• ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • ১১ মে ২০২০ ১৩:১৬:২৪
  • ১১ মে ২০২০ ১৩:১৬:২৪
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

তামিমের লাইভ আড্ডায় অতীতের স্মৃতিচারণ

লেবুর শরবতই ছিলো দুর্জয়-সুজন-সুমনদের এনার্জি ড্রিংক!

ছবি : সংগৃহীত

১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জিতে বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। তখন যারা জাতীয় দলে খেলতেন তাদের মুখোমুখি হতে হতো অনেক কঠিন পরিস্থিতির। না ছিল আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধার, না ছিল আর্থিক সচ্ছলতা। এমনকি বিদেশ সফরে খেলতে গিয়েও অনেক সময় নিজেদের গাঁটের পয়সাও খরচ করতে হতো তাদের।

জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের ফেসবুক লাইভে এসে এমনই রূঢ়-বাস্তব অতীতের স্মৃতিচারণ করেছেন সাবেক তিন জাতীয় ক্রিকেটার খালেদ মাহমুদ সুজন, নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও হাবিবুল বাশার সুমন। করোনাভাইরাসের কারণে যখন খেলাধূলা বন্ধ, তখনই ফেসবুক লাইভে ক্রিকেটারদের সাথে নানা আলোচনার উদ্যোগ নেন তামিম।

এরই অংশ হিসেবে গতকাল ১০ মে, রবিবার রাতে তার অতিথি ছিলেন এই সাবেক তিন ক্রিকেটার। এসময় তারা খেলোয়াড়ি জীবনের নানা অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

তামিম ইকবাল প্রশ্ন করেন, ‘বর্তমান সময়ে তো আমাদের কম্পিউটার অ্যানালিস্ট আছে। আমরা প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের শক্তি, দুর্বলতা সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা পাই। আপনাদের সময় কী হতো?’

উত্তরে খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘আমরা টিভিতে প্রচুর পরিমাণে খেলা দেখতাম। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ কমই পেতাম। কিন্তু প্রচুর খেলা দেখলাম। প্রিমিয়ার লিগের খেলা হলেও দেখতে মাঠে চলে যেতাম। আমাদের গেম সেন্স ছিল ভালো।’

এখনকার ক্রিকেটাররা তো অতোটা ম্যাচ দেখতে চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বলব, আমাদের সময়ের ক্রিকেটারদের তুলনায় এখনকার ক্রিকেটারদের গেম সেন্স কম।’

উন্নতি করতে হলে বেশি বেশি খেলা দেখার কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই অধিনায়ক।

এসময় দলের অভাব অনটনের দরুণ এনার্জি ড্রিংকের পরিবর্তে হাতে দুর্জয়-সুজন-সুমনদের ভাগ্যে জুটতো হাতে বানানো লেবুর শরবত। এমন তথ্য জানান, বাংলাদেশ দলের প্রথম টেস্টের অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অপু ভাইয়ের রুমের পাশে মোটামুটি পরিস্কার একটা বাথরুম ছিল। খোকন ও জয়নাল ভাই ওখান থেকে বালতিতে পানি নিত। বাজার থেকে লেবু আর চিনি এনে সবকিছু হাত দিয়ে গুলতো। ঐটা ছিল আমাদের এনার্জি ড্রিংক। আমাদের পেটও খারাপ হত না; বরং হজম হয়ে যেতো।’

জাতীয় দলের হয়ে খেলে সেই অর্থে তখন তেমন অর্থ পেতেন না ক্রিকেটাররা। তাদের আয়ের মূল উৎসই ছিল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। তাও যদি বড় দলগুলোতে খেলার সুযোগ জুটতো, তবেই কিছু আয় হতো। আর জাতীয় দলের হয়ে বিদেশে খেলতে গিয়ে নিজেদের গাঁটের পয়সাই খরচ করতে হতো ক্রিকেটারদের। যে কারণে জাতীয় দলের সফরের আগে খেলোয়াড়রা তাই ক্লাবের পাওনা টাকার খোঁজে ছুটতেন বলেও জানান দুর্জয়।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় দল খারাপ খেললে আবাহনী, মোহামেডান, ব্রাদার্সের অফিশিয়ালদের খুঁজে পাওয়া যেত না।’

একটা সময়ে বিদেশ সফরে দৈনিক ৫-৬ ডলার ভাতা ছিল বলেও জানান তিনি। পরে আইসিসি ট্রফির পর আইসিসি’র চাপে ধাপে ধাপে ৩০-৪০ ডলারে গিয়ে দাঁড়ায় সেই ভাতার পরিমাণ।

বিদেশ সফরের আগে ক্লাব থেকে পাওনা আদায় করে নিয়ে যেতেন ক্রিকেটাররা। তা দিয়ে খুব হিসেব করে খাবার খেতে হতো তাদের। এ বিষয়ে দুর্জয় বলেন, ‘প্র্যাকটিস শেষে আসার সময় ফাস্ট ফুড খেতাম। রাতে হাতেগোনা কয়জন বাইরে গিয়ে খেতাম।’

রাতে ট্যাক্সি ভাড়ার খরচ বাঁচাতে অনেক খেলোয়াড় দিনে খেয়ে আসার সময় রাতের খাবারও নিয়ে আসতেন বলেও জানান সাবেক এই ক্রিকেটার।

বাংলা/এসএ/

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0826 seconds.