• বিদেশ ডেস্ক
  • ১৫ মে ২০২০ ১৫:৪৬:৫৫
  • ১৫ মে ২০২০ ১৫:৪৬:৫৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন ১৮ দফা পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

একজন শীর্ষ মার্কিন সিনেটর চীন সরকারকে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত বিষয়ে তার ‘মিথ্যা, প্রতারণা এবং লুকিয়ে রাখা’র জন্য দায়ী করার লক্ষ্যে ভারতের সাথে সামরিক সম্পর্ক বাড়ানোসহ একটি ১৮ দফা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।

মার্কিন শীর্ষমহল থেকে সরকারকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে যেন চীন থেকে উৎপাদন প্রক্রিয়া সরিয়ে নেয়া হয়। এবং ভারত, ভিয়েতনাম এবং তাইওয়ান এর সাথে সামরিক-কৌশলগত সম্পর্কগুলোকে আরো গভীর করা হয়। দি হিন্দুস্তান টাইমসে এ ব্যাপারে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

চীন সরকার বিশ্বব্যাপী মহামারীকে শত্রুতামূলকভাবে লুকিয়েছে এবং যা এখন অনেক আমেরিকানদের জন্য দুর্দশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৮ দফা পরিকল্পনা উপস্থাপিত করে চীন সরকারের উদ্দেশ্যে সিনেটর থম টিলিস বলেছেন, ‘এটিই এমন এক সরকার যা শ্রম শিবিরে নিজস্ব নাগরিকদের আটকে রাখে, আমেরিকার প্রযুক্তি ও চাকরি চুরি করে এবং আমাদের মিত্রদের সার্বভৌমত্বকে হুমকি দেয়।’

‘যুক্তরাষ্ট্র এবং বাকী বিশ্বের কাছে আমার উদাত্ত আহ্বান এজন্য যে আমার পদক্ষেপের পরিকল্পনাটি কোভিড-১৯ সম্পর্কে মিথ্যা বলার জন্য চীন সরকারকে জবাবদিহি আওতায় আনা; আমেরিকার অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য এবং জাতীয় সুরক্ষা রক্ষা করার বিষয়ে চীনা সরকারকে বাধ্য করা।’

এই পরিকল্পনায় ‘প্যাসিফিক ডিটারেন্স ইনিশিয়েটিভ’ তৈরি করতে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সামরিক বাহিনীর জন্য বরাদ্দের অনুরোধ সম্পর্কিত অনুমোদনের পরিকল্পনায় সাড়া দেয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে। এ পরিকল্পনায় আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে সামরিক সম্পর্ক জোরদার এবং ভারত, তাইওয়ান এবং ভিয়েতনামে সরঞ্জাম বিক্রয় সম্প্রসারণ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে জাপানকে তার সামরিক বাহিনী পুনর্গঠনের জন্য উৎসাহিত করতে এবং জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রমণাত্মক সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির বন্দোবস্ত করার কথাও এতে বলা হয়েছে।

পরিকল্পনায় আরো বলা হয়েছে, ‘চীন থেকে ব্যবসা আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং ক্রমশ চীনের উপর আমাদের সরবরাহ চেইনের নির্ভরতা দূর করতে হবে। চীনকে আমাদের প্রযুক্তি চুরি করা থেকে বিরত রাখতে হবে এবং আমেরিকান সংস্থাগুলোকে আমাদের প্রযুক্তিগত সুবিধা ফিরে পেতে উৎসাহ দিতে হবে। চীনা হ্যাকিং এবং নাশকতার বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা তার সহযোগীদের নেতৃত্বাধীন কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে সম্পূর্ণ তদন্তে সহযোগিতা করতে চীন যদি ব্যর্থ হয় তাহলে ‘কোভিড -১৯ জবাবদিহিতা আইন’ এর ক্ষমতা বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের উপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবেন।

সিনেটর ব্যাল্ডারসন বলেছেন, ‘চীন ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মহামারীটির ফলে অহেতুক জীবনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা যেত।’

‘চীন যখন এতো বেপরোয়াভাবে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য এবং অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রন করেছে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তা অন্যভাবে দেখতে পারে না। চীন ও তার কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বকে অবশ্যই এজন্য জবাবদিহি করতে হবে।’ বলে তিনি উল্লেখ্য করেছেন।

করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত ইস্যুতে চীনের কার্যকর ভূমিকা না রাখার জন্য সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপরে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ক্রমাগত চাপ বাড়ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

Page rendered in: 0.0740 seconds.