• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৫ মে ২০২০ ১৩:৪৭:২১
  • ০৫ মে ২০২০ ১৩:৪৭:২১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

যে কারণে ইরাকে আবারো সক্রিয় হচ্ছে আইএস

ফাইল ছবি

সম্প্রতি ইরাকে জঙ্গি সংগঠন আইএস’র হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলীয় সালাউদ্দিন প্রদেশের দক্ষিণ তিকরিত ও উত্তর সামেরায় আইএস’র হামলায় পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিট (হাশদ আশ-শাবির) অন্তত ১০ যোদ্ধা নিহত হয়। আর আহত হয় চারজন। ২ মে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

এরপর ৩ মে দিয়ালা প্রদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পুলিশের চেক পোস্টে আবারো হামলা চালায় আইএস। এই হামলায় ১৩ জন হতাহত হয়। পরাজিত আইএস কিভাবে আবারো হামলা করছে, কিভাবে তারা শক্তি সঞ্চয় করছে এবং কারাই বা এই জঙ্গি সংগঠনটিকে ইন্ধন দিচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে।

প্রথমত, দিয়ালা ও সালাউদ্দিন প্রদেশের সীমান্ত এলাকায় পরিত্যক্ত অনেকগুলো গ্রাম রয়েছে। সেখানে দায়েশ বা আইএস সন্ত্রাসীরা নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। কোনো জনবসতি না থাকায় ওই এলাকাটিকে বেছে নেয়া হয়। অন্যদিকে এই গ্রামগুলোতে ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর নজরও খুব একটা পড়ে না। গ্রামগুলো পরিত্যক্ত হওয়ায় আইএস সন্ত্রাসীরা সেখান থেকে অবাধে নানান অভিযান পরিচালনা ও পরিকল্পনা করার সুযোগ পাচ্ছে।

হাশদ আশ শাবি জোটের অন্যতম শরীক উপজাতি এক কমান্ডার জানান, উদ্ধার হওয়া দিয়ালা প্রদেশের মানবশূন্য গ্রামগুলোতে আবারো আইএস’র অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, এমন সময় আইএস বা দায়েশ সন্ত্রাসীরা নতুন করে হামলা করছে। যখন ইরাক থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার জন্য দেশটির জনগণ জোর দাবি তুলেছে।

প্রসঙ্গত, এ বছরের ৫ জানুয়ারি ইরাকের বাগদাদে মার্কিন হামলায় ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হয়। এর দুই দিন পর ইরাকের সংসদ দেশটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের জন্য একটি প্রস্তাব পাশ করা হয়। এছাড়াও দেশটির জনগণ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনও গত ক'মাস ধরে দেশটি থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে আসছে।

এ বিষয়ে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইরাকের ধর্মীয় নেতারা ও বেশিরভাগ রাজনৈতিক নেতারা মনে করেন, আমেরিকার সঙ্গে সমন্বয় করেই আইএস সন্ত্রাসীরা আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ইরাকের জনগণকে এ বার্তা দিতে চায় যে, মার্কিন সেনারা ওই দেশ থেকে বেরিয়ে গেলেও আইএস এখনো সক্রিয়। মূলত আমেরিকাই আইএ’কে সমর্থন দেয়ার মাধ্যমে ইরাকে তাদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে।  

ইরাকের বাদর সংস্থার একজন বড় কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহদি আল বায়াতি জানান, সম্প্রতি সন্ত্রাসী হামলার পেছনে আমেরিকা ও সৌদি আরবের সমর্থন রয়েছে। কারণ ওই দুটি দেশ আবারো ইরাকে আইএস সন্ত্রাসীদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

ইরাকের নুজাবা আন্দোলনের মুখপাত্র নাসর আল শামরি জানান, ইরাক থেকে যখনই মার্কিন সেনা বহিষ্কারের দাবি জোরদার হয় তখনই আইএস বা দায়েশ সন্ত্রাসীদেরকে সক্রিয় করে তোলা হয়।

তৃতীয়ত, ইরাকের দুর্বল রাজনৈতিক অবস্থান। গত বছর ডিসেম্বর থেকে ইরাকে এখনো মন্ত্রীসভা গঠিত হয়নি এবং সেখানে রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছে।

বাংলা/এনএস

সংশ্লিষ্ট বিষয়

আইএস জঙ্গি ইরাক

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0877 seconds.