• বাংলা ডেস্ক
  • ০৪ মে ২০২০ ১৭:৪০:৩৫
  • ০৪ মে ২০২০ ১৯:৩৭:৫৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনার ভ্যাকসিন কখনোই তৈরি না হলে কী হবে?

ছবি : সংগৃহীত

জনমনে এখন বিশাল আশা যে, সামনে করোনার ভ্যাকসিন আসছে। এ সংক্রান্ত খবর আমরা বিভিন্ন সময়ে দেখতে পাচ্ছি। সেটা হলে তো খুবই ভালো। কিন্ত ভ্যাকসিনের ইতিহাস বলছে, এমন আশাবাদী অবস্থাও যেকোন সময় ব্যর্থতায় পরিণত হতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে, যদি সত্যি সত্যিই কোন ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত না হয়, তাহলে করোনার এ প্রাদুর্ভাবের মাঝেই কেমন হতে পারে আমাদের জীবন? কী অপেক্ষা করছে আমাদের সামনে?

সিএনএন প্রকাশিত এমন একটা প্রতিবেদন যেখানে উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে বিস্তারিতভাবে। 

লকডাউনে প্রতিটা দেশ স্থবির হয়ে পড়ায় এবং কোটি কোটি মানুষ তাদের জীবন-জীবিকা হারাতে থাকায়, জনসাধারণ একটি যুগান্তকারী ঘটনার দিকে তাকিয়ে আছে তা হচ্ছে- একটি ভ্যাকসিন।

তবে একটি সবচেয়ে খারাপ সম্ভাবনার কথাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। যদি কখনো কোনো টিকা তৈরি করা সম্ভবপর না হয় তখন কী হবে? এর উত্তর হচ্ছে, তখন কোভিড -১৯ কে নির্মূল করে ফেলার পরিবর্তে আমাদের এর সাথেই বাঁচতে শিখতে হবে। লোকালয়গুলো ধীরে ধীরে উন্মুক্ত হবে এবং কিছু কিছু বিষয়ে জনগণের স্বাধীনতা উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

পরীক্ষা এবং কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং স্বল্পমেয়াদে আমাদের জীবনের অংশ হয়ে উঠবে। তবে অনেক দেশে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশান করারও নির্দেশ যে কোনো সময় আসতে পারে। চিকিৎসার সুযোগ বাড়লেও এই রোগের প্রকোপ বছর বছর দেখা দিতে পারে এবং এর ফলে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা দিন দিন বাড়তেই থাকবে।

রাজনীতিবিদরা যদিও ভ্যাকসিনের ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার কথা বলছেন, তবে ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত না হওয়ার সম্ভাবনাটিকেও অনেক বিশেষজ্ঞ খুব গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। কারণ এমনটি আগে বেশ কয়েকবার ঘটেছিল।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের বিশ্ব স্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক ড. ডেভিড ন্যাবারো বলেছেন, ‘কিছু ভাইরাস রয়েছে যেগুলোর বিরুদ্ধে এখনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি।’ ন্যাবারো একইসাথে কোভিড -১৯ সংক্রান্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষ দূত হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনরকম পূর্ব ধারণা অনুমান করতে পারি না যে কোনো টিকা আদৌ তৈরি হবে কিনা, বা যদি তা তৈরিও হয় তবে সেটা কার্যকারিতা এবং সুরক্ষাগত সমস্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে কিনা।’

সিএনএনকে ন্যাবারো বলেছেন, ‘এটি একেবারে অপরিহার্য যে সমস্ত সমাজের সর্বত্র আমরা আমাদেরকে এমন অবস্থানে যদি নিয়ে যেতে পারি যেখানে করোনাভাইরাস থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে সক্ষম হই এবং ভাইরাসের সাথে থেকেই সামাজিক জীবন এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে সক্ষম হই।’

