• বিদেশ ডেস্ক
  • ২৮ এপ্রিল ২০২০ ১৫:৩৪:৫১
  • ২৮ এপ্রিল ২০২০ ১৬:৩০:৪৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ভিড়ের বাতাসে দীর্ঘস্থায়ী হয় করোনাভাইরাস : গবেষণা

ছবি : সংগৃহীত

বায়ুচলাচলের অভাব আছে এমন ভিড়ের জায়গা বা কক্ষের বাতাসে নতুন করোনাভাইরাসকে দীর্ঘ সময় থাকতে দেখা গেছে- একটি গবেষণায় এমন দেখতে পেয়েছেন গবেষকরা। আর এর ফলে ছোট বায়ুবাহিত কণার (এরোসোল) মাধ্যমে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার ধারণাকেই গবেষকরা তুলে ধরেছেন।

২৭ এপ্রিল ব্লুমবার্গে প্রকাশিত Coronavirus Lingers in Air of Crowded Spaces, New Study Finds গবেষণার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের উহানের দুটি হাসপাতালে গবেষকরা ভাইরাসের জেনেটিক উপাদানগুলো বাতাসে ভাসমান অবস্থায় হাসপাতালের টয়লেটে, মানুষের ভিড় আছে এমন আবদ্ধ জায়গা এবং এমন কক্ষ যেখানে চিকিৎসা কর্মীরা প্রতিরক্ষামূলক পোশাক খুলে ফেলে দেয় সেখানে উপস্থিতি খুঁজে পেয়েছেন। তবে, সোমবার জার্নাল নেচার রিসার্চ-এ প্রকাশিত গবেষণায় বায়ুবাহিত কণার মাধ্যমে কোভিড-১৯ সংক্রমণ হতে পারে কি না তা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়নি।

নতুন ভাইরাসটি কীভাবে সহজেই বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে সে প্রশ্নটি এখন বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনে ৭৫ হাজার কেস বিশ্লেষণ করে বলেছে সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতির ভেতরে ছাড়া তারা কোনো বায়ুবাহিত সংক্রমণ খুঁজে পায়নি।

কিন্তু বিশ্বজুড়ে ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া এবং ৩০ লাখ মানুষকে সংক্রমিত করার পেছনে ঠিক কি কারণ বিদ্যমান বিজ্ঞানীরা তা বোঝার চেষ্টা করছেন।

মানুষ যখন শ্বাস নেয়, কাশি দেয়  বা কথা বলে তখন দুই ধরণের জলীয় কণা তৈরি হয়। এসব কণা বাতাসে ভেসে যাওয়ার আগে বড়গুলো মাটিতে বা কোন বস্তুতে পড়ে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে  সেখান থেকেই পরে সংক্রমন ঘটে থাকে। ছোট ছোট কণা (এরোসোল) তারা কয়েক ঘন্টা ধরে বাতাসে থাকতে পারে।

উহান বিশ্ববিদ্যালয়ের কে লান (Ke Lan) এর নেতৃত্বে গবেষকরা শহরের দু'টি হাসপাতাল যেখানে মহামারী শুরুর প্রথম চিকিৎসা কেন্দ্র  হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল তারা সেখানে তথাকথিত এ্যারোসোল ফাঁদ (aerosol trap) স্থাপন করেছিলেন।

তারা হাসপাতালে রোগীর ওয়ার্ড, পাশের সুপারমার্কেট এবং আবাসিক ভবনগুলিতে খুবই অল্প পরিমাণে ছোট কণা পেয়েছিলেন। তবে, সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে, শৌচাগার এবং দুটো জায়গায় যার একটা হাসপাতালের পাশে যেখানে প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল।

তবে, সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে, চিকিৎসা কর্মীরা যে কক্ষগুলোতে প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জামগুলো পরিবর্তন করে। এর অর্থ হচ্ছে, মুখোশ, গ্লোভস এবং গাউনগুলো খুলে ফেলার সময়ে এ জীবাণুগুলো আবার বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।

এ গবেষণা করোনা আক্রান্ত এরিয়াতে বায়ুচলাচল বাড়ানো (ventilation), মানুষের ভিড় কমানো (limiting crowds) এবং সতর্কমূলক স্যানিটেশান ব্যবস্থা (careful sanitation) এর গুরুত্বকেই দারুণভাবে তুলে ধরছে।

পাদটিকা :

ফলে আমরা, ব্লুমবার্গে প্রকাশিত উক্ত গবেষণার উপরে ভিত্তি করে এ কথা বলতে পারি যে-  

(১) এ গবেষণার মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া যে অতি ক্ষুদ্র করোনার জীবাণুর কথা বলা হয়েছে তা এ রোগ সৃষ্টি বা ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করছে -এমন দাবি কোথাও করা হয়নি।

(২) বরং গবেষণায় সুস্পষ্ট করে বলা হয়েছে -তবে, সোমবার জার্নাল নেচার রিসার্চ-এ প্রকাশিত গবেষণায় বায়ুবাহিত কণার মাধ্যমে কোভিড-১৯ সংক্রমণ হতে পারে কি না তা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়নি। (উপরের ২ প্যারা বর্ণিত। যার ইংরেজি লাইনটি হলো এই-The study, published Monday in the journal Nature Research, didn’t seek to establish whether the airborne particles could cause infections.

(৩) এ নিবন্ধের শেষ লাইনে বলা হয়েছে ইংরেজিতে এভাবে-The findings highlight the importance of ventilation, limiting crowds and careful sanitation efforts, the researchers said. এর বাংলা শেষ প্যারায় বর্ণিত।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

করোনাভাইরাস গবেষণা

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0742 seconds.