• বাংলা ডেস্ক
  • ০৬ মে ২০২০ ১১:৫৯:২২
  • ০৬ মে ২০২০ ১১:৫৯:২২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

নভেরা আহমেদের চলে যাওয়ার পাঁচ বছর

ফাইল ছবি

দেশের আধুনিক ভাস্কর্য শিল্পের পথিকৃৎ নভেরা আহমেদের পঞ্চম প্রয়াণবার্ষিকী আজ। ২০১৫ সালের ৬ মে তিনি ফ্রান্সের প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন। ভাস্কর হামিদুর রহমানের সঙ্গে জাতীয় শহীদ মিনারের প্রাথমিক নকশা প্রণয়নেও অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশের ভাস্কর্য শিল্পের অন্যতম অগ্রদূত এই ভাস্কর।

কর্মসূত্রে পিতা সৈয়দ আহমেদ যখন সুন্দরবন অঞ্চলে কর্মরত ছিলেন সেখানেই ১৯৩০ সালে ২৯ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন নভেরা। তবে তাদের পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রামের আসকারদিঘির উত্তরপাড়ায়।

চাকরিসূত্রে নভেরার বাবা পরে কলকাতায় পোস্টিং হয়, যে কারণে সেখানেই কেটেছে নভেরার শৈশব। কলকাতার লরেটায় স্কুলজীবন কাটানোর সময়ই ভাস্কর্য গড়তেন নভেরা। পারিবারিক পরিবেশ অন্যান্য সমসাময়িক পরিবারের চেয়ে উদার ও আধুনিক চিন্তা-ভাবনা সম্পন্ন হওয়ায় নভেরা নাচ, গান শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করতেন।

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে যাওয়ার পর পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) কুমিল্লায় চলে আসে নভেরার পরিবার। এ সময় তিনিভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্তি হন।

বাবার অবসরগ্রহণের পর তারা সবাই আদি নিবাস চট্টগ্রামে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। আর ১৯৫০ সালে লন্ডন পাড়ি জমানোর পর ১৯৫১ সালে ক্যাম্বারওয়েল স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফট সেরন্যাশনাল ডিপ্লোমা ইন ডিজাইনের মডেলিং ও স্কাল্পচার কোর্সে ভর্তি হন নভেরা। ১৯৫৫ সালে কোর্স শেষ করে ডিপ্লোমা পান তিনি।

এরপর ঢাকায় ফিরে ১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত ১০০ টির বেশি ভাস্কর্য নির্মাণ করেন নভেরা আহমেদ। ১৯৫৮ সালে স্থপতি হামিদুর রহমান ও নভেরা আহমেদের শিল্পকর্মের যৌথ একটি প্রদর্শনী হয় ঢাকার কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারে। এরপর তিনবার নভেরার একক শিল্পকর্মের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় তার প্রথম প্রদর্শনী। তার পরবর্তী প্রদর্শনী ছিল ১৯৬১ সালে লাহোরে।

নভেরার ভাস্কর্য তৈরির মূল প্রবণতা ছিল ‘ফিগারেটিভ এক্সপ্রেশন’। যার প্রধান বিষয়বস্তু ছিল নারীর প্রতিমূর্তি। তথাকথিত ভাস্কর্য শিল্পে আমরা ইন্দ্রিয় সুখাবহ নারীর যে রোমান্টিসিজম দেখি, নভেরার তৈরি ভাস্কর্যগুলো এই বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত এবং অনেক বেশি মেদহীন, ঋজু। ভাস্কর্য সৃষ্টিতে তিনি মূর্ততার চেয়ে বেশি জোর দিতেন বিমূর্ত অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তোলায়।

নভেরার ভাস্কর্যের মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে ‘চাইল্ড ফিলোসফার’, ‘মা ও শিশু’, ‘এক্সটার্মিনেটিং অ্যাঞ্জেল’, ‘পরিবার’ (১৯৫৮), ‘যুগল’ (১৯৬৯), ‘ইকারুস’ (১৯৬৯), ‘জেব্রা ক্রসিং’ (১৯৬৮) ইত্যাদি।

প্রথম দিকে নভেরা আহমেদ পাথর, কংক্রিট এবং মাটি দিয়ে জ্যামিতিক আকৃতির মানুষ এবং প্রাণীর ভাস্কর্য তৈরি করেতেন। পরে লোহা, ইস্পাত এবং ব্রোঞ্জ ব্যবহার  শুরু করেন তিনি। মার্কিন সেনাবাহিনীর বিমানের ভাঙ্গা অংশ ব্যবহার করে এবং স্প্রে পেইন্টিংয়ের মাধ্যমেও ভাস্কর্য নির্মাণ করেন নভেরা। তার কাজে বিভিন্ন স্থান, দ্বীপ, আকাশ, ফিনিক্স, ফুল, জল, রোদ, চাঁদ এবং মানবিক দিকগুলোর প্রকাশ এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে।

১৯৭৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্যারিসে অবস্থানকালে বেশ কিছু ছবিও আঁকেন নভেরা। তার মৃত্যুর পর ৪৩টি চিত্রকর্মের খোঁজ মেলে। তার কাজের সবচেয়ে বড় সংগ্রহ শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরে রক্ষিত আছে। এ ছাড়া প্যারিসের গ্রেগরি দ্য ব্রুহনসের স্টুডিওতে তার সৃষ্ট নয়টি ভাস্কর্য ও ৪৩টি চিত্রকর্ম রয়েছে।

দীর্ঘ ৪১ বছর অন্তরাল জীবনের পর পর ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি থেকে প্যারিসে নভেরার একটি রেট্রোস্পেকটিভ প্রদর্শনী শুরু হয়। ১৯৯৭ সালে তাকে বাংলাদেশ সরকার একুশে পদকে ভূষিত করে।

বাংলা/এসএ/

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0628 seconds.