• বাংলা ডেস্ক
  • ০৮ মে ২০২০ ১০:০৭:৫৬
  • ০৮ মে ২০২০ ১০:০৭:৫৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

আন্দোলনে না যেতে হুমকি, হাসপাতালে নারী কাউন্সিলর

ফাইল ছবি

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়রের বিরুদ্ধে ডাকা আন্দোলনে না যাওয়ার জন্য গভীর রাতে বাসায় গিয়ে নারী কাউন্সিলর মাসুদা সুলতানা সাকি হুমকি দেয়া হয়। এরপর তিনি অসুস্থ হলে ভোররাতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ত্রাণ বিরতণ কার্যক্রমে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের যুক্ত না কারায় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন তারা।  

এ ঘটনায় সিলেট সিটি করপোরেশনের নারী কাউন্সিলররা মর্মাহত। বর্তমানে তারা ‘নিরাপত্তাহীনতায়’ ভুগছেন। এ কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা। তাদের দাবি- সহকর্মী সাকিকে হাসপাতালে রেখে তারা কর্মসূচি পালনে যেতে পারেন না। এ কারণে কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।

সিলেট করপোরেশনের ১০, ১১ ও ১২ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর সাকি। নগরীর শেখঘাটে তার বাড়ি। গত সিটি নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এবার সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কার্যক্রমের উপর ক্ষুব্ধ কাউন্সিলর সাকিসহ নগরের ৯ মহিলা কাউন্সিলররা। তার অসুস্থতার খবর পেয়ে সকালে হাসপাতালে দেখতে যান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

মানবজমিন’র প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সিলেটে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়নি নারী কাউন্সিলরদের। পরিপত্রের দোহাই দিয়ে মেয়র তাদের দূরে ঠেলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এ নিয়ে বুধবার নগর ভবনে বৈঠকে বসেন নারী কাউন্সিলররা। ওই বৈঠকে তারা মেয়র আরিফের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ত্রান কার্যক্রমে নিজেদের অর্ন্তভুক্ত করার দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেন। এই ঘোষণায় সিলেটে তোলপাড় শুরু হয়। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকেই নারী কাউন্সিলরদের পক্ষ নিয়ে সমালোচনা করেন।

এই পরিস্থিতিতে মধ্যরাতে শেখঘাটের জুনেল ও সালামের নেতৃত্বে একদল যুবক নারী কাউন্সিলর সাকির বাসায় যায়। ওই যুবকরা সাকিকে বাসা থেকে বারান্দায় ডেকে আনেন। এ সময় যুবকরা সাকিকে জানায়, সিলেট সিটি করপোরেশনে নারী কাউন্সিলরদের অনুষ্টানে তিনি যেন না যান। আর গেলে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ত্রাণ কার্যক্রম কমিয়ে দিতে পারেন।

যুবকরা আরো বলেন, ‘১২ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ বার ত্রাণ দেয়া হয়েছে। আপনি নিজেও গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। সুতরাং ত্রান নিয়ে তো কোনো দাবি নেই।’ এই ঘটনা মোবাইল ফোনে লাইভ করেন সাকির কেউ।

ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, যুবকরা ওই অবস্থান কর্মসূচিতে না যাওয়ার জন্য বার বার বারণ করছেন সাকিকে। আর তা শুনে সাকি তাদের ওপর আরো ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। সাকি বলেন- ‘ওসব মেয়র সাব করাচ্ছেন। এই কর্মসূচি তো আমার না। এটি সকল নারী কাউন্সিলরদের। আমি ওদের সঙ্গে আছি মাত্র।’ একপর্যায়ে ওই যুবকদের বুঝাতে ব্যর্থ হয়ে সাকি বলেন, ‘প্রয়োজনে আমার লাশ গিয়েও কর্মসূচিতে অংশ নেবে।’ এ সময় এলাকার বড়রা এসে ওই যুবকদের সরিয়ে দেন। এরপর যুবকরা শেখঘাটের জিতু মিয়ার পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান নেয় বলে জানান স্থানীয়রা।

এ ঘটনার পর ভোররাতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন কাউন্সিলর সাকি। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তাকে সঙ্গে সঙ্গে সিলেটের তালতলাস্থ পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। পরিবারের সদস্যরা জানান, ভোররাতে সাকি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ডাক্তাররা তাকে বিশ্রামে রেখেছেন। খবর পেয়ে সকালে  সাকিকে দেখতে যান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

এ বিষয়ে স্থানীয় ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সিকন্দর আলী বলেন ‘সাকির বাসায় এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে গিয়েছিল। তিনি অসুস্থ থাকায় পরে বিষয়টি শুনেছেন।’

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও মহিলা কাউন্সিলরদের আন্দোলনের ‘দলনেতা’ এডভোকেট রোকশানা বেগম শাহনাজ জানান, সাকির বাসায় মধ্যরাতে যুবকরা গিয়ে যা ঘটিয়েছে তা ন্যক্কারজনক। কোনো সভ্য সমাজের এ ধরনের ঘটনা মানায় না। সাকি এখন অসুস্থ, এ কারণে আমরা কর্মসূচি স্থগিত করেছি। সে সুস্থ হলে আমরা পুনরায় কর্মসূচি শুরু করবো।

এ বিষয়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ত্রাণ বিতরণে সব এলাকায়ই নারী কাউন্সিলররা সম্পৃক্ত রয়েছেন। তাদেরকে আলাদা করে দেয়া হয়নি। এখন বিষয়টি দেখা হবে।’

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0830 seconds.