• বাংলা ডেস্ক
  • ০৯ মে ২০২০ ১০:৩১:৪৫
  • ০৯ মে ২০২০ ১০:৩১:৪৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

করোনাকে কেন্দ্র করে জঙ্গি সংগ্রহের চেষ্টা ইঞ্জিনিয়ারের

সৈয়দ মুশতাক মোহাম্মদ আরমান খান। ছবি : সংগৃহীত

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারীকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে জঙ্গি দস্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন এক ইঞ্জিনিয়ার। অভিযুক্ত সৈয়দ মুশতাক মোহাম্মদ আরমান খান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র ছিলেন। এমনকি নিজেকে ইমাম মাহাদির অন্যতম সৈনিক হিসেবেও পরিচয় দেন তিনি।

কথিত এই সৈনিক প্রচার করেন, ‘করোনার দুর্যোগে আকাশ থেকে গজব নেমে আসবে এবং সমস্ত কিছু ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে যাবে, চল্লিশ দিন সূর্য উঠবে না, কাফিররা সবাই মারা যাবে, ইমানদারদের শুধু হালকা কাশি হবে। তখন হিজরত করতে হবে।’ এভাবেই করোনাকে ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহের কাজ করেন সৈয়দ মুশতাক মোহাম্মদ আরমান খান।

এর মাধ্যমে তার অনুসারী তৈরি করতেও সক্ষম হন তিনি। তার আহ্বানে ১৯ জন জিহাদের জন্য সৌদিতে হিজরতের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। এর পড়েই বেরিয়ে আসে ওই ইঞ্জিনিয়ার সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সমকাল’র এক বিশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সূত্র মতে, মুশতাক মোহাম্মদ আরমান খান বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাস করেন। তিনি রাজধানীর একটি নাম করা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও নিয়মিত তাবলিগ করতেন। একপর্যায়ে টঙ্গীতে গড়ে তোলেন মাদ্রাসা। এরপর ২০১৭ সালে পুরো পরিবার নিয়ে চলে যান সৌদি আরবে। আর সেখানে বসে নিজেকে ইমাম মাহাদির অন্যতম সৈনিক পরিচয় দিয়ে ইউটিউবে নানা ভিডিও ছড়াতে থাকেন। সেখানে তিনি জিহাদের জন্য ‘মুজাহিদ’দের সৌদিতে যাওয়ার আহ্বান জানান। করোনার এই সময় কীভাবে জিহাদের জন্য যেতে হবে সেই বিষয়েও কথিত নির্দেশনা দেন তিনি।

ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, তারা জেএমবির মতো করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া ১৯ জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশকিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কয়েকজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। আদালতকে তারা জানান, সৌদিতে অবস্থানকারী ইঞ্জিনিয়ারের নির্দেশেই তারা হিজরতে বের হন।

এ বিষয়ে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সৌদিতে অবস্থানকারী ইঞ্জিনিয়ার মুশতাক নিজেকে ইমাম মাহাদির অন্যতম সৈনিক দাবি করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছিলেন। ঢাকায় গ্রেপ্তার তার ১৯ অনুসারীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তারা নিজেদের জেএমবির অনুসারী বলেও জানান। এর মধ্যেই ওই ইঞ্জিনিয়ারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়ার পাশাপাশি তাকে নজরদারিতে রাখাতে সৌদি সরকারকে অবহিত করার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।’

আরেক কর্মকর্তা জানান, এর আগেও ইঞ্জিনিয়ার মুশতাকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ ১১ জন সৌদি আরব চলে গেছে। ওই ইঞ্জিনিয়ার আপাতত ইমাম মাহাদি বিষয়ে প্রচার চালালেও সত্যিকার অর্থেই তিনি কোন মতাদর্শী এবং আন্তর্জাতিক কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে।

ঢাকা থেকে ইঞ্জিনিয়ারের ১৯ অনুসারীকে গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এডিসি তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সৌদিতে অবস্থানকারী ইঞ্জিনিয়ার মুশতাক জিহাদের পক্ষে ইমাম মাহাদি সৈনিক হিসেবে বিভিন্ন বক্তব্য এবং গাজওয়াতুল হিন্দ নামক স্থানে মুসলিমদের পক্ষে জিহাদ করার আহ্বান জানিয়ে অডিও-ভিডিও প্রকাশ করেন। তার এসব বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি স্বরূপ সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করেন গ্রেপ্তারকৃত ১৯ জন। তারা তাবলিগ জামায়াতের নাম করে সাতক্ষীরা বা বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারত-কাশ্মীর সীমান্ত হয়ে সৌদি পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।’

এডিসি তৌহিদুল ইসলাম আরো বলেন, ‘গত ১৮ মার্চ তারা প্রথমে সাতক্ষীরা ও পরে যশোর সীমান্তের কাছে বিভিন্ন মসজিদে অবস্থান করেন ভারতে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার মুশতাকের কথা অনুযায়ী আকাশ অন্ধকার না হওয়ায় যেতে পারেননি। এরপর ঢাকা ফিরে গ্রেপ্তার হন তারা।’

তিনি আরো জানান, এখন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে ৯টি পাসপোর্ট জব্দ করা গেছে। এগুলো গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চের শুরুর দিকে ইস্যু করা হয়। এসব বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

বাংলা/ এনএস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0774 seconds.