• বাংলা ডেস্ক
  • ২৮ এপ্রিল ২০২০ ২১:৫৯:১১
  • ২৮ এপ্রিল ২০২০ ২২:১১:০২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

বাস করছি অভিজাতদের বিদ্রোহের কালে

নব্য অভিজাত বা উচ্চবর্গের এই বিদ্রোহ গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে, কিন্তু প্যাঁচটা হলো এই বিদ্রোহ সংঘটিত হচ্ছে জনগণের নামেই

ফাইল ছবি


অর্জুন আপাদুরাই


হোসে ওরতেগা ওয়াই গ্যাসে ২০ শতকের সবচেয়ে ভুলে যাওয়া এক চিন্তক। প্রথার বাইরের এই স্প্যানিশ দার্শনিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমাজবৈজ্ঞানিক কাজ, জনসাধারণের বিদ্রোহ (দ্য রিভোল্ট অব দ্য মাসেস), যাতে তিনি পৃথিবী সম্পর্কে তার সেইসব ভয়ের কথা তুলে ধরেছেন যেখানে উদারপন্থীরা উধাও হয়ে যাচ্ছিল এবং গণমানুষ উঠে আসছিল।

ওরতেগার গণমানুষ দরিদ্র, সহায়সম্বলহীন বা সর্বহারা শ্রেণির চিত্র নয়, বরং গড়পড়তা সাধারণ মানুষের চিত্র, যারা অধিকারহীন নয় বরং তাদের রুচি, স্বভাব-চরিত্র ও মূল্যবোধের কারণে একই পরিণতিতে পড়েছেন। এ কারণে ওরতেগা ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুল ঘরানার পণ্ডিতদের চেয়ে আমেরিকার ধূসর স্যুটধারী পণ্ডিতদের কাছাকাছি ছিলেন। এরপরও ওরতেগা ছিলেন গণমানুষের আদি কণ্ঠস্বর, তা সে গণমানুষ যেরকমই হোক। তাদের তিনি উনিশ শতকের উদারবাদী আদর্শের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে দেখতে পেতেন।

এখন আমি ওরতেগার কাছে ফিরছি, কারণ আমি মনে করি বিশ শতকে গণবিদ্রোহের সবগুলো ধরনই নিঃশেষ হয়ে গেছে। আমরা এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছি, যাকে বলা হয় উচ্চবর্গের বিদ্রোহের যুগ। এই বিদ্রোহী অভিজাত/উচ্চবর্গ হলেন তারাই যারা নরেন্দ্র মোদি, ডোনাল্ড ট্রাম্প, রিসেপ তায়েপ এরদোগান, জাইর বলসোনারো, বরিস জনসন, ভিক্টর অরবান এবং এরকম অনেকের নতুন স্বৈরতন্ত্রের সমর্থন করে, চারপাশে ঘুরঘুর করে, উৎসাহ দেয়, প্রশংসা করে। আর এই নতুন স্বৈরতন্ত্র একটা জিনিস তৈরি করেছে যাকে বলা যায় ’উপর থেকে লোকরঞ্জনবাদিতা’, যেখানে জনগণকে ব্যবহার করা হয় গণতন্ত্র থেকে সরে যাওয়ার নির্বাচনী হাতিয়ার/মাধ্যম হিসেবে।

নব্য স্বৈরাচারী অভিজাতের এমন কর্মকাণ্ডকে কেন ‘বিদ্রোহ’ বলা হচ্ছে? যেখানে তাদের বোঝাতে দখলদারি পুঁজিবাদ, পরিবারতন্ত্র, ছদ্মবেশী নব্য উদারবাদ, বিধ্বংসী পুঁজিবাদের মতো বহু শব্দ রয়ে গেছে? এই নব্য অভিজাতরা কারা, আর কীসের বিরুদ্ধেই বা তারা বিদ্রোহ করছে?

