• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৮ মে ২০২০ ২১:৩৯:০৫
  • ০৮ মে ২০২০ ২১:৩৯:০৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনার গঠন ৫০ শতাংশ বদলেছে ভারতে, দাবি গবেষকদের

ছবি : সংগৃহীত

গবেষকদের দাবি, কয়েকশবার রূপ পাল্টেছে করোনাভাইরাস। এ ভাইরাসের আসল ক্ষমতা তার স্পাইক প্রোটিনে। মানুষের শরীরে ঠাঁই খুঁজে নেয়ার চাবি হল এই স্পাইক প্রোটিন। তাই একেই বদলে বদলে নিজের শক্তি বাড়িয়ে চলেছে ভাইরাস, এমনটাই দাবি করেছেন মেক্সিকোর লস অ্যালামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি ও ভারতের টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের গবেষকরা।

সার্স-কভ-২ ভাইরাস যে জিনের গঠন বদলাচ্ছে সেটা এখন অনেকটাই পরিষ্কার। তা না হলে একটা ভাইরাসের পক্ষে এতদিন ধরে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ঠাঁই বদলে যাওয়া সম্ভব হত না। নিজের জিনের গঠন বদলে ফেলে নতুন নতুন রূপে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে ভাইরাস। জিনের গঠনের এই বদলকেই বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘জেনেটিক মিউটেশন’।

প্রায় সব ভাইরাসের মধ্যেই এমন জেনেটিক মিউটেশন বা জিনগত বদল দেখা যায়। কারো বেশি, কারো কম। কিন্তু সার্স-কভ-২ সেখানে সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এতবার জিনের গঠন বদলেছে এই ভাইরাস যে তার আসল উৎস খুঁজে পাওয়াই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে গবেষকদের কাছে।

লস অ্যালমসের ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, জিনের গঠনের এই বদল বা মিউটেশন সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ভারতে। প্রায় ৫০ শতাংশ ভাইরাল স্ট্রেনের মিউটেশন হয়েছে ভারতেই। অস্ট্রেলিয়ার ‘কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশন’ (CSIRO)-এর ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী এসএস ভাসান বলেছেন, ভারতীয়দের শরীর থেকে নেয়া ৮২টি নমুনার মধ্যে যে ভাইরাল স্ট্রেন পাওয়া গেছে তার ৫০ শতাংশই জিনের গঠন বদলে ফেলেছে। এই মিউটেশনের নাম দেয়া হয়েছে D614G।

ডক্টর ভাসান বলছেন, ‘সাধারণ ভাইরাস ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে যদি তার ভিতরে একাধিক মিউটেশন হয়। অর্থাৎ বদলে যায় জিনের গঠন। সাধারণ ফ্লু-এর ভাইরাসও তখন হযে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। তেমনই কিছু ঘটে চলেছে করোনাভাইরাসের সঙ্গেও। এতবার সে নিজেকে বদলে ফেলছে যে এখন থেমে যাওয়ার ক্ষমতা তার নিজেরও নেই।”

ভারতের সিএসআইআর-এর ইনস্টিটিউট অব জিনোমিক্স অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজির গবেষক ডক্টর বিনোদ স্কারিয়াও রয়েছেন এই গবেষণায়। ডক্টর ভাসান ও ডক্টর বিনোদ বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার সিএসআইআরও-তে ৭,১৭৬ ভাইরাস জিনোম নিয়ে গবেষণা চলছে। বিশ্বের নানা দেশ থেকে কোভিড রোগীদের নমুনায় পাওয়া ভাইরাল স্ট্রেনের জিনের গঠন বিন্যাস পাঠানো হয়েছে সেখানে। তার মধ্যে থেকে ভারতীয়দের শরীরে পাওয়া ভাইরাল স্ট্রেনের ৫০ শতাংশর মধ্যে এই মিউটেশন দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি বদল হয়েছে ওই স্পাইক প্রোটিনেরই।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

করোনাভাইরাস ভারত

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0657 seconds.