অবশ্য বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞরা আত্মবিশ্বাসী যে শেষ পর্যন্ত কোভিড -১৯টি ভ্যাকসিনটি তৈরি হবে। কারণ এইচআইভি এবং ম্যালেরিয়ার মতো রোগগুলোর মতো, করোনভাইরাস দ্রুত নিজেদের পরিবর্তন করে না।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যালার্জি এবং সংক্রামক রোগের পরিচালক ডা. অ্যান্টনি ফৌসিসহ অনেকেই মনে করেন যে, ভ্যাকসিন তৈরি হতে এক থেকে দেড় বছর পর্যন্ত লাগতে পারে।

হিউস্টন বেইলর কলেজ অফ মেডিসিনের ন্যাশনাল স্কুল অফ ট্রপিকাল মেডিসিনের ডিন ড. পিটার হটেজ সিএনএনকে বলেছেন, ‘আমরা এক বছর বা ১৮ মাসের মধ্যে এখন অবধি কোনো ভ্যাকসিনই তৈরি করিনি। তবে, এর অর্থ এই নয় যে এটি অসম্ভব। এমন হলে সেটা বেশ বীরত্বপূর্ণ অর্জন হবে।

তিনি বলেন, সবকিছু মিলে আমাদের পরিকল্পনা ‘এ’ এবং পরিকল্পনা ‘বি’ দরকার।

মানুষের উপরে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন এর ট্রায়াল শুরু হয়েছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইন ইংল্যান্ডে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নাতে। হটেজ, যিনি সার্স এর ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করেছিলেন তিনি বলেন, ‘কঠিন বিষয় হচ্ছে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পরে তা যে কাজ করছে এবং সেটার নিরাপদ ব্যবহার সম্ভব।’

প্ল্যান ‘বি’ -যা বলছে :

প্ল্যান বি তে আছে ভ্যাকসিনের পাশাপাশি নানা ধরনের ওষুধের ট্রায়াল এর বিষয়। যেমন এইচআইভি/এইডস এর ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি এখন অবধি ঠিকই তবে কিছু ওষুধ আছে যেগুলোতে রোগটি এখন আর দ্রুত মানুষকে মেরে ফেলতে পারে না। বরং এই রোগ নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে বেঁচে থাকা সম্ভবপর হয়ে উঠেছে।

করোনা নিয়েও নানা ধরনের ওষুধের পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে ‘রেমডিসিভির’ ইউএস-এফডিএ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন তেমন ভালো ফল দিতে পারেনি। এর সাথে প্লাজমা থেরাপি নিয়েও কাজ চলছে।

এরকম নানামুখী ওষুধ নিয়ে গবেষণা হয়তো চলমান থাকবে।

যা দাঁড়ালো অবশেষে :

★ লকডাউনোর মতো বিষয় দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বিধায় অফিস, আদালত, কারখানা, দোকানপাট আস্তে আস্তে খুলে দিতে হবে।

★ মানুষ নিজ দায়িত্বে সাবধানতা ও সতর্কতা মেনে চলবে।

★ অসুস্থ হলে প্রয়োজনে বাসায় বসে কাজ করবে।

★ যারা সর্দি-কাশি-জ্বরে নিজ দায়িত্বে আইসোলেট করে ফেলবে তাদেরকে ‘হিরো’ হিসেবে দেখতে হবে।

★ একই সাথে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং, সারভিলেন্স, টেস্ট, মনিটরিং চালিয়ে যেতে হবে।

★ মাঝে মধ্যে এর আক্রমণ বেড়ে গেলে আবার জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে।

★ রেস্টুরেন্টগুলো যদি ‘সোশ্যাল ডিসট্যান্স’ মানতে পারে তাহলে সেগুলো খুলে দেয়া যেতে পারে। খেলাধূলার মতোন ইভেন্টও চালু করা যেতে পারে।

★ তবে বার খোলার ব্যাপারে আরো ভাবতে হবে। সেটা করতে হলেও আরো পরে বা সবার শেষে খুলতে হবে। কারণ এখানে অল্প জায়গায় বেশি মানুষ অবস্থান করে।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0674 seconds.