• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১০ মে ২০২০ ২৩:১৭:৪২
  • ১১ মে ২০২০ ০০:৫২:১৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

সেই চেয়ারম্যান সকালে গ্রেপ্তার, দুপুরে জামিন

চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও নির্যাতনের শিকার শিক্ষক। ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় বিচারের নামে শিক্ষক, নারী ও শিশুকে মারধর করা সেই আলোচিত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা পরেই জামিন দিয়েছেন আদালত। ১০ মে, রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইকতিয়ার জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দুটি মামলায় এজাহারনামীয় আসামি ওই চেয়ারম্যানকে উপজেলা সদরের নিউ মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে দুপুরের দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী আদালত-৪) আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

ওই দুই মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল পারিবারিক বিরোধ মেটানোর নামে ওই চেয়ারম্যান একই ইউনিয়নের বেতরা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আজিজুর রহমানকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। এ ঘটনায় ওই শিক্ষক বাদী হয়ে গত ১৬ এপ্রিল চেয়ারমানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।

অপর এক ঘটনায় একই ইউনিয়নের উখারি গ্রামের মো. ওয়ালিউল্লাহর ছেলে শরীফ (১০) এবং স্ত্রী কাজল বেগমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বিচারের নামে মারধর করেন ওই চেয়ারম্যান। পরে এ ঘটনায় কাজল বেগম বাদী হয়ে গত ১৯ এপ্রিল চেয়ারম্যান ও তার ভাতিজা শামীমের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেন। এ দুই মামলায় প্রায় তিন সপ্তাহ জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান আত্মগোপনে ছিলেন।

এ ছাড়া ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গত প্রায় ৯ বছরে এলাকার বিভিন্ন লোককে বিচারের নামে নির্যাতনসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে নজরুল ইসলাম নামে তার ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য গত ২০ এপ্রিল কুমিল্লা জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেন। এসব অভিযোগ বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক তদন্ত করছেন বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, চেয়ারম্যানের হাতে নির্যাতিত ও মামলার বাদী মাদ্রাসাশিক্ষক মাওলানা আজিজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দুটি মামলার আসামি হয়েও তিনি (চেয়ারম্যান) পরিষদের কাজ চালিয়ে গেছেন। আত্মগোপনে থাকা সেই চেয়ারম্যান রবিবার সকালে থানার অদূরে নিউ মার্কেট এলাকায় এসে বসে থাকবে, পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করলো, আদালতে নেয়া হলো, জামিন হয়ে গেল, সবই রহস্যজনক।’

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0767 seconds.