• ২৭ এপ্রিল ২০২০ ০৩:০৯:০৪
  • ২৭ এপ্রিল ২০২০ ১০:৪৯:৫৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

এন্টিজেন টেস্ট হতে পারে কোভিভ-১৯ নির্ণয়ে দ্রুততর, সাশ্রয়ী

ছবি : সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের চলমান পরীক্ষায় নানান ঘাটতি। তাই এন্টিজেন টেস্ট হতে পারে কার্যকরী বিকল্প।

(এন্টিজেন টেস্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে খ্যাতনামা এমআইটি টেকনোলজি রিভিউ একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। করোনার অন্যান্য পরীক্ষাগুলোর ঘাটতি কোথায় তা উল্লেখের পাশাপাশি তুলে ধরেছে কার্যকর বিকল্প। পাঠকদের জন্য প্রতিবেদনটি ভাষান্তর করা হলো। কারণ সম্প্রতি বাংলাদেশেও এন্টিজেন টেস্ট, পিসিআর টেস্ট ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে)

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা যতটা হওয়া উচিত তার ধারেকাছেও নেই। (যদিও বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা এই দেশটিতেই হয়েছে)। সাম্প্রতিক এক রোডম্যাপে বলা হয়েছে নিরাপদে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করতে গেলে প্রতিদিন অন্তত দুই কোটির বেশি মানুষের পরীক্ষা করা উচিত। (এখন প্রতিদিন প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার টেস্ট করা হচ্ছে)। পরীক্ষার পরিমাণ বাডাতে হলে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে যেতে হবে; এবং পুরোপুরি ভিন্নরকমের পরীক্ষার দরকার হতে পারে।

কোভিড-১৯ পরীক্ষার প্রমিত মানদণ্ড হলো পলিমেরাস চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) টেস্ট। পিসিআর টেস্টে নাকের সোয়াব থেকে জেনেটিক উপাদান সংগ্রহ করে লাখো কোটিবার কপি করা হয় যাতে কোভিড-১৯-কে চিহ্নিত করা যায় (ভাইরাসটির আরএনএ এতই ক্ষুদ্র যে তাকে চিহ্নিত করা যায় না, তাই এটিতে সহজে চিহ্নিত করতে যত বেশি সম্ভব কপি করা হয়)। পিসিআর পরীক্ষা যথার্থ (পারফেক্ট) নয়, কিন্তু এটিকে ভাইরাস পরীক্ষায় সবচেয়ে সঠিক পদ্ধতি হিসেবে দেখা হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এতে বেশ সময় লাগে, শক্তি ব্যয় হয়, এবং এই পরীক্ষা চালাতে প্রশিক্ষিত লোক লাগে। এ কারণে যত বেশি পরীক্ষা করা প্রয়োজন পিসিআর দিয়ে তা করা কঠিন।

হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের প্রধান ডেবোরাহ বিরক্স বলেন, পিসিআর দিয়ে দিনে ৩০ কোটি পরীক্ষা চালানো কখনই সম্ভব নয়, কিংবা কাজে বা স্কুলে যাবার আগে প্রত্যেককে পিসিআর দিয়ে পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। কিন্তু এন্টিজেন টেস্ট দিয়ে তা সম্ভব।

এন্টিজেন টেস্ট কী? পিসিআর টেস্ট যেখানে ভাইরাসের জেনেটিক উপাদান খোঁজে; এন্টিবডি টেস্ট ভাইরাসের বিরুদ্ধে সক্রিয় হওয়া মনুষ্য এন্টিবডি চিহ্নিত করে; এন্টিজেন টেস্ট সেখানে সংক্রমণের চিহ্ন হিসেবে ভাইরাসের প্রোটিনের খণ্ড বা টুকরো খোঁজে। এই প্রোটিন, যা সাধারণত ভাইরাসের বহিরাবরণে থাকে, তা আকারে বড় তাই নতুন নতুন কপি করে সময় ও শক্তি খরচ না করেই সহজে চিহ্নিত করা যায়।

তাদের উপস্থিতি চিহ্নিত করার অর্থ সংক্রমণ নির্ণয় সময়ের ব্যাপার মাত্র; এবং তা ব্যয়বহুল সরন্জাম, প্রশিক্ষণ ও শক্তির ব্যয় ছাডাই। তাত্ত্বিকভাবে এন্টিজেন টেস্ট বৃদ্ধি করা অত্যন্ত সহজ এবং ঘরে বা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে করা সম্ভব। দেশকে আবার আগের মতো সচল করতে হলে এমন টেস্টই প্রয়োদন।

কিন্তু এন্টিজেন টেস্ট এতো সহজ ব্যাপার নয়। এজন্য ভাইরাসটির জীবনচক্র ও কাঠামো জানতে হবে; চিহ্নিত করতে হবে কোন প্রোটিনটি খোঁজা দরকার।

এন্টিজেন টেস্ট এক অর্থে পিসিআর টেস্টের মতই। দুই পদ্ধতিই কোভিড-১৯ শনাক্ত করার জন্য ভালো। (এন্টিবডি টেস্টের বিপরীত, কারণ সেক্ষেত্রে কেউ আগেই সংক্রমিত বা সেরে উঠলেই কেবল ভালোভাবে শনাক্ত করা যায়)। কিন্তু পিসিআর টেস্টের দুর্বল দিক হলো বারবার ফলোআপ টেস্ট করা ঝক্কিঝামেলার। পিসিআরের ফলাফল সাধারণত দিনে দিনে আসে না।

এমআইটির অধ্যাপক ও হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের শিক্ষক লি গেহরকে বলেন, পিসিআর প্রযুক্তিটি সময়ের সাথে সাথে সংক্রমণের অগ্রগতি চিহ্নিত করার জন্য ভালো নয়। প্রথম দিন রোগী কোভিড-১৯ নেগেটিভ হতে পারেন, কিন্তু পরের দিন তিনি পজিটিভ হতে পারেন। কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে এমন মাঝেমধ্যেই হয়।

তবে পিসিআর পদ্ধতিরই দ্রুতগতির যন্ত্রও আছে, যেমন- অ্যাবট ল্যাবরেটরিজ। পিসিআর ভিত্তিক এই টেস্ট ১৩ মিনিটের কম সময়ে করা যায়। কিন্তু এই যন্ত্র এখনও সহজলভ্য নয়।

বিপরীতে এন্টিজেন টেস্ট খুব দ্রুত ফলাফল দিতে পারে। তার অর্থ প্রয়োজনীয় সংখ্যক বার ফলোআপ টেস্ট করা সম্ভব। যেখানে সেখানে টেস্ট করা সম্ভব। স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হলেন কিনা তাও দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব।

অধ্যাপক গেহরকে বলেন, এন্টিজেন টেস্ট যে পিসিআর টেস্টকে একেবারে বাতিল করে দেবে তা নয়। কিন্তু বেশি বেশি পরীক্ষার সুবিধার্থে পিসিআর এবং অন্যান্য পদ্ধতির পাশাপাশি এন্টিজেন টেস্টকে কাজে লাগানো যায়।

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0970 seconds.