• বিনোদন ডেস্ক
  • ০৩ মে ২০২০ ১৪:৩১:৪২
  • ০৩ মে ২০২০ ১৪:৩১:৪২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ঋষি’র এক ‘না’ ভাগ্য খুলে দেয় মিঠুনের

ফাইল ছবি

তখন বলিউডের সুপারস্টার ঋষি কাপুর। একের পর এক হিট সিমেনায় পর্দা কাঁপিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আর মিঠুন চক্রবর্তীর পায়ের নিচের মাটি তখনো আলগা। তেমন নামডাক হয়নি তার। যৎসামান্য যা পরিচিতি, তা-ও আবার অ্যাকশন হিরো ও ড্যান্সার হিসেবে। এমন সময় ঋষি কাপুরের ফিরিয়ে দেয়া এক সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে ভাগ্যের শিকে ছিঁড়ে মিঠুনের। এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ বিষয়টিই তুলে এনেছে ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার।

১৯৮০ সালে যখন ঋষি কাপুর বলিউড মাতিয়ে যাচ্ছেন, তখন ‘প্যায়ার ঝুকতা নেহি’ নামের একটি সিনেমার জন্য তার দ্বারস্থ হন পরিচালক কে সি বোকারিয়া। রোমান্টিক ঘরানার সিনেমাটির জন্য ঋষিকেই যুৎসই ভাবছিলেন পরিচালক। তাই তাকে ছবিটিতে অভিনয়ের অফার দেন বোকারিয়া।

কিন্তু ততদিনে ‘জমানে কো দিখানা হ্যায়’ নামের সিনেমায় দুই বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে গেছেন ঋষি কাপুর। তার হাতে সময় ছিল না। আরো একটি সিনেমার চুক্তিও ছিল তার। পরিচালক বোকারিয়া পড়লেন মহাবিপাকে। সিনেমার কাজও শুরু করতে হবে দ্রুত। অগত্যা তিনি শরণাপন্ন হন তখন পর্যন্ত গড়পড়তা অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর। যার পরিচয় কেবল মারদাঙ্গা সিনেমায় অভিনয় আর ড্যান্সার হিসেবে। যদিও রোমান্টিক সিনেমাটির সঙ্গে তার চরিত্র কতটুকু যাবে এসব ভেবেও ঝুঁকি নিয়ে পরিচালক বোকারিয়া নেমে পড়লেন নির্মাণে।

মিঠুনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ‘প্যায়ার ঝুকতা নেহি’র শুটিং শুরু করেন বোকারিয়া। এর আগেই অবশ্য মিঠুন ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ নামের সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন। এ সিনেমায় তাকে একজন অ্যাকশন হিরো এবং ডান্সিং স্টার হিসেবে দেখা যায়। ‘প্যায়ার ঝুকতা নেহি’র শুটিং চলাকালেই ১৯৮২ সালে মুক্তি যায় ‘ডিস্কো ডান্সার’। আর সাথে সাথেই সুপারহিট হয় সিনেমাটি। এই ছবির পর থেকেই বলিউড এমনকি গোটা দেশজুড়ে মিঠুনের জনপ্রিয়তা এক লাফে ‍তুঙ্গে উঠে।

১৯৮৩ সালে শেষ হয় ‘প্যায়ার ঝুকতা নেহি’ সিনেমার শুটিং। মুক্তির অপেক্ষা থাকা এ সিনেমাটি নিয়ে ডিস্ট্রিবিউটররা শঙ্কায় ছিলেন। মিঠুনের মতো একজন অ্যাকশন এবং ডান্সিং হিরোর রোমান্টিক সিনেমা কতটা সফল হবে তা নিয়ে একটা দোলাচল ছিল। ফলে পুরো শুটিং শেষ হওয়ার পরেও দু‘বছর ঝুলেছিল সিনেমাটির মুক্তি।

কেউ যখন সিনেমাটির মুক্তির ব্যাপারে আগ্রহী হচ্ছিলেন না, পরিচালক বোকারিয়া নিজেই মুক্তি দেন সেটি। মুক্তির সাথেসাথেই ব্লকবাস্টার হিট হয় সিনেমাটি। এমনকি এর জন্য সিলভার জুবিলি পুরস্কারও পান পরিচালক বোকারিয়া। দর্শকরাও এই ছবির মধ্যে দিয়ে এক নতুন মিঠুনকে আবিষ্কার করেন। রোম্যান্টিক হিরো হিসেবেও অসামান্য অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয় আরেকবার জিতে নেন মিঠুন।

‘প্যায়ার ঝুকতা নেহি’ ছবিটি রোম্যান্টিক হলেও বোকারিয়া মিঠুনের কথা ভেবেই ছবির মধ্যে অ্যাকশন, নাচও জুড়ে দিয়েছিলেন। আর এটাই হয়েছিল বোকারিয়ার সাফল্যের জাদুকাঠি। সফল হয়েছিলেন মিঠুনও। এটি যখন ব্যাপক হিট হল, ঋষি কাপুর নাকি সিনেমাটি ছেড়ে দেয়ায় খুব আক্ষেপ করেছিলেন। অনেক সাক্ষাৎকারেও এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি। তবে ‘প্যার ঝুকতা নেহি’ ছবির অফার ফিরিয়ে দিলেও বোকারিয়ার পরের ছবি ‘নসিব আপনা আপনা’ ছবিতে কিন্তু ঠিকই স্বাক্ষর করেছিলেন ঋষি। এবং সেই সাথে কথা দিয়েছিলেন, বোকারিয়ার কোনও ছবির অফার ফেরাবেন না।

এক সাক্ষাৎকারে বোকারিয়া জানিয়েছিলেন, এক দিন রাতে তার অফিসে ‘নসিব আপনা আপনা’ ছবির বিষয়ে কথা বলতে আসেন ঋষি। ঘরে ঢুকেই সামনে রাখা ‘প্যায়ার ঝুকতা নেহি’ সিনেমার পুরস্কারটির উপর তার চোখ পড়তেই বলেন ওঠেন, ‘আরে এই ট্রফিটা তো আমারই পাওয়ার কথা ছিল!’ বোকারিয়া পাল্টা বলেছিলেন, ‘সবই ভাগ্যের ব্যাপার!’

এরপর বোকারিয়ার ‘নসিব আপনা আপনা’ সিনেমায় অভিনয় করেন ঋষি কাপুর। মুক্তির পরপই সুপারহিট হয় সিনেমাটি। এরপরও ‘প্যায়ার ঝুকতা নেহি’ ছেড়ে দেয়ার আক্ষেপ রয়েই যায় তার। আর  তার সেই ‘ভুল’ই  মিঠুন চক্রবর্তীকে নতুন রুপে দর্শকদের সামতে তুলে আনে।

বাংলা/এসএ/

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0656 seconds.