স্বজন কিংবা সহকর্মীদের কাছে অসহায়। এখন ও মহামারীর কঠিন ছোবল পড়েনি। অনেক দুর্বলতা গুছিয়ে নেয়া যাবে, সময় এখনই।

লেখক : কনসালটেন্ট, মেডিসিন ও ক্রিটিকেল কেয়ার বাংলাদেশ স্পেশেলাইজড হাসপাতাল।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

করোনাভাইরাস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.1027 seconds.