• অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • ৩০ এপ্রিল ২০২০ ১৪:৪৭:৪৮
  • ৩০ এপ্রিল ২০২০ ১৪:৫৬:২০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

সংক্রমণ রোধে ৩০ হাজার কোটি নতুন টাকা আসছে

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারীতে বির্পযস্ত সারাবিশ্ব। প্রতিদিনই মরছে মানুষ, বাড়ছে সংক্রমণের সংখ্যা। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস টাকার মাধ্যমেও ছড়ায়। তাই সংক্রমণের ঝুঁকে এড়াতে বাজার থেকে পুরনো টাকা তুলে নিয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট ছাড়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র মতে, এজন্য প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট ছেড়ে বাজার থেকে পুরনো টাকা তুলে নেয়া হবে। প্রয়োজন হলে পরে আরো ৫ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট ছাড়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বাজার থেকে ব্যবহৃত পুরনো নোটগুলো তুলে নেয়া দরকার। সবদিক বিবেচনা করেই নতুন নোট ছাপানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যদিও এবারের ঈদে (ঈদুল ফিতর) নতুন টাকার চাহিদা কম থাকবে।

সূত্র আরো জানায়, করোনার সংক্রমণ রোধে ৬০ হাজার কোটি ইউয়ান মূল্যমানের কাগুজে নোট পুড়িয়ে ফেলেছিল চীন। পৃথিবীর অনেক দেশই চীনের পথ অনুসরণ করেছে। বাজারে নতুন নোট ছেড়ে ব্যবহৃত নোট তুলে নিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও। বাংলাদেশ ব্যাংকও একই কাজ করতে যাচ্ছে।

দেশে টাকা ছাপানো ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। বিভাগটির তথ্যমতে, আগে থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে ১ হাজার টাকার বিপুল পরিমাণ নোট মজুদ ছিলো। ফলে নতুন করে ১ হাজার টাকার নোট ছাপানো হচ্ছে না। এবার সবচেয়ে বেশি ছাপানো হবে ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০, ২০ ও ১০ টাকার নোট। এর মধ্যে ৫০০ টাকার নোট ছাপানো হচ্ছে ৩৭ কোটি। এ হিসাবে সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা মূল্যমানের ৫০০ টাকার নোট ছাপানো হবে। আর মুজিব বর্ষ উপলক্ষে চালু করা ২০০ টাকার নোট ছাপানো হচ্ছে ২০ কোটি। এছাড়াও ৩৫ কোটি নোট ছাপানো হচ্ছে ১০০ টাকার। তবে সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ছাপানো হচ্ছে ৫০, ২০ ও ১০ টাকার নোট।

সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, করোনা কাগুজে নোটের মাধ্যমে গণহারে ছড়ানোর বিষয়টি এখনো প্রমাণিত নয়। এরপরও সতর্কতামূলক বিশ্বের অনেক দেশই বাজার থেকে পুরনো নোট তুলে নিয়ে নতুন নোট ছাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও সেই পথে হাটছে। এটা ভালো উদ্যোগ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ডিমান্ড-সাপ্লাই নীতি অনুসরণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সারা বছরই বাজারে নোট সরবরাহ করে। প্রতি ঈদের আগেই বাজারে নতুন টাকা ছাড়া হয়। তবে এবারের ঈদের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। করোনাভাইরাসে সৃষ্ট দুর্যোগ ও অন্য সবদিক পর্যালোচনা করেই বাজারে নতুন নোট ছাড়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত ঈদেও বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট ছেড়েছিল। এবার ২৫ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ছাড়া হতে পারে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।’

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0748 seconds.