• বিদেশ ডেস্ক
  • ০১ মে ২০২০ ১৯:৫০:১৩
  • ০১ মে ২০২০ ১৯:৫০:১৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

মেয়েদের যৌনাঙ্গহানি নিষিদ্ধ হলো সুদানে

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের কমপক্ষে ৩০ টি দেশে বয়োঃপ্রাপ্তির পূর্বেই মেয়েদের যৌনাঙ্গ কেটে সেলাই করে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটে থাকে। এর উদ্দেশ্য অবশ্য বিভিন্ন দেশে বিভিন্নরকম। তবে, সামাজিক নিয়ম, মেয়েদের যৌন ইচ্ছা কমিয়ে দেয়াসহ অন্য কোন পুরুষের সাথে যাতে যৌনসম্পর্ক স্থাপন না করতে পারে- মোটামুটিভাবে যৌনাঙ্গহানির জন্য এসবই প্রধানতম কারণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০ কোটি মেয়ে এই ধরণের যৌনাঙ্গহানির শিকার হয়।

এদিকে, জাতিসংঘের মতে ১৪ থেকে ৪৯ বছর বয়সী সুদানী মহিলাদের মধ্যে প্রায় ৮৭% মহিলারা এই ধরণের যৌনাঙ্গহানির শিকার হয়ে থাকে। ইংরেজিতে একে বলে ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশান (এফজিএম), বস্তুতঃ নারীদের জন্য যা খুবই অবমাননাকর। অনেক দেশে এটাকে পুরুষদের মতো নারীদের জন্য ‘সুন্নতে খতনা’ হিসেবে দেখা হয়।

দেখা যায়, নিষিদ্ধ হওয়ার আগে সুদানে ধাত্রীর কাছে গিয়ে গোপনে অপারেশন করাতে বাধ্য হয়েছিলেন এক মহিলা- তার বিয়ের ২ মাসের মাথায়। কারণ এটা করা না হলে তার স্বামী তাকে সন্দেহের চোখে দেখতে পারে।

তিনি বলছিলেন, এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল এবং আমার সুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাকে কয়েকদিন ধরে আমার এক বন্ধুর সাথে থাকতে হয়েছিল। কারণ আমি আমার মা'কে জানাতে চাইনি। তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশেও অনিচ্ছুক ছিলেন।

যৌনাঙ্গহানি করার জন্য মহিলাদের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক যৌন অংশ এবং সাধারণত ভগাঙ্কুরটি কেটে বাদ দিয়ে সেলাই করে যোনিপথকে ছোট করে দেয়া হয়। এর ফলে দেখা যায় পরবর্তীতে মেয়েরা যৌনকাজে অংশ নিতে গেলে ব্যথা পায়। ধারণা করা হয় এর ফলে মেয়েরা বিয়ের আগে ও পরে অন্য কোন পুরুষের সাথে যৌনকাজে অংশ নিতে অনীহা বোধ করবেন।

তাছাড়া এর ফলে নারীদের মূত্রনালী, জরায়ু, কিডনিতে সংক্রমণ, সিস্ট, প্রজনন সমস্যা সহ নানাবিধ সমস্যা হতে থাকে। দেখা যায় এ কারণে যৌনাঙ্গহানি করা এসব মেয়েদের নানাবিধ জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় পরে চিকিৎসার জন্য অপারেশানও করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এ কারণে এটা বন্ধ করার জন্য নানাভাবে এসব দেশের উপর চাপ বাড়ছিলো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যৌনাঙ্গহানিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে ফৌজদারি আইনের সংশোধনীটি ২২ এপ্রিল সুদানে পাশ হয়েছে।

আইনের সংশোধনীতে বলা হয়েছে, যে কেউ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বা অন্য কোথাও মেয়েদের যৌনাঙ্গহানি বা ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশান ( এফজিএম) করলে তাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং সেই সাথে জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

যৌনাঙ্গহানি সুদান

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.1510 seconds.