• বিদেশ ডেস্ক
  • ১৫ মে ২০২০ ১৫:০৭:০৩
  • ১৫ মে ২০২০ ১৫:০৭:০৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

মার্কিন সহযোগিতার কথা স্বীকার করলো আইএস

আটক আইএস সদস্য। ছবি : সানা থেকে নেয়া

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাজ থেকে সহযোগিতার কথা স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় হোমস প্রদেশের আত-তানফ সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের কাছ থেকে পরিপূর্ণ সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানায় এই জঙ্গি সংগঠনটি।

সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক আইএস’র কয়েকজন সদস্য এ কথা স্বীকার করেন। আত-তানফ ঘাঁটি ব্যবহার করে তারা বহু সন্ত্রাসী হামলা পরিচালনা করেছেন বলেও জানান। ১৪ মে, বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আটক তিনজন আইএস সদস্যের স্বীকারোক্তি সম্প্রচার করা হয়। এমন খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে।  

ওই তিন আইএস সদস্যের নাম সালাহ জাবের আল-জাহের, আলি সালিম ইয়াহিয়া এবং আমের আব্দুল গাফের নেমাহ।

আটক আইএস সসদ্যরা জানান, মার্কিন সেনারা তাদেরকে সিরিয়ার প্রাচীন শহর পালমিরার আশপাশে সরকারি সেনাদের অবস্থানে হামলা চালাতে নির্দেশনা দিতেন। টি-ফোর সামরিক ঘাঁটি, শায়ের গ্যাসক্ষেত্র এবং আশপাশের তেল ক্ষেত্রে হামলা চালানোর দিক নির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিতেন মার্কিন সেনারা।

একজন সন্ত্রাসী জানায়, ‘আমাদের কমান্ডার হাসান আলকাম জাজরাবির একজন ঘনিষ্ঠ সহচর একদিন আমাদেরকে এসে বললো, আত-তানফ সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে। হাসান আল-ওয়ালি নামের ওই ব্যক্তি জানায়, পালমিরা শহর এবং টি-ফোর সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাতে হবে। এ কাজে মার্কিন সেনারা রকেট, মেশিনগান এবং প্রয়োজনীয় অর্থসহ সব রসদ সরবরাহ করবে।’

অপর এক সন্ত্রাসীর জানায়, ‘মার্কিন সেনারা তাদের গোয়েন্দা ড্রোনের মাধ্যমে সিরিয়ার সেনাদের তৎপরতা নজরদারি করতো এবং তাদের ওপর হামলা চালানোর জন্য আমাদের সমস্ত তথ্য জানিয়ে দিতো।’

তারা আরো জানান, আইএস কমান্ডারদের সঙ্গে কথিত বিপ্লবী কমান্ডো আর্মির যোগাযোগ ছিলো। আইএস’র কথিত রাজধানী রাকার পতনের আগে থেকে কুর্দি গেরিলাদের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলেছে।

ওই আইএস সদস্যরা আরো জানায়, তাদের অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনীর পরিপূর্ণ সমর্থন থাকতো, তাদেরকে সুরক্ষা দিতো কয়েকটি মার্কিন হেমার গাড়ি। এছাড়া তাদের মাথার উপরে হেলিকপ্টার-গানশিপ টহল দিতো।

তারা আরো জানায়, রাকা থেকে দেইর আজ-যোরে যাওয়ার সময় আমেরিকার সেনাদেরকে জানিয়ে তারা সেখানে গেছে এবং রাকা থেকে দেইর আজ-যোর পর্যন্ত পৌঁছানোর সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদেরকে পরিপূর্ণ সুরক্ষা দিয়েছে।

অর্থনৈতিক এবং অন্যান্য রসদ সহযোগিতার বিষয়ে তারা জানায়, সিরিয়ার আত-তানফ সামরিক ঘাঁটির মাধ্যমে সবকিছু হতো। আইএসদের কমান্ডার প্রতিমাসে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত ঘাঁটিতে যেতেন। আর সেখান থেকে খাদ্য, অর্থ, গোলা-বারুদ এবং মার্কিন নির্মিত অস্ত্র নিয়ে আসতেন।

তারা আরো জানায়, আত-তানফ সামরিক ঘাঁটির মাধ্যমে তারা সমস্ত রসদ পেতেন। আর আইএস’র কেউ যদি কখনো আহত হতো তাহলে তাকে চিকিৎসার জন্য আত-তানফ ঘাঁটিতে নেয়া হতো।

সম্প্রতি সিরিয়ায় সামরিক বাহিনীর অভিযানের এসব আইএস সদস্যকে আটক করা হয়।

বাংলা/এনএস

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.1290 seconds.