• ২৯ এপ্রিল ২০২০ ১৫:২৩:২০
  • ২৯ এপ্রিল ২০২০ ১৬:০৮:৪৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

কানভালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপি-করোনা চিকিৎসায় নতুন আলো

ডা. ফারহানা নীলা। ফাইল ছবি


ডা. ফারহানা নীলা :


খুব সহজ ভাষায় যদি বলি তাহলে বলতে হবে যে, কোভিড আক্রান্ত রোগী সুস্থ হবার ১৪ দিন পর ডোনার হিসেবে রক্ত দিতে পারেন। 

তার শরীরে এ সময়ে এন্টিবডি তৈরী হয়, যেটা করোনা ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করে করোনাকে হারিয়ে দিতে পারে। রোগীর ইমিউনিটি বাড়ায় এবং রোগী তখন যোদ্ধা হিসেবে জিতে যাবার সুযোগ পান। আমেরিকা, ইরান, ভারত.... এই চিকিৎসার সুফল পেয়েছে।

এই থেরাপি যেভাবে দেয়া হয় :

রক্তের দুটো অংশ থাকে। একটা হচ্ছে রক্তরস, যাকে প্লাজমা বলা হয়। আর একটা অংশ হচ্ছে রক্তকনিকা। রক্তের এই সাদা জলীয় অংশ ‘এ্যাফেরেসিস মেশিন’ এর মাধ্যমে নেওয়া হয়। বাকী অংশ ডোনারের শরীরে আবার ফেরত চলে যায় অটোমেটিক্যালি।

এই সাদা জলীয় অংশে থাকে এন্টিবডি। রক্ত নেবার পূর্বেই ডোনারের রক্তে এন্টিবডির মাত্রা অবশ্য দেখে নেওয়া হয়।

তারপর ডোনার সিলেকশন করা হয়। সুস্থ মানুষ ডোনার হবেন। অন্যান্য কোনো অসুখ থাকলে গাইড লাইন অনুযায়ী রক্ত নেওয়া হবে।

গ্রুপিং,ক্রসম্যাচিং এবং পাঁচটা রোগের স্ক্রীনিং করেই রক্ত নেওয়া হয়। হেপাটাইটিস বি ও সি, এইডস, ম্যালেরিয়া, সিফিলিস.... সাধারণ রক্ত পরিসঞ্চালনের নীতিমালা মেনেই ডোনারের প্লাজমা রোগীকে দেওয়া হবে।

প্লাজমা থেরাপি : ডোজ যেভাবে করা হয়

ধরা যাক একজন ৬০ কেজি ওজনের ডোনার... তাঁর থেকে ৬০০ মিলি প্লাজমা নেওয়া যাবে। কখনো ৮০০ মিলি প্লাজমা নেওয়া যায় ওজন ভেদে।

২০০ মিলি এক ডোজ যদি হয়, তবে ভেন্টিলেটরে থাকা রোগী বা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত রোগীকে এর এক ডোজ দিলে দেখা যাবে করোনার উপসর্গ কমতে থাকবে। তাঁকে ভেন্টিলেটর থেকে বের করা যাবে যদি এই এন্টিবডি কাজ শুরু করে। এভাবে ৩ থেকে ৪ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া যাবে একজন কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হওয়া ডোনারের থেকে। ততদিনে আক্রান্ত রোগীর নিজস্ব এন্টিবডিও তৈরী হতে শুরু করবে। ৭-১৪ দিনের মধ্যে রোগীর নিজস্ব এন্টিবডি কাজ করতে শুরু করে।

প্লাজমা থেরাপি : কমিটি গঠন

পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। গত ১৮ এপ্রিল তারিখে কমিটি গঠিত হয়। পাঁচদিনের মধ্যে তাঁরা গাইড লাইন তৈরী করেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মাজহারুল হক তপন এই কমিটিতে আছেন। ডা আশরাফুল হক, সহকারী অধ্যাপক, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ, এই কমিটির সদস্য নন। তবে তিনি এই প্লাজমা থেরাপি নিয়ে কাজ করছেন।

দেশের প্রথম প্লাজমা ডোনার : পরিচিত হই আসুন

প্রথম প্লাজমা ডোনার হিসেবে আমাদের দেশের ইতিহাসে নাম লেখালেন ডা. জোয়ার্দার রাকিন মঞ্জুর; যিনি কোভিড পজিটিভ ছিলেন। ইতোমধ্যে উনি সুস্থ হয়ে রক্তের সাদা জলীয় অংশ দান করলেন। তাঁর থেকে নেওয়া ৬০০ মিলি প্লাজমা তিনজন মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে পারবে বলে আশা রাখি।

প্লাজমা ব্যাংক তৈরি করে রাখতে হবে। যারা ইতিমধ্যে সেরে গেছেন, তাঁরা স্বেচ্ছায় ডোনার হলেই এই কাজ সফলতার সাথে করা সম্ভবপর হবে।
‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’
আসুন আমরা সবাই যোদ্ধা হই এই জীবন বাঁচানোর যুদ্ধ জয়ের জন্য। 
‘এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’

সম্মিলিত পদক্ষেপে এই যুদ্ধে জিততে হবে সবাইকে। কেউ একা বাঁচতে পারবেন না। সবাইকে নিয়ে বাঁচতে হবে।

অচিরেই হয়তো রোগীর চিকিৎসা শুরু হবে প্লাজমা থেরাপির মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ। 

মানুষ তো আশায় বাঁচে। চলুন আমরা জিইয়ে রাখি বেঁচে থাকার আশা। আসুন আরেকবার প্রমাণ করি বীর বাঙালী হারতে জানে না।

পুনশ্চ : চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় নয়। খুব সহজভাবে সর্ব সাধারণের বোঝার জন্য লেখা। মানুষের খুব কাছে যাওয়ার জন্য লেখা। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য লেখা।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0933 seconds.