• ২৭ এপ্রিল ২০২০ ২১:৩৫:৩২
  • ২৭ এপ্রিল ২০২০ ২১:৪৩:১৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

চিকিৎসকদের মানসিক স্বাস্থ্য কতটা ভালো থাকবে জানি না


ডা. মারুফ রায়হান খান :


‘ইফতারের ২০ মিনিট এবং ১৫ মিনিট আগে দুজন রোগী এলেন। প্রথমজন যেমন তেমন, দ্বিতীয়জন হার্ট এটাক, হার্ট রেইট নেমে এসেছে ৩৩-এ৷ রক্তনালীর ব্লক ছুটাবার ইনজেকশান, হার্ট রেইট বাড়ানোর ইনজেকশান ইত্যাদি দিয়ে ম্যানেজ করতে করতে কখন যে ইফতারের সময় চলে এলো বোঝা গেলো না।

কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ ইফতারের ব্যবস্থা করার জন্য। তবে হসপিটালে কী আর ইফতার করা যায়! নাকে-মুখে খাচ্ছি যেন কেউ এসে হাজির না হয় খাওয়ার সময়৷ অপরিচিত লোক খাবার সময়ে খুব বিব্রত লাগে৷ নাহ খাবার সময়েই এলো৷ কী আর করা, কথা বলতে হলো। নাকের নিচে মাস্ক নামিয়ে রাখতে অহরহ দেখা যায়, এই মহিলা মুখেরও নিচে মাস্ক নামিয়ে রেখেছেন। বলে মাস্ক ঠিক করাতে হলো।

নামাজ শুরু করেছি। এক মহিলা ঢুকলেন। টের পেলাম৷ ভাবলাম দেখছে যেহেতু নামাজ পড়ছি দরজার বাইরে অপেক্ষা করবে। অবাক হয়ে গেলাম তিনি রুমের ভেতরে এসে ৩/৪ হাত দূরে আমাদের যে বেডগুলো থাকে সেখানে এসে বসলেন। এ কেমন বিব্রতকর অবস্থা। এ কেমন পারিবারিক কার্টেসি তারা শিখে এসেছেন জানি না। দ্রুত নামাজ শেষ করতে হলো অগত্যা। ফরজ নামাজটুকু পড়তে মানুষের কতোক্ষণ লাগে? এতোটুকু সময় কি দেওয়া যেতো না?

এই যে একটা অদ্ভুত পোশাক পরে আছি, দেখতে খুবই ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে। গালভরা নাম আছে পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট। কিন্তু এই পোশাকটি যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নন-এসি রুমে ডিউটি করে সে জানে এর মর্মযাতনা। কীভাবে ভেতরের জামা-কাপড়গুলো ঘেমে ভিজে যায়। দীর্ঘক্ষণ মাস্ক পরে থাকতে থাকতে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়ে যায়, কানের উপরটা ব্যথা হয়ে যায়, নাকের হাড্ডিটা ব্যথা হয়ে যায়। আমার কানের পেছনে আর নাকের উপরটা যদি দেখেন, দেখবেন কীরকম গভীর দাগ। সারাক্ষণ গ্লাভস পরে থাকলে হাতের তালু জ্বলে। পিপিই পরে না যায় ওজু করা, না যায় ওয়াশরুমে যাওয়া...এ কেমন অদ্ভুত বন্দিত্বের জীবন আমি জানি না।

বাংলাদেশে যতো মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, তার শতকরা ১৫ জনের বেশি চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী। শুধু ডাক্তারই ৩৭৩ জন। গত ৬ দিনে আমার কর্মস্থলে ১৯ জন ডাক্তার, ১৭ জন নার্স এবং ১০ জন নার্স আক্রান্ত হয়েছেন। উনারা কেউই কিন্তু করোনা ডেডিকেটেড হসপিটালের কর্মী নন। তাতেই এই অবস্থা ভাবতে পারেন? উনারা জানেন না আক্রান্ত হলে কোথায় চিকিৎসা নেবেন, অবস্থা খারাপ হলে কোথায় যাবেন...এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি...এক অনিশ্চিত গন্তব্যে তাদের যাত্রা...এভাবে চলতে থাকলে কতোদিন চিকিৎসকদের মানসিক স্বাস্থ্য কতোটা ভালো থাকবে জানি না। ইতোমধ্যে অনেক চিকিৎসকই ডিপ্রেসিভ ইলনেস এবং প্যানিক ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসকদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে রোগী সেবায় তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা আছে কি না তাও বলা যাচ্ছে না।’

লেখক: কার্ডিওলজি বিভাগ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

বাংলা/এনএন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0671 seconds.