• ০৯ মে ২০২০ ১৬:৩০:০৫
  • ০৯ মে ২০২০ ১৬:৩০:০৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

উপসর্গহীন করোনা রোগী : করণীয় কি?

ফাইল ছবি


ডা. পলাশ বসু :


এটা সত্যিই এখন এক নতুন এবং অদ্ভূত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বিশ্বব্যাপী। দেখা যাচ্ছে যে, লকডাউন এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার পরেও করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হচ্ছে না। এর বড় কারণ হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী উপসর্গহীন রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

এর ফলে সুস্থ মানুষেরা উপসর্গহীন এসব রোগীদের সংস্পর্শে এসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। এ কারণে এই উপসর্গহীন রোগীরাই এখন সকলের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে।

লক্ষণ প্রকাশিত না হওয়ায় এসব আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজেদের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে থাকেন। কারণ তারা নিজেরাই জানেন না যে তারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে এই উপসর্গহীন রোগীদের সংস্পর্শে যারা আসছেন তারাও আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছেন খুব সহজেই। আর এভাবেই উপসর্গহীন এ রোগীরা বাড়িয়ে তুলছেন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

বিশ্বব্যাপী উপসর্গহীন রোগীর সংখ্যা :

জাপানিজ প্রমোদতরীর কথা মনে আছে তো আপনাদের? এই প্রমোদতরীতে আক্রান্ত ৬৩৪ জনের ভেতরে ৩২৮ জনেরই কোনো উপসর্গ ছিলো না। বলা হচ্ছে, প্রায় ১০-১৫ শতাংশ রোগীদের কোনোরকম উপসর্গ তৈরি হচ্ছে না করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরেও।

বিশ্বব্যাপী দেখা যাচ্ছে, এখন প্রায় ৩৮ লাখের উপরে এই উপসর্গহীন রোগী রয়েছে। সংখ্যাটা আসলেই অনেক বেশি। এ সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

উপসর্গহীন রোগীর প্রকারভেদ :

উপসর্গহীন করোনা রোগীদের সংখ্যা ৩ ধরনের হয়ে থাকে।

১) খুবই অল্প উপসর্গের রোগী :
এদের করোনায়,আক্রান্ত হলে দেখা যায় খুবই অল্প সর্দি জ্বর এসব হয়ে থাকে। আবার খুবই দ্রুত এরা ভালো হয়ে যায়।

২) প্রিসিম্পটোমেটিক/উপসর্গ দেরিতে প্রকাশিত হওয়া রোগী :
এরা আক্রান্ত হলেও প্রথম ১ সপ্তাহ কোন লক্ষণ প্রকাশিত হয় না। তারপর জ্বর, কাশি এবং শারীরিক দুর্বলতা থাকে। পরে আবার চিকিৎসা ছাড়াই ভালো হয়ে যায়।

৩) একদম উপসর্গহীন রোগী :
এরা আক্রান্ত হলেও এদের কোনোরকম উপসর্গই প্রকাশিত হয় না। এরা তাই স্বাভাবিক নিয়মেই তাদের কাজকর্ম করে যান। কারণ তারা বুঝতেও পারেন না যে তারা এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

উপসর্গহীন রোগীদের জন্য করণীয় কি?

এজন্য একটাই কাজ সেটা হচ্ছে আমাদের যত বেশি সংখ্যক মানুষকে এ টেস্টের আওতায় আনা যায়। তাহলে হয়তো আমরা এদেরকে চিহ্নিত করতে পারব। সেই সাথে যতদিন কোন ভ্যাকসিন বা চিকিৎসার জন্য একটা ওষুধ আবিষ্কার না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আমাদেরকে এই টেস্টের আওতা বাড়াতে চেষ্টা করতে হবে। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে তো আর লকডাউন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

এমন রোগীর সংস্পর্শে আসলে যা করতে হবে :

★ নিজেকে দ্রুত অন্যদের থেকে আলাদা করুন।

★ এ সময়ে কোয়ারেন্টাইনে থাকুন।

★ আপনার সংস্পর্শে আসা লোকেদের অবহিত করুন। তারাও যেন নিজেদেরকে কোয়ারেন্টাইন করতে পারেন।

★ পারতপক্ষে বাইরে বের হবেন না এ সময়ে। প্রয়োজন খুব বেশি হলে মাস্ক পরে বাইরে যাবেন। দ্রুত কাজ শেষে বাসায় ফিরে আসবেন।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, এনাম মেডিকেল কলেজ।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

করোনাভাইরাস উপসর্গ

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0812 seconds.