• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৯ এপ্রিল ২০২০ ২১:৫০:৫৯
  • ২৯ এপ্রিল ২০২০ ২১:৫০:৫৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনার ছুটিতে বই পড়ায় ঝোঁক ববি শিক্ষার্থীদের

ছবি : প্রতিকী

ববি প্রতিনিধি :

ভালো লাগে না কিছুই। যেতে হয় না বিশ্ববিদ্যালয়ে, নেই ক্লাসের কোন পড়া। তাই সময় কাটাতে একমাত্র উপায় ছিলো ফেসবুক, সেটাও এখন বিরক্তির নাম। বাসার সামনে মামার ফুসকার দোকান পড়ে আছে কিন্তু মামা নেই। জমে না বন্ধুদের সাথে আড্ডা। ঘরে বসে‌ থাকা যেন একমাত্র কাজ। তাই সময় কাটানোর উপায় হিসেবে শুরু করেছি বই পড়া।

‘সাইকো,হলুদ বসন্ত, দ্যা ভিঞ্চি কোড, অপেক্ষা, সাতকাহনসহ ইতোমধ্যেই বিশ্বের(২০) অধিক বই পড়ে ফেলেছি নিমিষেই। যদিও ক্লাসের পড়ার বাহিরে অন্য কোন বই পড়ার আগ্রহ কখনোই ছিলো না তবে করোনা সংকটে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বই পড়ার আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ঠিক এভাবেই বলছিলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আনা।

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বন্ধ যেন চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়েই চলেছে। কবে নাগাদ খুলতে পারে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেই নিশ্চয়তা নেই কারো কাছেই। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস কার্যক্রম অনলাইনে চালু করলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হয়নি তেমন কোন ব্যবস্থা। তাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাসায় বসে নির্জীব সময় কাটাচ্ছেন।

অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সময় কাটালেও সেটা এখন স্বাদহীন হয়ে পড়েছে। তাই ইতোমধ্যেই অনেকেই ধরিয়েছেন বইয়ের নেশা।

ঠিক তেমনি একজন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা তাহসীন মালিহা, ক্লাসের বইয়ের বাহিরে অন্য বই পড়ার আগ্রহ, উৎসাহ তেমন ছিলো না কিন্তু এই দীর্ঘ ছুটিতে দিনের বেশির ভাগ সময় তিনি বই পড়েই কাটান।

তিনি জানান, ‘সারাদিন বাসায় বসে থাকি। নামাজ পড়া, রোজা রাখা ছাড়া বাকি সময় বই পড়ে কাটাই। যদিও বই পড়ার অভ্যাস ছিলো না। তবে এখন বই পড়ায় আগের থেকে মনোযোগ বেড়েছে এবং সময়টাও ভালো ভাবেই পার হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই ম্যাক্সিম গোর্কির-‘মা’, পৃথিবীর পাঠশালায়, সমরেশ মজুমদারের গর্ভধারিণী, প্রিয় আমার, মৈত্রেয়ী দেবীর- ন হন্যতেসহ দশটিরও অধিক বই পড়েছি । সামনের দিনগুলোতে আরো অনেক বই পড়ে শেষ করতে পারবো।

দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এই সময়টাকে অনেকেই বিনা কারণে নষ্ট করতে চান না। তাই কেউ পড়ছেন চাকুরির বই আবার কেউ পড়ে এগিয়ে রাখছেন ক্লাস অথবা কোর্সের পড়া। করোনার কারণে বন্ধ থাকার এই সময়টা অনেকের কাজে নিয়ে এসেছে বই পড়ার অপার সুযোগ।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. কাওছার খান বলেন, ‘বই পড়ার অভ্যাস পুরাতন হলেও এই ছুটিতে তা আরো বেড়ে গেছে। ক্লাস কোর্সের পড়া এগিয়ে রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের নাটক, উপন্যাস ও গল্পের বই পড়ছি। এছাড়াও মাঝে মাঝে চাকুরির বই পড়ে সময় পার করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সুস্থ মানসিকতার জন্য বই পড়া খুবই জরুরি। আর এই সময়টাও অযথা নষ্ট হবে না।’ তাই তিনি এই ছুটিতে সবাইকে বেশি বেশি বই পড়ার আহ্বান জানান।

এছাড়াও লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আফরিন রিতু ও সাদিয়া রহমান, কম্পিউটার সাইন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাহেদ পারভেজ সিয়াম, নেয়ামুল হক এবং মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রকিবুল হাসানের মতো আরো অনেকেই‌ জানান, বর্তমানে এই লম্বা ছুটিতে সময় কাটাতে বই পড়ায় তাদের ঝোঁক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা দিনের বেশিরভাগ সময় বই পড়ে কাটান।

সৃজনশীলতা, মননশীলতা এই সব গুণাবলির বিকাশে বই খুব ভালো বন্ধু। বই পড়ে যে নির্মল আনন্দ পাওয়া যায় তা অন্যকিছুতে প্রায় অসম্ভব। ভালো বই হলো আত্মশুদ্ধির শ্রেষ্ট উপায়।

বাংলা/টিআই/এনএস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0688 seconds.