• ৩০ এপ্রিল ২০২০ ২১:১৪:৪১
  • ৩০ এপ্রিল ২০২০ ২২:১৪:৩৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

এই দেশ, এই কাল

ছবি: সংগৃহীত


আশরাফ রাসেল


"থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রি'তে একটা মানুষের মৃত্যু, একটা আনন্দময় ঘটনা" - হুমায়ূন আহমেদের 'ঘটনা সামান্য' নাটকের একটি সংলাপ। বাংলাদেশে চলছে মৃত্যুর মহড়া। করোনাকালের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বিশ্বের সমস্ত অপারগতা যেন বাংলাদেশের উপর ভর করছে। এখানে একজন মানুষের মৃত্যুকে দেখা হয় একজনের আহার জোটানোর দায় থেকে মুক্তির আশির্বাদ হিসেবে।

গণনস্বাস্থ্য আবিষ্কৃত র‍্যাপিড কিট নিয়ে  টালবাহানার রাজনীতি অন্তত এই বিষয়টি পরিষ্কার করে। সেই সাথে আমলাতান্ত্রিক গণতন্ত্রের দ্বার সদম্ভে উন্মোচিত হয়।

২. প্রতিটি ইস্যুতে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের তুলনা করা এক ধরনের হীনমন্যতা। ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা তাৎক্ষণিক প্রণোদনা ঘোষণা করার ক্ষমতা যে দেশের থাকে তাকে গরীব বলে অক্ষম করে দেয়াটা অন্যায়। করোনার মোকাবেলায় এই বরাদ্দ অনেক বেশি এবং যথেষ্ট। অথচ এই দেশই ১ কোটি ২৫ লাখ প্রবাসীর (৩০ সেপ্টেম্বর'১৯, প্রথম আলো) ১৪ দিনের দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হয়। যাদের রক্তক্ষয়ী ঘামে দেশে বড় বড় চেয়ারের জন্ম হয়। আবার ৮ দিন পার না হতেই প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন থেকে বের করে দেয়ার খবরও পাওয়া যায়।

৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ১৮ কোটি লোকের প্রত্যেকে যেখানে ৪০০০ টাকা করে পায়, সেখানে পরিবার প্রতি ২০০০ টাকা পেলেও নির্দিধায় জনমানুষ এই করোনা যুদ্ধকে সফল করতে লেগে পড়তো। ছিল না ডাক্তার কিংবা চাকুরীদের বিশেষভাবে প্রণোদনা দেবার কোন প্রয়োজন; অথবা ত্রাণের নামের নেতার বাড়িকে খনিতে রুপান্তর করার;  লকডাউনের তাড়না থেকে বাঁচতো জনগণ এবং অর্থনীতি। বিপরীতে, লকডাউনের এ কালে জনগন করোনার কাছে জীবন সপে দিয়েছে। পেটের দায়ের কাছে মানুষ অসহায় হয়ে। অমিতাভ চক্রবর্তীর ভাষায়, বিপদে পরলে বাঘেও ধান খায়।

জে. নোভাক লিখেছেন, ১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষের প্রধান কারণ  তৎকালীন সরকারের অযোগ্যতা এবং চোরের পৃষ্ঠপোষকতা। ২০২০ কে আমরা কোন চোখে দেখবো? সেলফিবাজ সদ্য কৃষকের তালিকায় যাদের নাম উঠেছে তাদের দ্বারা রাষ্ট্রীয় সহায়তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব নয় কেন?

৩. বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. সাইফুল্লাহ মুন্সীর বক্তব্য অনুযায়ী (৭ এপ্রিল, একাত্তর টিভি) প্রোজেকশন মডেল অনুসারে লকডাউনের সফলতা পেতে ৯০% লকডাউন সফল প্রয়োজন। শিকল ছেঁড়া লকডাউন কি সেই মুক্তির সফলতা আনতে পারবে? তার উত্তরে লাগাতার লকডাউনে জনগণের দূর্ভোগ বাড়ছে ক্রমশ। লকডাউনের লকআপ ভেঙ্গে ভুখা মিছিল যার উৎকৃষ্ট সাক্ষ্য দেয়। অপরদিকে এই লকডাউন বনাম শ্রমিকের যে গোল্লাছুট খেলা চলছে তার সমন্বয়হীনতার দায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রকাশ করেছেন করোনা প্রতিরোধে জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান হয়েও। যা দুঃখজনক।

এই সিদ্ধান্তহীনতা, সমন্বয়হীনতা, অপতৎপরতা, রাষ্ট্রনীতির অপকৌশলের প্রয়োগ এবং দায় এড়ানোর রাজনীতি বাংলাদেশ কবে অতিক্রম করতে পারবে?

লেখক:  সদস্য, রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন ও গকমিটি, কুড়িগ্রাম।

বাংলা/এনএন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

করোনা বাংলাদেশ রাজনীতি

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0772 seconds.