প্রথমত, তারা অন্য সব অভিজাতদের বিরুদ্ধে তারা বিদ্রোহ করছে; যাদের তারা অবজ্ঞা করে, ঘৃণা করে এবং ভয় করে: উদার অভিজাত, সংবাদমাধ্যমের অভিজাত, সেক্যুলার অভিজাত, কসমোপলিটান অভিজাত, উচ্চ (হার্ভার্ড ইত্যাদি) ডিগ্রিধারী অভিজাত, পুরাতন অর্থনীতির অভিজাত, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী ও শিক্ষাবিদ। এরা হলো এমন অভিজাত যারা অভিজাত-বিরোধীতার বেশ ধরে নিজের আভিজাত্য প্রতিষ্ঠা করে।

দ্বিতীয়ত, এই বিদ্রোহ তাদের সবার বিরুদ্ধে যারা সত্যিকারের অভিজাতদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মনে করা হয় এবং যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা পেয়েছে। যেমন- যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গরা; ভারতে মুসলিম ও সেক্যুলাররা; ব্রাজিলে বামপন্থী ও এলজিবিটিরা; রাশিয়ায় ভিন্নমতাবলম্বী, এনজিও আর সাংবাদিকরা; তুরস্কে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সংখ্যালঘুরা; যুক্তরাজ্যে অভিবাসী, শ্রমিক ও ইউনিয়নপন্থীরা। এই বিদ্রোহ তারাই করছে যারা মনে করে তারাই খাঁটি অভিজাত, আর যাদের বিরুদ্ধে করা হচ্ছে তাদের তারা মনে করে অন্যায়কারী অথবা ভুয়া অভিজাত।

তৃতীয়ত, এই নতুন অভিজাতদের বিদ্রোহ সেইসব শেকলে বা বন্ধনের বিরুদ্ধে যেগুলো তাদের উদার গণতান্ত্রিক ভাবধারার সাথে সংযুক্ত রাখে। নিজেদের মধ্যে ছাড়া বাকিদের ক্ষেত্রে তারা স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধকে ঘৃণা করে। তারা ভারসাম্য আনাকে (চেক অ্যান্ড ব্যালান্স) ঘৃণা করে। এটাকে তারা তাদের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে অবৈধ বিধিনিষেধ হিসেবে দেখে। তারা যেকোনো ধরনের নিয়মনীতিকে ঘৃণা করে, বিশেষ করে করপোরেট সুবিধা, যেটিকে তারা পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে মনে করে। পুঁজিবাদকে তারা তাদের ব্যক্তিগত অধিকার বলে মনে করে। আর সর্বোপরি, যুক্তিবাদিতা ঘৃণা করে। তারা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে বিশ্বাস করে না; শুধু যখন তাদের বন্ধুরা আইনসভা ও বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তখন ছাড়া।

নতুন এই অভিজাতদের বিদ্রোহ হলো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে। কিন্তু মজাটা হলো, এই বিদ্রোহ সংঘটিত হয় জনগণের নাম করেই।

এসবের মানে তাহলে কী? খুব সহজ করে বললে, এর মানে হলো নতুন এই অভিজাতদের বিদ্রোহ হলো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে। কিন্তু মজাটা হলো, এই বিদ্রোহ সংঘটিত হয় জনগণের নাম করেই। অন্যভাবে বললে, জনগণ সম্পর্কিত আধুনিক ধারণা- গণ ও গণতন্ত্র এখন সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। ক্ষমতা দখলের জন্য অভ্যত্থান সব সময়ই একটা বিদ্রোহ, সেই অর্থে এটাও বিদ্রোহ। কিন্তু এটি বিপ্লব নয়, যেখানে রাষ্ট্র বা অর্থনীতির মৌলিক পরিবর্তনের ইচ্ছা থাকে। এই বিদ্রোহ এক অভিজাতকে উচ্ছেদ করে আরেক অভিজাতের স্থান নেবার চেষ্টা। 

যদি আমরা সমাজবিজ্ঞানের কিছু প্রশ্ন না তুলি তাহলে এই সবকিছুকে খুবই সাধারণ এবং ঐতিহাসিকভাবে পরিচিত ঘটনা মনে হবে। নতুন ধরনের এই অভিজাতদের স্বভাব কী? কে/কারা এদের অন্তর্ভুক্তির শর্ত নির্ধারন করে? কারা এর পক্ষে কথা বলে? এর সামাজিক শেকড় কোথায়? এই প্রশ্নগুলো খুব দ্রুতই আমাদের সামনে সুনির্দিষ্ট কিছু সমাজ ও রাষ্ট্রকে হাজির করে।

যে অভিজাতদের পক্ষে কথা বলেন তারা এমন ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছেন- তারা বেশি শিক্ষিত নন, তারা অস্থায়ী উদ্যোক্তা কিংবা রাজনীতিক

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে দেখলে দেখা যায়, ট্রাম্প যে অভিজাতদের পক্ষে কথা বলেন তারা এমন ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছেন- তারা বেশি শিক্ষিত নন, তারা অস্থায়ী উদ্যোক্তা কিংবা রাজনীতিক, তারা রিপাবলিকার সিনেটের নিয়ন্ত্রক, এবং রাজনীতির প্রতিটি পর্যায়ের ভাসমান ও চালচুলোহীন লোকজন। এর সঙ্গে রয়েছে নব্য ফ্যাসিবাদী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা (যার মধ্যে পিটার থিয়েলের মতো সিলিকন ভ্যালির আইকনও আছেন), টেলিভিশন ও রেডিও মিডিয়ার অধিকাংশ এবং বর্ণবাদী-লোভী ধর্মনেতা, গির্জা ও দাতাদের বিশাল এক চক্র। এর সঙ্গে যোগ করুন ডানপন্থী থিংকট্যাংকের উঠতি পণ্ডিতরা।

নব্য অভিজাতদের এই চক্র বা নেটওয়ার্কের গভীরে কোনো সাংস্কৃতিক শেকড়, মর্যাদা বা ইতিহাস নেই। এই নেটওয়ার্ক হলো সুযোগসন্ধানী, লোভ আর মুনাফা করার। এর মধ্যে ঐতিহ্যগত কোনো বন্ধন বা মূল্যবোধ নেই।

ভারতের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর অভিজাতদের দিকে তাকালেও একই চিত্র দেখতে পাওয়া যাবে। তারা নির্বাচন ছাড়া বাকি সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রকাশ্যেই ঘৃণা ছড়ান। অর্ধ শিক্ষিত অর্থনীতিবিদ, উঠতি চোর, দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এবং ক্রিমিনাল নেতা ও আইনপ্রণেতাদের একটি বেহায়া শ্রেণি নিয়ে এই গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। নেহেরুবাদী সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষবাদ ও বহুত্ববাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে এই নব্য অভিজাতদের বিদ্রোহ।

এই নেতারা তাদের সব পদক্ষেপের ক্ষেত্রে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল গোষ্ঠী ও সহযোগীদের ওপর নির্ভর করেন। এই সহানুভূতিশীল গোষ্ঠী ও সহযোগীরা বিশ্বাস করে তারা যদি শীর্ষ নেতার সাথে তাল মিলিয়ে চলে তবে তাদের দ্রুত উন্নতি হবে।

এই অভিজাতরা বিশ্বাস করে, ডানপন্থী হিন্দুরাই ভারতের ইতিহাসের উদ্ধারকর্তা যারা মুঘল, ব্রিটিশ ও কংগ্রেসের শাসনের পর জেগে উঠেছে। মুসলিমবিরোধী ভাবাদর্শ, নীতি ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে তাদের ঐক্য। এই বিদ্রোহী অভিজাতদের মধ্যে সত্যিকারের কোনো শ্রেণি-ঐক্য নেই; শুধু রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতির ওপর দখল ছাড়া।

এরদোগান, পুতিন, বলসোনারো, নেতানিয়াহু বা দুতের্তের ক্ষেত্রেও একই রকম চিত্র দেখতে পাওয়া যাবে।
এই নেতারা তাদের সব পদক্ষেপের ক্ষেত্রে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল গোষ্ঠী ও সহযোগীদের ওপর নির্ভর করেন। এই সহানুভূতিশীল গোষ্ঠী ও সহযোগীরা বিশ্বাস করে তারা যদি শীর্ষ নেতার সাথে তাল মিলিয়ে চলে তবে তাদের দ্রুত উন্নতি হবে।

বিশ্বের বিভন্ন দেশে নতুন এই লোকরঞ্জনবাদী স্বৈরতন্ত্রের অভিজাতদের যদি এভাবে চিত্রিত করি, তাহলে তাদের সমর্থক, ভোটার এবং তাদের ভিত্তি সেইসব মানুষ যাদের সম্মতি নিয়েই গণতান্ত্রিক কাঠামো, মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য ধ্বংস করা হচ্ছে, তাদের কীভাবে মূল্যায়ন করবো?

অত্যন্ত কঠিন এই প্রশ্নের খুবই পরিচিত কিছু জবাব অবশ্য রয়েছে। এর একটি হলো- এই স্বৈরাচাররা আবেগ (ভালবাসা, ত্যাগ, ঘৃণা, ক্ষোভের অনুভূতি) বোঝে এবং তা কাজে লাগাতে পারে। কিন্তু তাদের বিরোধীরা তত্ত্ব, নিয়ম ও নীতি নিয়ে ছদ্ম-একাডেমিক যুক্তিতর্কের অথৈ সাগরে হাবুডুবু খায়। 

পরিচিত দ্বিতীয় জবাব হলো- বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কিছু ব্যাপার আছে যার ফলে গরীব ও নিম্নবর্গের মানুষ অধৈর্য হয়ে যাচ্ছে, আর উদারবাদী প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে তার প্রতি বিমুখ হচ্ছে। তারা উন্নতি মর্যাদা সব এখনই চায়, নব্য অভিজাতরা সেটা দেবার অঙ্গীকার করে।

জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে নব্য অভিজাতদের বিদ্রোহই তাদের বিদ্রোহ; এখন তাদের সবার যা করণীয় তা হলো এই দানবীয় নেতাদের নিয়ে উচ্ছ্বাস করা

আরেকটি যুক্তি হচ্ছে, নিম্নশ্রেণির মানুষ তাদের বঞ্চনা, দারিদ্র, অপমান-অপদস্থতা নিয়ে খুবই হতাশ। তারা আগ্রাসী নেতাদের সাথে ঐক্যবোধ করে। আর নেতারাও জানে তারা কী চায় সে অনুযায়ী কথা বলে; নানা বিদ্বেষ ছড়ায় (মুসলিম, শরণার্থী, চীনা, বেদে, ইহুদী, অভিবাসী এমন অনেকের বিরুদ্ধে)। কিছু কিছু দেশের পরিপ্রেক্ষিতে সবগুলো জবাবই কিছু না কিছু অর্থ তৈরি করে।

কিন্তু আমি বলবো, ওরতেগা সবচেয়ে বড় যে অন্তর্দৃষ্টি আমাদের দিয়েছেন তা আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে, আমরা এখন একটা নতুন যুগের শুরুর দিকে আছি, যেখানে গণবিদ্রোহকে নব্য অভিজাতরা আটকে ফেলেছে, অধিগ্রহণ এবং স্থানচ্যুত করেছে। এই আটকে ফেলার সবচেয়ে সমস্যাজনক দিক হলো, জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে নব্য অভিজাতদের বিদ্রোহই তাদের বিদ্রোহ; এখন তাদের সবার যা করণীয় তা হলো এই দানবীয় নেতাদের নিয়ে উচ্ছ্বাস করা। তারাও বিশ্বাস করছে, এই অভিজাতরা সত্যিকারের বিপ্লবীদের চেয়ে দ্রুত সব কিছু ঠিক করে ফেলবে।

বলতে কী, এই নতুন নির্বাচনী জনতা অনুভব করতে শুরু করেছে যে এই নেতাদের লুণ্ঠন/শিকারের ভাগ শিগগিরই তাদের হাতেও আসবে। তাদের হাতে আসা এমন একটি বিষয় হলো, গরীব ও নিম্নবর্গ এখন হত্যা, জখম, নির্যাতন করতে পারে। যদিও পিরামিডের সবচেয়ে নিচের তলার এই মানুষদের জন্য চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা, উচ্চ আয়, নিরাপদ শহর এখনও অনন্ত অপেক্ষার বিষয়, তবু তারা এই আশা নিয়ে বাঁচে যে ঘৃণা যদি পিরামিড বেয়ে তাদের কাছে নেমে আসতে পারে, উন্নতিও আসবে।

অর্জুন আপাদুরাই নিউইয়র্ক ও বার্লিনে শিক্ষকতা করেন। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় গ্রাজুয়েট ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে।

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0949 seconds.